বাংলাদেশ ক্রিকেটের সংস্কৃতিটাই এমন, হেরে যাওয়ার পর সেখান থেকে ইতিবাচক কিছু খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টে বাজে ভাবে হারার পরও অধিনায়ক মুমিনুল হক ইতিবাচক দিক খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। সোমবার ক্যান্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অসহায় আত্মসমর্পণ করার পরও তার ব্যতিক্রম হলো না।
ক্যান্ডির নিষ্প্রাণ উইকেটে প্রথম টেস্ট ড্র করলেও দ্বিতীয় টেস্টে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। স্পিন নির্ভর উইকেটে লঙ্কান তরুণ বাঁহাতি স্পিনার জয়াবিক্রমার সামনেই অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন তামিম-মুমিনুলরা। লঙ্কানদের প্রথম ইনিংসে করা ৪৯৩ রান দুই ইনিংস মিলেই করতে পারেনি সফরকারীরা। জয়তো দূরে থাক, ম্যাচ বাঁচাতেও টিকে থাকা লাগতো পাঁচ সেশন। কিন্তু বাংলাদেশ টিকতে পারেনি তিন সেশনও। ফলে ৭১ ওভার ব্যাট করে দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২২৭ রানে।
এর পরও প্রাপ্তির কমতি দেখছেন না অধিনায়ক মুমিনুল হক, ‘অবশ্যই প্রাপ্তির কিছু না কিছু আছে। আমি সিরিজ হেরেছি এর মানে এই না যে সব কিছু হেরে গিয়েছি। আমি জানি একটু সমালোচনা হবে, অনেকেই অনেক কথা বলবে। এর ভেতরেও অনেক ইতিবাচক দিক আছে আমার কাছে মনে হয়।’
প্রাপ্তিগুলোর দিকগুলো উল্লেখ করতে গিয়ে মুমিনুল বলেছেন, ‘আমি সব সময় দলগত পারফরম্যান্সের কথা বলতাম, প্রথম টেস্টে আমরা যেটা করতে পেরেছি। গত ২-১টি টেস্ট ম্যাচে আমরা সেই পারফরম্যান্স করতে পারিনি। আমার কাছে মনে হয়, প্রথম টেস্টে আমরা দল হিসেবে খেলতে পেরেছি। যদি দেখেন তামিম ভাইয়ের দুটি ৯০ আছে, একটা ৭০ আছে। শান্তর একটা ১৬৩ আছে, মুশফিক ভাই ও লিটনের হাফ সেঞ্চুরি আছে। তাইজুলের ৫ উইকেট আছে। এগুলোই তো প্রাপ্তি!’
এর পর পেসার তাসকিনের দারুণ বোলিংকেও প্রাপ্তির খাতায় যোগ করলেন মুমিনুল। এতে সন্দেহ নেই সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে গেছেন এই পেসার। যা সচরাচর দেখা যায় না বাংলাদেশের টেস্টে। এক কথায় স্পিন আক্রমণের সমান্তরালে এগিয়ে গেছে পেস বোলিং। সিরিজে তাসকিন ও তাইজুলের সমান ৮ উইকেট শিকারই তার প্রমাণ। তাই মুমিনুল প্রশংসা করলেন পেস বোলিংয়ের, ‘টেস্টে পেসাররা কেমন করে, আপনারা সেই অপেক্ষায় ছিলেন। সেই হিসেবে তাসকিনকে দেখেছেন। আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো, অনেক উন্নতি করেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয় অনেক ইতিবাচক দিক আছে এই টেস্ট সিরিজে।’









