সাকিব আল হাসান ফিরলেন, বাংলাদেশও জয়ে ফিরলো। ফের তিনি দলের বাইরে চলে যাওয়ায় হারের বৃত্তে আটকে গেলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার সিরিজ দিয়ে আবার ফিরছেন সাকিব, তাহলে ব্যর্থতার খোলস ভেঙে আবারও কি জয়ের পথে ফিরবে বাংলাদেশ?
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম ইকবালরা খেলবে তিন ওয়ানডে। যার প্রথমটি রবিবার দুপুর ১টায় শুরু হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে গাজী টেলিভিশন ও টি-স্পোর্টসে।
সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০ ম্যাচে জয়ের মুখ দেখে না বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের পর নিউজিল্যান্ডে দুই ফরম্যাটের ৬ ম্যাচ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্ট খেলেছে মুশফিক-তামিমরা। এর কোনোটিতেই জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারেনি। তাই তো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিতে হারের বৃত্ত ভাঙতে মুখিয়ে স্বাগতিকরা।
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ দল পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারছে। অধিনায়ক তামিম, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরছেন সাকিব ও মোস্তাফিজুর রহমান। নিউজিল্যান্ড সফরে ছিলেন না সাকিব, আর আইপিএল খেলার কারণে শ্রীলঙ্কার সফরে তার সঙ্গে যেতে পারেননি মোস্তাফিজ।
তারা ফেরায় দলে ফিরেছে ভারসাম্য। বাংলাদেশের স্পিন ও পেস আক্রমণে ধার বাড়ছে অনেকটা। আইপিএলে মোস্তাফিজ তার সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ওই ধারা অব্যহত থাকলে কঠিন পরিস্থিতে পড়তে হবে লঙ্কানদের। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে মাহমুদউল্লারও সম্পূর্ণ ফিট। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংও করতে পারছেন তিনি।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা দল বাংলাদেশে এসেছে তরুণ্যনির্ভর এক দল নিয়ে। তাদের নিয়মিত অনেক ক্রিকেটারই নেই এই সিরিজে। গত মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা ২০ সদস্যের দলের ৯ জনই অনুপস্থিত! সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতার দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে তারা। তবুও সফরকারীদের সমীহ করছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, ‘শ্রীলঙ্কার দুই-একজন বড় খেলোয়াড় এবার নেই। (দিনেশ) চান্ডিমাল নেই, (অ্যাঞ্জেলো) ম্যাথুজ নেই। তবে তাদের হাই কোয়ালিটি খেলোয়াড় আছে- কুশল পেরেরা ও কুশল মেন্ডিস। তরুণ দলটি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারে, যা আমাদের চাপের কারণ হতে পারে।’
তিন ফরম্যাটের মধ্যে বাংলাদেশ দল ওয়ানডেতে শক্তিশালী। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে একটি মাত্র ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে স্বাগতিকরা। সেটাও ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যানটা উজ্জ্বল নয়। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দুই দল ৪৮বার মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ৩৯ ম্যাচে জয় পেয়েছে লঙ্কানরা। অন্যদিকে মাত্র সাতবার জিতেছে বাংলাদেশ। বাকি ২ ম্যাচে ফল আসেনি। নিজেদের মাটিতে খেলেও শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারবার জয়ের মুখ দেখেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
রবিবার জয়ের সংখ্যা কি বাড়াতে বাংলাদেশ? ডমিঙ্গো জানালেন, পুরনো ভুলগুলো শুধরাতে পারলেই জয়ের ধারায় ফেরা সম্ভব, ‘আমাদের গত দুই মাসের ভুল থেকে শিখতে হবে। শুধু অতীতে চেয়ে থাকতে চাই না। সেখান থেকে শিখে তাকাতে চাই সামনে। যদি কাল (রবিবার) নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে জয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে আলোচনা। কেমন হবে মিরপুরের উইকেট? স্বভাবগতভাবেই মিরপুরের উইকেট স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। এখানে ব্যাটসম্যানদের সংগ্রাম করতে হয়। বল পিচ করে কিছুটা ধীরে আসে। রবিবারের ম্যাচেও কী এমন উইকেট দেখা যাবে- দুই দলেই চলছে বিস্তর আলোচনা। ম্যাচের আগের দিন দুই দলের অধিনায়ক-কোচ দফায় দফায় উইকেট দেখেছেন, হয়তো বোঝার চেষ্টা করেছেন কী আছে মিরপুরের ২২ গজে?
উইকেট কেমন হবে, সে ব্যাপারে কিছু না জানালেও তামিম প্রত্যাশিত উইকেটের কথাই বলেছেন, ‘উইকেট নিয়ে আমরা টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিয়েছি কিউরেটরকে। খুব স্পষ্ট বার্তাই দিয়েছি, উইকেটের দায়িত্বে যারা আছে। আশা করি, আমরা যেমন চাই, তেমন উইকেটই পাবো।’








