টার্নিং উইকেট বানিয়ে কিউইদের বধ করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাগতিকরা ধরা পড়লো নিজেদের ফাঁদেই। নিউজিল্যান্ডের দুই স্পিনার এজাজ প্যাটেল ও কোল ম্যাকনকির ঘূর্ণিতে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭৬ রানে থেমে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। মুশফিকের ‘টেস্ট’ মেজাজে ব্যাটিংটা না হলে হয়তো সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় পড়তে হতো স্বাগতিকদের! কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ব্যাটসম্যানদের ‘অফফর্ম’ যে বাংলাদেশের শঙ্কাটা আরও বাড়িয়ে দিলো!
অথচ জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে বিশ্বকাপ মিশনে যেতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু হার সঙ্গী হওয়ায় আত্মবিশ্বাসে কি একটুও আঁচড় পড়েনি? পাশাপাশি কঠিন কন্ডিশনের দোহাই দিয়ে ব্যাটসম্যানদের রান খরাকে ‘সার্টিফাই’ করাটাও বিপদ ডেকে আনছে! আসলে কঠিন কন্ডিশনে খেলতে খেলতে ভালো উইকেটে শটস খেলার আত্মবিশ্বাসও যে হারিয়ে যেতে পারে, তার উজ্জ্বলতম উদাহরণ ছিল আজকের ম্যাচ।
এদিন ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগে স্বাগতিদের চেপে ধরে ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছে কিউইরা। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড সিরিজ; স্লো-টার্নিং উইকেট বানিয়ে জয় নিশ্চিত করতেই মরিয়া ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু সর্বশেষ ৮ ম্যাচের মধ্যে ৭ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেলেও সেখানে ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা ছিল সামান্যই। স্লো উইকেটে ম্যাচ জিততে গিয়ে ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ আগামী মাসেই ওমান-আরব আমিরাতে বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। সেখানে নিশ্চিতভাবেই স্পোটিং উইকেটে খেলতে হবে। ফলে স্লো উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া সাকিব-মুশফিকরা শটস খেলার সুযোগগুলো নিতে পারবেন কি না, তাতে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে! অন্তত আজকের ম্যাচ সেটি বলছে না।
টিম ম্যানেজমেন্ট গত কিছুদিন ধরেই বলে আসছে, ‘ভালো’ উইকেট পাচ্ছে না বলেই ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার চিত্রটি ফুটে উঠছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৬০ রানে অলআউট করেছিল। ওই উইকেটকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের চেয়েও কঠিন উইকেট হিসেবে তকমা দিয়েছিলেন সাকিব। রবিবার সেই একই উইকেটে তৃতীয় ম্যাচটি মাঠে গড়িয়েছে। সেই অর্থে সেখানে ছিল না কোন টার্ন। তাই ভালো উইকেট পেয়ে কিউই ব্যাটসম্যানরা সাবলীল ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে পারলেও নিজেদের কন্ডিশনে মাত্র ৭৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। এটি যে কেবল উইকেটের সমস্যা তা নয়, ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাসহীনতাকেই চোখে আঙুলে দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাত্র একজন ৫০ প্লাস রানের ইনিংস খেলতে পেরেছিলেন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ৫২ রানের ইনিংসের পর আফিফের ব্যাট থেকে এসেছিল ৩৭ রানের ইনিংস। পারফেক্ট টি-টোয়েন্টি ইনিংস বললে আফিফের ওই ইনিংসটিকেই সামনে আনতে হবে। বাকি ব্যাটসম্যানের কেউই সেটি পারেননি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ৫ ম্যাচে মাত্র তিন ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০- এর উপরে। ১২২ স্ট্রাইকরেটে সাকিব ছিলেন সবচেয় আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান! তখন কারণ বলা হয়েছিল, উইকেট ব্যাটসম্যানদের সহায়ক ছিল না।
এরই ধারাবাহিকতায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ধরনের উইকেট ব্যাটসম্যানরা পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দুটিতে জিতলেও কোন ব্যাটসম্যানের পারফেক্ট ইনিংস নেই। এর ওপর তৃতীয় ম্যাচের পিচটা তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়কও ছিল। কিন্তু তিন ম্যাচে সোহান-লিটন ছাড়া কারো স্ট্রাইক রেটই একশো ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। আবার তাদের স্ট্রাইক রেট ১০০ এর বেশি হলেও দু’জনের কেউই তিন ম্যাচে ৫০ ছাড়াতে পারেনি। এই অবস্থায় ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস তলানীতে পৌঁছা স্বাভাবিক। আর সেটি হলে বিশ্বকাপের ময়দানে অথৈ সাগরে পড়তে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।









