অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন নাসুম আহমেদ। চলতি বছরের মার্চে নিউজিল্যান্ডে কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে অভিষেক হয়েছিল নাসুমের। এরপর প্রতি সিরিজেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দলের সঙ্গী হয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের সব ম্যাচেই খেলেছেন। আর প্রায় প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে সফল হতে সাকিব আল হাসানকে নিয়েই পরিকল্পনা তার। ওমানে যাওয়ার আগে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলে গেছেন বিশ্বকাপ পরিকল্পনা ও নিজের লক্ষ্যের কথা।
বাংলা ট্রিবিউন: প্রথম বিশ্বকাপ, নিশ্চয় অনেক রোমাঞ্চিত?
নাসুম আহমেদ: হুম। অনেক বেশি রোমাঞ্চিত। তবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে ভালো খেলাটাই আমার আসল দায়িত্ব। তবে এতটুকু বলবো, দেশের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে খেলাটা আমার জন্য গর্বের।
বাংলা ট্রিবিউন: অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দারুণ সময় কেটেছে। বিশ্বকাপে এর প্রভাব আশা করছেন?
নাসুম: যেকোনও ভালো পারফরম্যান্সই আত্মবিশ্বাস দেয়। আমার ক্ষেত্রেও সেটি হবে। তবে ওখানে (ওমান) গিয়ে অনুশীলনের পরই আসলে বুঝতে পারবো কন্ডিশনের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারলাম। বাড়তি কিছু করতে হবে কিনা, সেটিও তখন বুঝতে পারবো। আমরা যে টানা জয়ের মধ্যে ছিলাম, এগুলো আমাদের ভেতরে অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে।
বাংলা ট্রিবিউন: আইপিএল কি দেখছেন? উইকেট সম্পর্কে কতটা ধারণা পেলেন?
নাসুম: খেলা দেখেছি। তবে টেলিভিশনে দেখা আর সামনে থেকে দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য। ওখানে গিয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর আমরা উইকেট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবো। তবে টিভিতে কোনও কোনও দিন মনে হয়েছে কিছুটা স্লো।
বাংলা ট্রিবিউন: দেশের মাটিতে টানা স্লো উইকেটে খেলার পর স্পোর্টিং উইকেটে খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?
নাসুম: একজন বোলার হিসেবে সব জায়গার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। আমাদের যেকোনও উইকেট ভালো করতে হবে। আশা করি, উইকেট আমাদের সমস্যায় ফেলতে পারবে না। আমরা আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো কিছুই করতে পারবো।
বাংলা ট্রিবিউন: সাকিব-মোস্তাফিজের আইপিএল অভিজ্ঞতা নিশ্চয় জানতে আগ্রহী?
নাসুম: অবশ্যই। অনেকদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কন্ডিশনে তারা খেলছে। ওদের খুব ভালো করেই ধারণা হয়েছে সেখানকার উইকেট সম্পর্কে। আমরা সবাই সাকিব ভাই, মোস্তাফিজের কাছ থেকে উইকেট সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবো। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ তো আছেই। সব মিলিয়ে আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামতে পারবো।
বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আপনারা?
নাসুম: অবশ্যই। ওমানে কয়েকদিন অনুশীলনের পর আমরা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবো। অবশ্যই ওখান থেকে আমরা উইকেট সম্পর্কে একটা ধারণা নিতে পারবো। সত্যি কথা বলতে, এই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেই আমরা আসলে বুঝতে পারবো, কীভাবে আমাদের বোলিং করতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
নাসুম: আমার পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, এটি যেন দলের উপকারে আসে। এই লক্ষ্য নিয়েই আসলে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবো। অধিনায়ক আমার কাছে যা চাইবে, আমি যেন সেটি করতে পারি। আর ব্যক্তিগত লক্ষ্য সবারই থাকে। আমারও আছে। সেটি প্রকাশ করা ঠিক হবে না। আমার মনের মধ্যেই আছে, থাকুক সেখানেই। আমি শুধু বলবো, আমি যখনই খেলবো, যতটুকুই পারফরম্যান্স করবো, দল যেন উপকৃত হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: সাকিবের সঙ্গে অন্যপ্রান্তে আপনার বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন। বিশ্বকাপ ঘিরে কী ধরনের পরিকল্পনা আপনার?
