গত বছরের ঘটনা ভোলার কথা নয় মাহমুদউল্লাহর। ফেব্রুয়ারিতে তাকে বাদ দিয়েই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল বিসিবি। ভবিষ্যতের স্বার্থে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে বাদ দেওয়া হয় বলে নির্বাচকরা জানিয়েছিলেন। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথাতেও ছিল এমন সুর। ভাগ্যের পরিহাসে তামিম-মুশফিকের ইনজুরিতে হুট করে আবারও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তিনি! ভাগ্য পরিহাস করলেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিন্তু জবাবটা দিয়েছেন কড়াভাবে। এভাবে ফেরার পেছনের রহস্যটা জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।
দলের ক্লান্তিকালে ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি টেস্টে মোটেও ফেলনা নন। শুক্রবার তৃতীয় দিনের ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে প্রমাণের জন্য। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুশি যে দলে অবদান রাখতে পেরেছি। ইনিংসটা ভালো হয়েছে। দলের জন্য অবদান রাখা সবসময়ই আনন্দের, সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর গুঞ্জন ওঠে- টেস্ট থেকে বাদ পড়ছেন মাহমুদউল্লাহ! সেই গুঞ্জন সত্যিও হয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঠিক তার পরের একমাত্র টেস্টে বাদ পড়ে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লাল বলে উপেক্ষিত থেকেছেন। সেই তিনিই দীর্ঘ ১৬ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে বুঝিয়ে দিলেন- ফুরিয়ে যাননি। মাহমুদউল্লাহ জানালেন সব কিছুই আসলে পরিশ্রমের ফসল, ‘এতটা সহজ ছিল না পারফর্ম করা। কারণ গত প্রায় দেড় বছর লাল বলের ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম। এই সফরের আগেও প্রথমে স্কোয়াডে ছিলাম না, পরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারপর থেকে মনোযোগ ছিল সুযোগ পেলে যেন পারফর্ম করতে পারি।’
অবশ্য এই সাফল্য শুধু ব্যাটিংয়ের টেকনিক্যাল বিষয়গুলির জন্যই নয়, মানসিকতার লড়াইয়ে জয়ী হতে পারাটাও ভূমিকা রেখেছে, ‘অনেক দিন লাল বলে খেলিনি। চিন্তা করেছি, কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। বোলারদের নিয়ে চিন্তা করেছি কে, কখন কতটুকু সিমের সাহায্যে বল করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। সব মিলিয়ে মানসিক ভারসাম্য ভালো থাকার কারণে ব্যাটিং ভালো হয়েছে।’
গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাদ পড়ার পর সবমিলিয়ে সাদা পোশাকে ৫ টেস্টে তাকে বিবেচনায় আনেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। পাশাপাশি গত বছর লাল বলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও তাকে রাখেনি বিসিবি। সবমিলিয়ে অভিমানী মাহমুদউল্লাহ ড্রেসিংরুমেও আলাপ করেছিলেন টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়টি। শুক্রবার তৃতীয় দিন শেষে এমন একটি গুঞ্জনও উঠেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি এই অলরাউন্ডার!









