পারফরম্যান্সের বিচারে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। টেস্ট ক্রিকেটে তার সৌরভ যেন আরও বেশি ছড়ায়। তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে যখন চোট শঙ্কায় তার খেলা নিয়ে সংশয় জন্মেছিল, তখন দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছিল অনেক ক্রিকেটক্তরই। যদিও শঙ্কা কাটিয়ে ঠিকই মাঠে নেমেছেন এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না।
হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসে বেশিদূর যেতে পারেননি মুশফিক। মুমিনুল হকের সঙ্গে বড় জুটি গড়ায় ইঙ্গিত দিয়েও পারলেন না তিনি। ব্লেসিং মুজারাবানির তৃতীয় শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩০ বলে করেছেন ১১ রান।
তার বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। স্কোর ২৮.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১০৬ রান।
শান্তিতে লাঞ্চ করতে পারছেন না মুমিনুলরা
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল হক জোর গলায় বলে গিয়েছিলেন, টেস্টের প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি নেই। দেশে কুড়ি ওভারের টুর্নামেন্ট খেলে গিয়ে জিম্বাবুয়ের আলাদা কন্ডিশনে টেস্টে নামার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ককে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু মূল লড়াইয়ে দেখা মিললো অন্য দৃশ্যের। শুরুতে দুজনের বিদায়ের পর প্রথম সেশন শেষে সংখ্যাটা ৩ উইকেট। এই অবস্থায় কীভাবে শান্তিতে লাঞ্চ করতে পারবেন মুমিনুলরা?
হারারে টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৭০ রান। অপরাজিত থেকে প্রথম সেশন শেষ করেছেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান মুমিনুল (৩২*) ও মুশফিকুর রহিম (১*)। তাদের জুটিতে বড় আশা দেখছে বাংলাদেশ।
কিন্তু তার আগে সুবিধা করতে পারেননি টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান- সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলাম। শেষেরজন তবু প্রতিরোধ গড়েছিলেন, বাকি দুজন তো শুরুতেই ইতি টেনে এনেছেন ইনিংসের।
ভাঙলো সাদমানের প্রতিরোধ
প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাসেনি সাদমান ইসলামের। তবে মূল ম্যাচ, মানে একমাত্র টেস্টে চাপের মধ্যে আলোর ঝিলিক দেখা যাচ্ছিল তার ব্যাটে। দ্রুত ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে টেনে তোলার কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি মুমিনুল হকের সঙ্গে। যদিও সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠ ছেড়েছেন এই ওপেনার।
আউট হয়ে গেছেন সাদমান। রিচার্ড এনগারাভার প্রথম শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন ২৩ রান করে। জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি পেসারের ভেতরে ঢোকা বল তার ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে প্রথম স্লিপে থাকা ব্রেন্ডন টেলরের হাতে। সাদমান তার ৬৪ বলের ইনিংসটি সাজান ৪ বাউন্ডারিতে।
তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের স্কোর ২২ ওভারে ৩ উইকেটে ৭০ রান। ব্যাট করছিলেন মুমিনুল হক (৩২*) ও মুশফিকুর রহিম (১*)।
ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মুমিনুলরা
শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক মুমিনুল হক হাল ধরেছেন দলের। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। তাদের দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রান ৫০ ছাড়িয়েছে।
দ্রুত ২ উইকেট হারালেও জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলছেন মুমিনুল। সাদমান খেলছেন ঠাণ্ডা মাথায়। বাংলাদেশ অধিনায়কের দাপুটে ব্যাটিং ধীরে ধীরে চাপ কাটিয়ে শক্ত ভিতের ইঙ্গিত মিলছে।
মুমিনুল-সাদমান জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর ১৫ ওভারে ২ উইকেট ৫৫ রান।
শুরুতেই এলোমেলো বাংলাদেশ
বাই থেকে এলো ৪ রান। দুই ওপেনারের ব্যাট থেকে তখনও কোনও রান আসেনি। চলছিল প্রথম ওভারের খেলা। টেস্ট ম্যাচে এমন শুরুরই প্রত্যাশা। কিন্তু না, ইনিংসের পঞ্চম বলেই দৃশ্যপট এলোমেলো। সাইফ হাসানের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট। ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার ফিরে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত!
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়েকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি। এই পেসারের বলে রানের খাতা খোলার আগেই বোল্ড হয়ে গেছেন সাইফ। তামিম ইকবালবিহীন ওপেনিংয়ে হতাশায় শুরু বাংলাদেশের।
সাইফের বিদায়ের পর ওয়ান ডাউনে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে দলকে লাইনে ফেরাবেন কী, উল্টো নিজেই উইকেট বিলিয়ে দিলেন। ওই মুজারাবানির বলেই মাত্র ২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন শান্ত। স্বাগতিক পেসারের ডেলিভারি শান্তর ব্যাটের কানায় লেগে গেলে তৃতীয় স্লিপে তালুবন্দি করেন ডিয়োন মায়ার্স।
অর্থাৎ, শুরুতেই এলোমেলো বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর সিরিজের একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের স্কোর ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৯ রান।









