আসল কাজ বোলিং। ফিটনেস সমস্যা ও চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর থেকে সেই কাজটা দারুণভাবে করে যাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। জিম্বাবুয়ে সফরে বোলিং পরীক্ষায় নামার আগে এবার ব্যাটিংয়ে নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে রাখলেন এই পেসার। হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি হাজির হলেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হয়ে!
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দিনের শেষ বিকেলে মেহেদী হাসান মিরাজের বিদায়ের পর ছিলেন না আর কোনও বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। মাহমুদউল্লাহ থাকলেও সঙ্গী অভাবে তিনিও হয়তো স্কোর বেশিদূর নিতে পারবেন, এই ভাবনা ছিল দিন শেষে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ভাবনা পুরো পাল্টে দিলেন তাসকিন। অসাধারণ সব শটে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে তার কাভার ড্রাইভ এককথায় অসাধারণ। ইতিমধ্যে তাসকিন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস গড়েছেন। এতদিন লাল বলের ক্রিকেট তার সর্বোচ্চ ছিল ৩৩ রান, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই স্কোর ছাড়িয়ে পেয়েছেন ফিফটির দেখা। ৬৯ বলে হাফসেঞ্চুরি পেতে মেরেছেন ৮ বাউন্ডারি।
তার সঙ্গে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর বাড়িয়ে নিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। তাদের জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর ৪০০ ছাড়িয়েছে।
৩০০ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ
দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ওভারেই ৩০০ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের স্কোর। আগের দিন অপরাজিত থাকা দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও তাসকিন শুরু করেছেন দিনের খেলা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে প্রথম দিন অম্লমধুর কেটেছে বাংলাদেশের। টপ অর্ডারে ব্যর্থতার গল্প যেমন আছে, তেমনি আছে প্রাপ্তির আনন্দও। দারুণ ব্যাট করেছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। টেস্টে তিনি বরাবরই দুর্দান্ত। তবে বাড়তি পাওয়া হলো লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং। লম্বা সময় ফর্মহীনতার পর রানে ফিরেছেন লিটন, আর ১৬ মাস পর টেস্টে ফিরে নিজেকে চিনিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।
লিটনের প্রাপ্তির আনন্দ যেমন আছে, তেমনি আছে না পাওয়ার যন্ত্রণাও। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি এই উইকেটকিপার। ৯৫ রানে আউট হয়ে যান দিনের শেষ ভাগে। তবে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘ দিন পর লাল বলের ক্রিকেটে ফিরেই হাফসেঞ্চুরি পান তিনি।
তার সঙ্গে প্রথম দিন শেষ করেন তাসকিন আহমেদ। এই দুজনই শুরু করেছেন দ্বিতীয় দিন। তাদের ব্যাটে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের স্কোর ৮৭ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৬ রান।









