দুষ্মন্থ চামিরার তোপে দিশেহারা বাংলাদেশ। প্রথম স্পেলে ৩ উইকেট পাওয়া এই পেসার ফিরেই এক ওভারে নিলেন ২ উইকেট। ফলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেটের দেখা পেলেন লঙ্কান পেসার। তার তোপে ৮ উইকেট হারিয়ে হার দেখছে বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে তরুণ ক্রিকেটাররা পেয়েছিলেন নিজেদের প্রমাণের আরেকটি সুযোগ। বিশেষ করে, আফিফ হোসেন। কিন্তু পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ভানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে ১৬ রান করে আউট হয়ে গেছেন তিনি। তার ১৭ বলের ইনিংসে নেই কোনও বাউন্ডারি।
আফিফের বিদায়ের পরের ওভারেই চামিরার জোড়া আঘাত। মেহেদী হাসান মিরাজকে (০) বিদায় করার এক বল পরই তিনি বোল্ড করে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদকে (০)। তাতে স্বাগতিকরা হারায় অষ্টম উইকেট।
ফলে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন ধূসর হয়ে গেছে বাংলাদেশের। স্কোর ৩৯ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬২ রান।
ফিফটি করেই ‘দায়িত্ব’ শেষ মোসাদ্দেকের!
তরুণ ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বারবার বলা হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটে সেই দায়িত্ব ফুটে উঠলো প্রবলভাবে। বিপদের সময় এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি করেই যেন মনে হলো ‘দায়িত্ব’ শেষ! কোথায় ইনিংসটা টেনে নিয়ে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাবেন, তা নয়, অপ্রয়োজনীয় রিভার্স সুইপে বিলিয়ে এলেন উইকেট।
সিনিয়র ক্রিকেটারের ব্যর্থতায় ৫১ রানের ইনিংস খেলেছেন, এজন্য তিনি বাহবা পেতে পারেন। কিন্তু সময়ের চাওয়া মিটিয়ে যিনি ক্রিজে মানিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে, তার এরকম দৃষ্টিকটু আউট কাঠগড়ায় তুলবে নিশ্চিতভাবে। প্রায় দুই বছর পর প্রথমবার হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়ে ইনিংস আরও লম্বা করতে পারলে নিজের যেমন উপহার হতো, তেমনি দলে রাখতে পারতেন আরও অবদান।
কিন্তু রমেশ মেন্ডিসের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বল-ব্যাটে ঠিকঠাক না হওয়ায় ৫১ রানে ফিরেছেন তিনি। ৭২ বলের ইনিংসটি মোসাদ্দেক সাজান ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
তার বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় পঞ্চম উইকেট। স্কোর ৩৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০ রান।
আজ আর পারলেন না মুশফিক
শ্রীলঙ্কাকে সামনে পেলেই জ্বলে ওঠেন মুশফিকুর রহিম। কতটা? চলমান সিরিজে চোখ দিন। প্রথম ম্যাচে ৮৪, দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৫। দুই ম্যাচে চরম বিপদের সময় বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। আজ (শুক্রবার) তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেও দলের প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে গিয়ে আশা জাগাচ্ছিলেন। কিন্তু হলো না এবার। আউট হয়ে গেছেন মুশফিক।
আরেকবার ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার। নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের বিদায়ের পর একটু একটু করে ইনিংস গড়ছিলেন মুশফিক। আগের দুই ম্যাচের মতোই সিঙ্গেলসে জোর দিয়ে নিজের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ধৈর্যের পরীক্ষায় হার মানলেন এবার। মুখোমুখি ৫৩ বলে ছিল না কোনও বাউন্ডারি, তবে ৫৪তম বলে এসে ‘লোভ’ সামলাতে পারলেন না মুশফিক। ডাউন দ্য উইকেটে এসে ‘বিগ শট’ খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়ে এলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
রমেশ মেন্ডিসের বলে লং অনে তিনি ধরা পড়েছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার হাতে। ফেরার আগে ৫৪ বলে করেছেন ২৮ রান। তার বিদায়ে চাপে থাকা বাংলাদেশ আরও চাপে পড়েছে।
মুশফিকের আউটে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। স্কোর ২৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৯০ রান।
থার্ড আম্পায়ার আউট দিলেন, তামিম মানতে পারলেন না
তামিম ইকবাল ভীষণ আত্মবিশ্বাসী, রিভিউ নিতেও সময় নিলেন না। আর আউটের সিদ্ধান্তে বারবার মাথা নাড়িয়ে বোঝালেন, তিনি ‘আউট নন’। কিন্তু থার্ড আম্পায়ারের কাছে যাওয়া সিদ্ধান্ত গেলো তামিমের ‘বিরুদ্ধে’। আউটের সিদ্ধান্ত মানতে পারলেন না বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। মাঠেই ক্ষোভ ঝারলেন তিনি।
