এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে আজ (শনিবার) সকালে মারা গেছেন আবাহনীর পরিচালক ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আহমেদ ফয়জুর রহমান। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। বাদ আসর গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে জানাজা শেষে মরহুমের লাশ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আবাহনীর ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফয়জুরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। আবাহনীর পাঠানো শোক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফয়জুরের মৃত্যুতে আবাহনীর পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা শোকার্ত। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে। ফয়জুরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনস্বরূপ আবাহনী ক্লাবে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মরহুমের আত্মার মারফেরাত কামনা করেছে।
কিডনি রোগসহ নানান জটিল রোগে ভুগছিলেন এই ক্রীড়া সংগঠক। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ফয়জুর। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তিনি করোনা পজিটিভও হয়েছিলেন। অবশ্য সেরেও উঠেছিলেন। তবে কিডনি রোগেই শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই নিবেদিত প্রাণ সংগঠক।
ক্রীড়াঙ্গনে খুবই পরিচিত মুখ ছিলেন ফয়জুর। বিশেষ করে, আবাহনী ক্লাব ও ক্রিকেটাঙ্গনে ছিল তার সরব পদচারণা। আবাহনী ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জড়িত ছিলেন। লিমিটেড হওয়ার আগে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। লিমিটেড হওয়ার পর প্রথম ১১ জন শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে তিনি অন্যতম। মৃত্যু অবধি আবাহনীর পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
আবাহনীর পরিচালক ও বিসিবির মিডিয়ার কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও তার মৃত্যুকে শোক প্রকাশ করেছেন, ‘আবাহনী ক্রীড়াচক্র থেকে আবাহনী লিমিটেড হওয়ার পথে যে ১১ জন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক সম্পৃক্ত ছিলেন, ফায়েজ ভাই হচ্ছেন তাদের একজন। তিনি আবাহনী ক্রীড়াচক্রের সাধারণ সম্পাদক এবং আশির দশকের শুরু থেকে প্রায় একযুগ আবাহনী ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন। এত দ্রুত তাকে হারালাম, ভাবতেই খারাপ লাগছে। ক্রীড়াঙ্গন এবং আমাদের আবাহনী ক্লাব তাকে সব সময় স্মরণ করবে।’