নাসুম: সাকিব ভাই আর আমি যদি একসঙ্গে খেলার সুযোগ পাই, সেটি হবে আমার জন্য দারুণ ব্যাপার। আমরা যদি দুজন একসঙ্গে খেলি, প্রতিপক্ষ আমাদের মধ্যে যেকোনও একজনকে নিয়ে পরিকল্পনা করবে। বেশিরভাগ সময় সাকিব ভাইকে নিয়েই তাদের মাথাব্যথা থাকে। শেষ সিরিজগুলোতে দেখেন সাকিব ভাই খেলেছে, কিন্তু উইকেট আমি পেয়ে গেছি। সাকিব ভাই তো বিশ্বের এক নম্বর স্পিনার। তাকে পরিকল্পনা করে খেলতে গিয়েই আমাকে উইকেট দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। আমরা দুজন যদি খেলি, এটা আমার জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট।
বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে কি আপনার সাফল্যের নেপথ্যে সাকিব আল হাসান?
নাসুম: অনেকটা তেমনই। শেষ দুটি সিরিজে সাকিব ভাইয়ের কারণেই উইকেট পেয়েছি। কারণ উনাকে নিয়ে পরিকল্পনা করতে গিয়ে আমাকে নিয়ে ভাবেনি। এই সুযোগটাই আমি নিতে পেরেছি। বিশ্বকাপেও এমন কিছু হলে আমার জন্য সুবিধা হবে। আমি একাদশে থাকবো কিনা, সেটি আমি বলতে পারবো না। যদি খেলার সুযোগ হয় তাহলে এতটুকু বলতে পারি আমার ওপর চড়াও হলে আমি নিশ্চিতভাবেই উইকেট পাবো। শেষ সিরিজে সেটিই হয়েছে। আর আমাকে সমীহ করে খেললে হয়তো উইকেট পাবো না, কিন্তু রান আটকে রাখতে পারবো। এতটুকু আত্মবিশ্বাস আমার মধ্যে এসেছে।
বাংলা ট্রিবিউন: সাকিব আর কীভাবে আপনাকে সাহায্য করেন?
নাসুম: সাকিব ভাইয়ের কথা বলে লাভ নেই, অনেক কথা। উনি কিন্তু মাঠের বাইরে কথা বলবেন না। কিন্তু মাঠে আমাদের সঙ্গে প্রচুর কথা বলবেন। মাঠে তার দেওয়া দুই-একটা পরামর্শতেই আমরা জ্বলে উঠতে পারি। উনি বরাবরই আমাদের জন্য স্পেশাল। যেকোনও পরিস্থিতিতে উনি মাঠে সরব থাকবেন। আমরা কোনও ভুল করলে এসে দ্রুত ধরিয়ে দেন।
বাংলা ট্রিবিউন: শেখ মেহেদী হাসান আপনার ভালো বন্ধু। দুজন একসঙ্গে বোলিং করাটা কতটা উপভোগ করেছেন?
নাসুম: মেহেদীর সঙ্গে আমার সারাক্ষণ বোলিং নিয়ে কথা হয়। মাঠের যেখানেই থাকি আমাদের কথা হতেই থাকে। প্রথম ওভার আমি করলে ওর হাতে ক্যাপ দেই, ও করলে আমার হাত ক্যাপ দেয়। মাঠের যে প্রান্তেই থাকি, আমাদের মধ্যে অদল-বদল হবেই। ওর সঙ্গে সারাক্ষণ থাকার ফলে আমাদের ক্রিকেট নিয়ে প্রচুর কথা হয়।









