নেপিয়ারে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ডি/এল মেথডেই নির্ধারিত হলো বাংলাদেশের লক্ষ্য। সিরিজে সমতা ফেরাতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তাদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৬ ওভারে ১৭০ রান।
অবশ্য শুরুতে এই লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়েই ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। প্রথমে জানা গিয়েছিল ১৬ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৪৮ রান। কিন্তু পরে ম্যাচ রেফারির নির্দেশে নতুন করে জানানো হয় লক্ষ্য। ততক্ষণে অবশ্য ১.৩ ওভার বল মাঠে গড়িয়েছিল। এর পরেই নির্ধারিত হয় চূড়ান্ত লক্ষ্য।
শুরুতে যদিও ভালো বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গ্লেন ফিলিপসের ঝড়ো ব্যাটেই বড় সংগ্রহ পেয়েছে স্বাগতিকরা। বৃষ্টি হানার আগে ১৭.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড করে ১৭৩ রান।
নেপিয়ারে শুরুতে টস জেতে বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরে যাওয়ায় সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই। এর ওপর নেপিয়ারের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াও ভাবিয়েছে সফরকারীদের। তাই টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
প্রথম দিনে মনে হচ্ছিল ফিন অ্যালেন ও মার্টিন গাপটিল জুটিই সর্বনাশ ডেকে আনবে সফরকারীদের। তাদের ঝড়ো সূচনাতেই পাওয়ার প্লেতে ভালো রান পায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু পাওয়ার প্লের মাঝে তাদের বিদায় দিয়েছে সফরকারী বোলাররা।
সবচেয়ে বেশি ঝড়টা ছিল তাসকিনের চতুর্থ ওভারে। অ্যালেন ও গাপটিল একটি করে ছয় মারেন। একবার অবশ্য অ্যালেনকে জীবন দেন মাহমুদউল্লাহ। তাসকিনের বল উড়িয়ে মারলেও ক্যাচ নিতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে শেষ বলে কোনও ভুল করেননি নাসুম। তাসকিনের এই ওভারেই ১০ বলে ১৭ রানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অ্যালেন।
ষষ্ঠ ওভারে ফেরেন গাপটিলও। হাত খোলার চেষ্টায় ছিলেন কিউই ব্যাটসম্যান। কিন্তু সাউফউদ্দিনের বলে এক হাতেই তার অসাধারণ ক্যাচ নিয়েছেন তাসকিন। গাপটিল ফেরেন ২১ রানে। পরের ওভারের প্রথম বলে শরিফুলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তালুবন্দি হন কনওয়ে। কিউই ব্যাটসম্যান ফেরেন ৯ বলে ১৫ রানে। যেটি ছিল শরিফুলের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট। দ্রুত তিন উইকেট পড়ে যাওয়ায় শ্লথ হয়ে পড়েছিল রানের চাকা।
তবে বৃষ্টি হানার আগে কিছু শটস খেলে আবারও কিউইদের টেনে তোলার চেষ্টা করছিলেন ফিলিপস ও উইল ইয়ং। সেই ইয়ংকেই (১৪) অসাধারণ ঘূর্ণিতে সাজঘরে ফিরিয়েছেন মেহেদী। অবশ্য এর আগেও বাজে ফিল্ডিংয়ের উদাহরণ রেখেছিল সফরকারীরা।
১০.২ ওভারে নাসুমের ওভারে রান আউটের সুযোগ ছিল লিটন দাসের। কিন্তু কিপিংয়ে দাঁড়ানো লিটনের থ্রো লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বেঁচে যান নক স্ট্রাইকে থাকা ইয়ং! পরে অবশ্য সেই লিটনই স্পিনার মেহেদীর বলে স্টাম্পড করেন ইয়ংকে।
২০-২৫ মিনিটের মতো খেলা বন্ধ থাকার পর খেলা গড়ালে কিউইদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন মেহেদী। ১৪তম ওভারে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে চ্যাপম্যানকে (৭) বিদায় দেন এই অফস্পিনার। কিন্তু সেই চাপ কাটিয়ে শেষ দিকে বিধ্বংসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন গ্লেন ফিলিপস। সঙ্গ দেন ড্যারিল মিচেল। এই বিরতিকেই কাজে লাগায় স্বাগতিকরা। ৩৩ বলে তুলেছে ৭১ রান!
৩১ বলে ৫৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন ফিলিপস। ২৭ বলে পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। ১৬ বলে ৩৪ রানের মিনি ঝড় তুলেন মিচেল। ফিলিপসের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও দুটি ছয়। মিচেলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার।
বাংলাদেশের হয়ে ৪৫ রানে দুটি উইকেট মেহেদী হাসানের। একটি করে নিয়েছেন সাউফউদ্দিন, তাসকিন ও শরিফুল।









