শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাসই ছিল না। এবারের মিশনে সেটি পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে এসেছে লঙ্কানদের প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার উপলক্ষ। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে কঠিন বাধা পেরোতে হবে তামিম ইকবালদের। কুশল পেরেরার সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করেছে ৬ উইকেটে ২৮৬ রান।
আজ (শুক্রবার) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৮৭ রান। অর্থাৎ, চলতি সিরিজে সর্বোচ্চ রান গড়তে হবে স্বাগতিকদের। এবারের সিরিজে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস প্রথম ম্যাচের ২৫৭ রান।
কুশল পেরেরা খেলেছেন ১২০ রানের অসাধারণ ইনিংস। আর সময়োপযোগী ব্যাট করেছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। চমৎকার ব্যাটিংয়ে অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। ৭০ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারিতে। আর অভিষিক্ত রমেশ মেন্ডিস ৬ বলে অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে।
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের চোটে একাদশে জায়গা পেয়ে নিজেকে চিনিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ৯ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। তাসকিনের ছাড়া উইকেট উদযাপন করেছেন কেবল শরিফুল ইসলাম। ৮ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। আগের দুই ম্যাচে আলো ছড়ানো মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। সাকিব আল হাসানও উইকেট পাননি। ১০ ওভারে খরচ করেছেন ৪৮ রান।
কুশল পেরেরার দুর্দান্ত ইনিংস
শ্রীলঙ্কার বড় স্কোর পাওয়ার পথে সামনে থেকে নেতৃ্ত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক কুশল পেরেরা। ক্রিকেটদেবতা দুহাত ভরে দিয়েছেন তাকে। তা নয়তো কী! ৯৯ রানে নিশ্চিত আউট থেকে বেঁচে গিয়ে পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ মিসে মাতলেন অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরির আনন্দে।
ভাগ্য বলতে হবে শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে অধিনায়কের। ৯৯ রানে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ মিসের আগে আরেকবার তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন আফিফ হোসেনের সৌজন্যে। অর্থাৎ, দুই জীবন নিয়ে বাঁহাতি ওপেনার পেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা। ৯৯ বলে শতক পূরণ করেন কুশল পেরেরা।
বাংলাদেশের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ক্যাচ মিস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে সেই ‘জুজু’ দেখা যায়নি ফিল্ডারদের মধ্যে। তবে তৃতীয় ওয়ানডেতে চলেছে ক্যাচ মিসের মহড়া। যার খেসারত দিতে হয়েছে কুশল পেরেরার ইনিংসে। ৭৯ রানেই থামতে পারতেন লঙ্কান অধিনায়ক। কিন্তু সাকিব আল হাসানের বল উড়িয়ে মারলেও মিড অনে ক্যাচ ছাড়েন আফিফ হোসেন।
এরপর ৯৯ রানে দ্বিতীয় জীবন কুশল পেরেরার। বল তালুতে নিয়েও জমাতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। মোস্তাফিজুর রহমানের স্লোয়ার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বুঝতেই পারেননি, বল তার ব্যাটে লেগে উঠে যায়। কিন্তু মিড অফে ক্যাচটি নিতে পারলেন না অভিজ্ঞ ফিল্ডার মাহমুদউল্লাহ। পরের বলেই শতক পূরণ করে নেন কুশল পেরেরা।
তবে শ্রীলঙ্কান অধিনায়কের ক্যাচ নিয়ে ‘শাপমোচন’ করেছেন মাহমুদউল্লাহ। শরিফুল ইসলামের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ফলে দুই দফা জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করা কুশল পেরেরা থেমেছেন ১২০ রানে। ১২২ বলের দুর্দান্ত ইনিংসটি তিনি সাজান ১১ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
মিরপুরে তাসকিন-শো
প্রথম ম্যাচ ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। দ্বিতীয় ম্যাচে সাইফউদ্দিনের চোট কপাল খুলে দিলেও তাসকিন আহমেদ যেন নিজের ছায়ায় বন্দি ছিলেন। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেও তার বোলিং ছিল এলোমেলো। তবে একটু সময় নিয়ে হতাশার বৃত্ত ভেঙে জ্বলে ওঠেন তাসকিন। শ্রীলঙ্কার হারানো প্রথম ৩ উইকেটের সবক’টি তার। পরে যোগ করেছেন আরেকটি উইকেট।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারকে থামানোই যাচ্ছিল না। আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে রান তুলছিলেন দ্রুত। অবশেষে সেই জুটি তাসকিন ভাঙলেন দানুশকা গুনাথিলাকাকে আউট করে। সেই উৎসব থামতে না থামতেই আবারও উইকেট শিকার তার। ওয়ান ডাউনে নামা পাথুম নিসানকাকেও প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছেন তাসকিন।
উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন কুশল পেরেরা ও গুনাথিলাকা। তাদের প্রতিরোধে চাপ তৈরি হয় বাংলাদেশ ক্যাম্পে। অতঃপর বোল্ড করে গুনাথিলাকাকে ফেরান তাসকিন। এই পেসারের বল লঙ্কান ওপেনারের ব্যাটে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। তার আগে ৩৩ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় করেন ৩৯ রান।
আগের ওভারে ক্যাচ মিসে জীবন পেয়েছেন কুশল পেরেরা। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের যখন হতাশা চেপে ধরেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আবার আনন্দ ছড়িয়ে দিলেন তাসকিন। একটু একটু করে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা কুশল মেন্ডিসকে আউট করেছেন মিড অফে তামিম ইকবালের হাতে সহজ ক্যাচ বানিয়ে। ফেরার আগে কুশল মেন্ডিস ৩৬ বলে ১ ছক্কায় করেছেন ২২ রান। শেষ দিকে ভানিন্দু হাসারাঙ্কাকে (১৮) মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে তাসকিন পান চতুর্থ উইকেট।








