প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাঁড়াতেই পারেনি নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য তাদের। অন্যদিকে বাংলাদেশ জয়ের ধারা ধরে রেখে সিরিজে আরও এগিয়ে যেতে চায়। সেই লক্ষ্যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামতে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। বিকাল ৪টার ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টেলিভিশন ও টি স্পোটর্স।
প্রথম ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও দেখা মিলতে পারে স্পিনিং উইকেটের। কিউইদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জিততে একই পরিকল্পনায় নামার সম্ভাবনা বেশি। যদিও বৃহস্পতিবার অনুশীলনের চেয়ে উইকেট নিয়েই বেশি গবেষণা করতে দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডকে। ম্যাচের আগের দিন তারা মিরপুরের ২২ গজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে। তাদের কাজে সহযোগিতা করেছেন প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাও।
প্রথম ম্যাচে ৬০ রানে অলআউট হওয়ার পরও কন্ডিশন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কিউইরা। দলটির বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেল যেমন বললেন, ‘আমরা প্রথম ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে ভালোই লেগেছে। আমরা কয়েকদিন ধরে অনুশীলন করছি। কিন্তু আপনি মাঠে না নামা পর্যন্ত কখনোই বুঝবেন না সেখানকার কন্ডিশন কেমন হবে। এখান থেকে দ্রুত শিখেই আমরা পরের ম্যাচে মানিয়ে নেবো। প্রথম ম্যাচের শিক্ষা থেকে আমরা আমাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি।’
প্রথম ম্যাচে কিউই ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার চেয়ে উইকেটে নিয়ে আলোচনাটা বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও বুধবারের ম্যাচের উইকেট ছিল কঠিন। এখানে বিদেশি দলগুলো তো বটেই, স্থানীয় ক্রিকেটাররাও ধাঁধায় থাকেন। সেখানে এমন কঠিন কন্ডিশনে অনভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ড খেই হারাবে, এটাই তো স্বাভাবিক!
যদি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান খারাপ উইকেটের বিষয়টি মানতে নারাজ, ‘উইকেট খারাপ হলে তা দুই দলের জন্যই ছিল। শুধু নিউজিল্যান্ডের জন্য খারাপ ছিল, তা না। আমাদের খেলোয়াড়রাও কষ্ট করে রান করেছে। উইকেট যেমনই হোক দুই দলের জন্যই তো সমান থাকছে।’
বাংলাদেশ দল অবশ্য এতকিছু নিয়ে ভাবছে না। তাদের ভাবনা কেবল জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন তেমনটাই জানালেন, ‘আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করি। তো এখন আমাদের সামনে যে উইকেট ওই কন্ডিশন অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করি। পরের ম্যাচে যদি পিচের চরিত্র বদল হয়, তবে সে অনুযায়ী আমরা বাউন্সার, স্লোয়ার, ইয়র্কার বা ওয়াইড ইয়র্কার- এসব দিকে যাবো। যেহেতু এখানে কাটারটা বেশি কার্যকরী, তাই এখন এটার চেষ্টা করছি। পরের ম্যাচগুলোয় যদি উইকেট পাল্টে যায়, তখন ব্যাক অব লেন্থে জোরে বল করার চেষ্টা করবো।’
কিউইদের জন্য সুখবর দলে ফিরতে পারেন ফিন অ্যালেন। তিনি ফিরলে টপ অর্ডারে ব্যাটিং শক্তি বাড়বে সফরকারীদের। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচের একাদশ নিয়েই মাঠে নামার সম্ভাবনা বাংলাদেশের।
এদিকে বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্টের (ব্যানক্যাট) প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ক্যান্সার যোদ্ধাদের উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে থেকে কাজ করছে ব্যানক্যাট। এবার তাদের কার্যক্রমকে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বিসিবি।