দুষ্মন্থ চামিরার স্লোয়ার তামিমের ব্যাটে লেগে জমা পড়েছে উইকেটকিপার নিরোশান ডিকবেলার গ্লাভসে। ফিল্ড আম্পায়ার দিলেন আউট। তবে তামিম সঙ্গে সঙ্গে নিলেন রিভিউ। বেশ খানিক সময় দেখে টিভি আম্পায়ার দিলেন আউটের সংকেত। তামিম সিদ্ধান্তটা মানতে পারেননি। প্যাভিলিয়নে ফেরার পথে বারকয়েক ক্ষোভ ঝারতে দেখা গেছে তাকে। এমনকি ফিল্ড আম্পায়ারের কাছেও তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তামিমের ব্যাটে শব্দ হয়েছে, তবে সেটি বলে লাগার নাকি ব্যাট মাটিতে আঘাত করার, সেটি নিয়েই জন্ম নিয়েছে প্রশ্ন। ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আউটের আগে তামিম ২৯ বলে করেছেন ১৭ রান, যাতে ছিল ২ বাউন্ডারির মার।
বাংলাদেশ অধিনায়কের বিদায়ের পর স্কোর ছিল ১২ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৮ রান।
ব্যাটসম্যান সাকিবের দেখা নেই
তৃতীয় ওয়ানডের আগে মাহমুদউল্লাহ জোর গলায় বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত শেষ ম্যাচে রান পাবেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও আশায় ছিলেন ব্যাটসম্যান সাকিবের ঝলক দেখার। কিন্তু হলো না। ব্যাট হাতে আরেকটি ব্যর্থতার অধ্যায় যোগ হলো বাঁহাতি অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ারে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেও ব্যর্থ সাকিব। মাত্র ৪ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। শুরুতে ওপেনার নাঈম শেখ ফিরে যাওয়ায় তার কাছে দলের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে দলকে আরও বিপদে ছেড়ে আসেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। দুষ্মন্থ চামিরার শর্ট বলে পুল শট খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে সাকিব ধরা পড়েন রমেশ মেন্ডিসের হাতে।
ফলে ব্যাটসম্যান সাকিবের দেখা মিললো না গোটা সিরিজেই। প্রথম দুই ম্যাচে ১৫ ও ০ রানের পর শেষ ওয়ানডেতে বিদায় নিলেন ৪ রানে।
সাকিবের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় উইকেট। ২৮৭ রানের লক্ষ্যে ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৩ রান।
লিটনের ‘ভূত’ নাঈমের ঘাড়ে
ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন লিটন দাস। তাই তাকে বসিয়ে একাদশে সুযোগ দেওয়া হলো নাঈম শেখকে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামা এই ওপেনারের অবস্থাও একই। লিটনের ‘ভূত’ চেপে বসলো তার ঘাড়ে! তামিম ইকবালের সঙ্গী হয়ে ওপেনিংয়ে নেমে তরুণ এই ব্যাটসম্যানও ব্যর্থ।
মাত্র ১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন নাঈম। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে ১ রান করেছেন তিনি। দুষ্মন্থ চামিরার বল তার ব্যাট ছুঁয়ে গেলে স্লিপে দাঁড়ানো কুশল মেন্ডিস ক্যাচ নিতে ভুল করেননি। ফলে দলীয় ২ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার ২৮৬
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাসই ছিল না। এবারের মিশনে সেটি পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে এসেছে লঙ্কানদের প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার উপলক্ষ। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে কঠিন বাধা পেরোতে হবে তামিম ইকবালদের। কুশল পেরেরার সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করেছে ৬ উইকেটে ২৮৬ রান।
আজ (শুক্রবার) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৮৭ রান। অর্থাৎ, চলতি সিরিজে সর্বোচ্চ রান গড়তে হবে স্বাগতিকদের। এবারের সিরিজে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস প্রথম ম্যাচের ২৫৭ রান।
কুশল পেরেরা খেলেছেন ১২০ রানের অসাধারণ ইনিংস। আর সময়োপযোগী ব্যাট করেছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। চমৎকার ব্যাটিংয়ে অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। ৭০ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারিতে। আর অভিষিক্ত রমেশ মেন্ডিস ৬ বলে অপরাজিত ছিলেন ৮ রানে।
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের চোটে একাদশে জায়গা পেয়ে নিজেকে চিনিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ৯ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। তাসকিনের ছাড়া উইকেট উদযাপন করেছেন কেবল শরিফুল ইসলাম। ৮ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। আগের দুই ম্যাচে আলো ছড়ানো মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। সাকিব আল হাসানও উইকেট পাননি। ১০ ওভারে খরচ করেছেন ৪৮ রান।








