জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে শুক্রবার দুপুর ৩টায়। বিসিবির ঘোষিত প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে নতুন মুখ শুভাগত হোম চৌধুরী, আবু হায়দার রনি ও নুরুল হাসান সোহান। রনি ও সোহান জাতীয় দলে একদম নতুন হলেও শুভাগত টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেছেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেরা কম্বিনেশন বের করতে জিম্বাবুয়ে সিরিজকেই বেছে নিচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। মাশরাফি ও হাথুরুসিংহের কথায় যা স্পষ্ট হয়েছে।
বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি বিপিএলে নিজের জাত চিনিয়েছেন। প্রত্যাশিত ভাবেই জিম্বাবুয়ে সিরিজে দলে আছেন তিনি। যদিও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করে নিজের প্রতিভা জানান দিয়েছিলেন বাঁহাতি এই পেসার।
ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আবু হায়দার রনির ভালো লাগা ছুঁয়ে গেছে বড় ভাইদের উপদেশে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমটাতে অন্যরকম এক ভালো লাগা কাজ করে। সবাই খুব মজা করে। মাঠের বাইরে এবং মাঠের ভেতরে সবাই আমাদের সাহায্য করে। সাকিব ভাই-তামিম ভাই-মুশফিক ভাই-মাশরাফি ভাই তারা কত বড় খেলোয়াড় তাদের সঙ্গে থাকতে পারাটা বিশাল ব্যাপার।’
অভিষেকের সুযোগ পেলে কিছু করবেন। তবে কি করবেন সেইসব গোপন রাখলেন আবু হায়দার রনি। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা আছে। তবে এটা এখন বলতে চাচ্ছি না। যদি অভিষেক হয় তখন সেটা মাঠেই দেখতে পারবেন। চেষ্টা করবো ভালো ক্রিকেট খেলার।’
অন্যদিকে ৬-৭ নাম্বারে দারুণ কার্যকরী ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। নুরুলকে মূলত ভাবা হচ্ছে ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ের জন্যই। অনেকদিন ধরেই এই জায়গাতে ভালো একজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান খুঁজছিল বাংলাদেশ। নির্বাচকরা আপাতত নুরুলকেই বেছে নিয়েছেন এই জায়গায়। নুরুল হাসান সোহানের সবচেয়ে কার্যকরী দিক হচ্ছে উইকেটে গিয়েই শট খেলতে পারেন মাঠের চারিদেকে। সেই সঙ্গে প্রচুর সিঙ্গেলও নিতে পারেন।
অভিষেকর অপেক্ষা থাকা নুরুল হাসান সোহানের মধ্যে অবশ্য কোনও রোমাঞ্চ কাজ করছে না। তিনি জানান, ‘আসলে উত্তেজনা কাজ করছে না। তবে নিজ শহরে অভিষেক হলে সেখানে যদি আমি আমার সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারি সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে। সবকিছুই পরিকল্পনামাফিক করছি। আশা করি সুযোগ পেলে পরিকল্পনাগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারবো।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘দলে নতুন সবাই আমাকে সাপোর্ট করছে। সবার কাছ থেকে নতুন অনেক কিছু শিখছি। এগুলো আমার সামনে খুব কাজে দেবে।’
বিশেষ কোনও পরিকল্পনা করেননি সোহান। আপাতত তিনি জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ে ‘পড়াশুনা’ করেছেন। পরিকল্পনা করে অনেকসময় কিছু হয় না বিধায় তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় করেই পরিকল্পনা করতেই বেশি মনোযোগী। এ প্রসঙ্গে সোহান বলেন, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে। অনেক সময় ম্যাচের পরিস্থিতি দ্রুত পরিকল্পনা নিতে বাধ্য করে। তাই আগে ভাগে কোনও পরিকল্পনা করে মাঠে নামতে চাই না।’
শুভাগত হোম বিপিএলে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। যদিও নিয়েছেন ৫টি উইকেট। ব্যাট হাতে ৯ ইনিংসে করেছেন ৯৪ রান। তবে উইকেটে গিয়েই শট খেলে দলে অবদান রেখেছেন কয়েকটি ম্যাচে। এজন্য বিশ্বকাপের আগে আরও একটি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন শুভাগত চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমার জন্যও এটা ভালো সুযোগ। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভালো করে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আশা করি এখানে ভালো করতে পারব।’
ব্যাট ও বল হাতে সমানভাবে অবদান রাখতে চান শুভাগত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অলরাউন্ডার হিসেবে যখন খেলছি, ব্যাটিং-বোলিং দুটিতেই অবদান রাখতে হবে। দলের চাওয়া অনুযায়ী যখন-যেখানে দরকার হয়, ব্যাট করতে হবে।’
/এমআর/








