৬-২-৬-৬-৬-১। এটি রুবেল হোসেনের শেষ ওভারের বোলিং ফিগার! তার শেষ ওভারে কোনও ব্যাটসম্যান নন, তাণ্ডব চালিয়েছেন এক বিশেষজ্ঞ পেসার। প্রাইম দোলেশ্বরের পেস বোলার কামরুল ইসলাম রাব্বি বিকেএসপিতে ১২ বলে ৩৮ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে টি-টোয়েন্টির আমেজ দিয়েছেন ক্রিকেট ভক্তদের। শেষ বলে ৫ রান করতে পারলে ষোলকলা পূর্ণ হতো। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। প্রাইম ব্যাংকের কাছে ৩ রানে হারলেও রাব্বির ৩১৬.৬৬ স্ট্রাইকরেটে ১২ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ দিয়েছে ঠিকই।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আগে ব্যাট করে প্রাইম ব্যাংক নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। সেই রান তাড়া করতে নেমে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় লিগের প্রথম ম্যাচ হারতে হয় দোলেশ্বরকে। তাদের ৩ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে প্রাইম ব্যাংক।
লিগের শুরু থেকেই ধারাবাহিক ছন্দময় ক্রিকেট খেলছে দোলেশ্বর। কিন্তু ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে খেই হারালো তারা। ১৫২ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে টপ অর্ডার, মিডল অর্ডারের কেউই ভালো করতে পারেননি। ফলে নিশ্চিত হার চোখ রাঙাচ্ছিল শীর্ষে থাকা দোলেশ্বরকে। কিন্তু রুবেলের শেষ ওভারে রাব্বির ছক্কা-বৃষ্টিতে চিত্রনাট্যটা পাল্টে যেতে থাকে।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। প্রথম ৫ বলে ২৬ রান নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন রাব্বি। রুবেলের প্রথম বলটি মিডঅন দিয়ে সীমানা ছাড়া করেন তিনি। দ্বিতীয় বলে ডাবল নিয়ে তৃতীয় বলটিতে উইকেটের বরাবর আরেকটি ছক্কা মারেন। চতুর্থ ছক্কাটি আসে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে। পঞ্চম বলটি ফুলটস দিলে সুযোগটি কাজে লাগান রাব্বি। ক্রস ব্যাটে স্ট্রেইট বিশাল এক ছক্কায় ম্যাচ জমিয়ে তোলেন এই পেসার।
তখন দোলেশ্বরের জিততে হলে শেষ বলে করতে হবে ৫ রান। কিন্তু এবার আর পারলেন না রাব্বি। রুবেলের শেষ বলটি সজোরে মেরেও সীমানা পার করতে পারেননি। মিডঅফে একটি সিঙ্গেল নিতেই দোলেশ্বর হার নিশ্চিত হয়। রাব্বি ছাড়া মার্শাল আইয়ুবের ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান। এছাড়া ফজলে মাহমুদ ২১ ও শরিফুউল্লাহ ১৯ রানের ইনিংস খেলেছেন।
প্রাইম ব্যাংকের মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া রুবেল ও শরিফুল ইসলাম নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
এর আগে মোহাম্মদ মিঠুনের হাফসেঞ্চুরিতে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে প্রাইম ব্যাংক। মিঠুন ৫০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। এছাড়া অলক কাপালির ১৪ বলে ২৬, নাহিদুলের ১৮ বলে ২০ এবং এনামুলের ১৮ বলে ২৯ রান ভূমিকা রেখেছেন। ব্যর্থ হয়েছেন তামিম ইকবাল, এই রাউন্ডে ৮ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।
ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলার আগে বোলিংয়েও ভালো করেছেন রাব্বি। ৪ ওভারে ২২ রান খরচায় ২ উইকেট নেন এই পেসার।









