বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ক্যাচ প্র্যাকটিস করাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডারদের! প্রথম ৪ উইকেটের তিনজনই ফেরেন সহজ ক্যাচ দিয়ে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও সেই কাতারে। বোলার অ্যাশটন অ্যাগারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তার বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ১৪ ওভারে ৪ উইকেটে ৯১ রান।
বিশাল এক ছক্কা মারলেও মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেলসে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেটাই হয়তো কাল হলো! অ্যাগারের বল লেগ সাইডে ঠেলে নিতে চেয়েছিলেন রান। কিন্তু প্রত্যাশার বেশি বাউন্স পাওয়া বলটি তার ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায়। সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি বোলার অ্যাগারের।
আউট হওয়ার আগে মাহমুদউল্লাহ ১৪ বলে করেন ১৯ রান। তার ইনিংসে আছে এক ছক্কার মার।
ফিরে গেলেন সাকিব
সাকিব আল হাসানের কাছে প্রত্যাশা সবসময় বেশিই থাকে। শেষ টি-টোয়েন্টিতেও ছিল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের শুরুটাও ভালো হলো। কিন্তু টেনে নিতে পারলেন না ইনিংস। অ্যাডাম জাম্পার বলে আউট হয়ে গেছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সব ম্যাচেই ভালো শুরু পেয়েছেন সাকিব। যদিও কোনোটি বড় করতে পারেননি। শেষ ম্যাচেও একই অবস্থা। সিঙ্গেলসের ওপর ভর দিয়ে ইনিংস গড়তে মনোযোগী ছিলেন তিনি। তাই তার ১১ রানের ইনিংসে নেই কোনও বাউন্ডারি। মুখোমুখি ২০তম বলে সাকিব সাজঘরে ফেরেন জাম্পার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে।
বাজে শটে নাঈমের বিদায়
ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন নাঈম শেখ। কিন্তু বাজে শটে আবারও উইকেট বিলিয়ে এলেন নাঈম শেখ। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও একই ভুল করেছিলেন নাঈম। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ফিরেছিলেন। শেষ ম্যাচের ভুলটা আরও বড়। ড্যান ক্রিস্টিয়ানের লাফিয়ে ওঠা বল শুধু শুধু রিভার্স সুইপ করতে গেলেন। শট খেলার সময় হাত থেকে ব্যাট ফসকেও যায় এই ওপেনারের। পয়েন্টে দাঁড়ানো অ্যাশটন অ্যাগার ক্যাচ প্র্যাকটিস করেন।
ফেরার আগে নাঈম ২৩ বলে করে যান ২৩ রান। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মেরেছেন এক চারের সঙ্গে এক ছক্কা।
তারপরও ওপেনিংয়ে খারাপ করেননি মেহেদী
সৌম্য সরকার শেষ টি-টোয়েন্টির একাদশে থাকবে কিনা, এ নিয়ে সংশয় ছিল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জায়গা ধরে রাখলেও ওপেনিংয়ে তার ওপর আস্থা রাখেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তার জায়গায় নাঈম শেখের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন শেখ মেহেদী হাসান। তার স্কোর হয়তো আহামরি কিছু নয়, তারপরও অন্তত ওপেনিংয়ে ভালো শুরু তো পেয়েছে বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন মেহেদী। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মেহেদী ১২ বলে করেছেন ১৩ রান। মেরেছেন দুই বাউন্ডারি। তার বিদায়ের পর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৬ রান।
১৩ রান মোটেও ভালো পারফরম্যান্স নয়। তবে আগের চার টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে যে খারাপ অবস্থা গেছে, সেই তুলনায় প্রশংসার দাবিদার শেষ টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স। অ্যাশটন টার্নারের বলে অ্যাশটন অ্যাগারের হাতে সহজ ক্যাচ দেওয়ার আগে মেহেদী উদ্বোধনী জুটিতে নাঈমের সঙ্গে ৪.৩ ওভারে যোগ করে যান ৪৩ রান। যেখানে নাঈম-সৌম্য জুটি ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন
পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ আগের ম্যাচে হারায় অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। তবে শেষ ম্যাচটি জয়ে রাঙানোর সুযোগ স্বাগতিকদের সামনে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন। পেসার শরিফুল ইসলামকে বিশ্রাম দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। আর শামীম হোসেনের জায়গায় এসেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। তবে বাজে ফর্মের পরও জায়গা ধরে রেখেছেন সৌম্য সরকার।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশেও দুটি পরিবর্তন। ফিরেছেন অ্যাডাম জাম্পা ও নাথান এলিস। তাদের জায়গা করে দিতে বিশ্রামে গেছেন জশ হ্যাজেলউড ও অ্যান্ড্রু টাই।
বাংলাদেশ একাদশ: সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাথু ওয়েড (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), বেন ম্যাকডারমট, মিচেল মার্শ, মোয়েসেস হেনরিকস, অ্যালেক্স ক্যারি, অ্যাশটন টার্নার, ড্যান ক্রিস্টিয়ান, অ্যাশটন অ্যাগার, নাথান এলিস, মিচেল সুয়েপসন, অ্যাডাম জাম্পা।









