বাংলাদেশের ‘কোরে অ্যান্ডারসন’ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেট শুরু করা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ‘পারফেক্ট’ অলরাউন্ডার এখনও হতে পারেননি। বোলিংয়ে ভালো করলেও ব্যাটিংটা ঠিকঠাক হচ্ছে না। যদিও লেট অর্ডারে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বটা ভিন্ন থাকে বলে একটা কারণ হতে পারে। যদিও কোনও আক্ষেপ নেই তাতে। দলের চাহিদাই তার কাছে সবার আগে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ওমানে উড়ে গেছেন ফেনী থেকে উঠে আসা এই তরুণ। যাওয়ার আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে গেছেন তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে-
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে যাচ্ছেন, কতটা রোমাঞ্চিত?
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন: বিশ্বমঞ্চে খেলার অনুভূতি সবসময়ই বিশেষ কিছু। আমার জন্য সেটি স্পেশাল। ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেললেও এবার প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবো। অবশ্যই চাই নিজের প্রথম (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপটা মনে রাখার মতো করতে। এজন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন করছি। নিজের সেরাটা বের করে আনতে পরিশ্রম করছি। কন্ডিশন মাথায় রেখে বোলিং অনুশীলন করছি। দেখা যাক কী হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: দলে আপনার দায়িত্ব ব্যাটিং-বোলিং। দুই দায়িত্বের কারণে কোনও চাপ অনুভব হয় কি?
সাইফউদ্দিন: ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এটা চাপ মনে হতো। কিন্তু অনেকদিন তো খেলে ফেললাম, এখন আর চাপ মনে হয় না। বরং আমি খুব উপভোগ করি। আমার বোলিংটা খারাপ হলে চেষ্টা থাকে ব্যাটিং দিয়ে পুষিয়ে দেওয়ার। আবার ব্যাটিং খারাপ হলে বোলিং দিয়ে পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। যেদিন দুইটাই খারাপ হবে, পরের ম্যাচে চেষ্টা থাকে দুটোই যেন ভালো হয়। সব মিলিয়ে আমি ইতিবাচকভাবেই বিষয়টিকে নিই। আমি মনে করি, দুটি রোল থাকায়, দলে অবদান রাখার ক্ষেত্রে আমার জন্য এটি দারুণ সুযোগ।
বাংলা ট্রিবিউন: মিরপুরের স্লো টার্নিং উইকেটে বোলারদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। ওমান কিংবা আরব আমিরাতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে?
সাইফউদ্দিন: নিশ্চয় আইপিএলের খেলাগুলো দেখছেন। ওখানে মিডিয়াম পেসাররা খুব ভালো করছে। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা সাফল্য পাচ্ছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। উনি তো আমাদেরও অ্যানালিস্ট। তার থেকে আইডিয়া নিয়ে আমার মতো করে অনুশীলন করছি। সফল হবো কী হবো না, সেটি নিয়ে ভাবছি না। আমি আমার মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে যেহেতু আরব আমিরাতে খেলা হবে, পুরোপুরি মিরপুরের মতো উইকেট না হলেও কাছকাছি মানের উইকেটের দেখা পাবো বলে মনে হয়।
বাংলা ট্রিবিউন: আইপিএল বোলারদের দেখে নিজের বোলিংয়ের সঙ্গে মেলাচ্ছেন কি?
সাইফউদ্দিন: খুব বেশি ম্যাচ দেখার সুযোগ হয় না। যখন সময় পাই দেখি। বোলারদের ভালো এবং খারাপ বলগুলো দেখে নিজের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করি। বিশেষ করে, খারাপ বলটার ক্ষেত্রে ভাবি, এই লেন্থে মার খেয়েছে, তাহলে আমাকে লেন্থ পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু ভিন্ন কিছু করতে হবে। যারা জোরে বল করছে তাদের কথা আমি বলছি না, তাদের বোলিংয়ের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু যারা স্লো মিডিয়াম পেসার, তাদের বোলিং দেখে আমি নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলি। ভাবি, আমি কীভাবে করলে সফল হতাম। এছাড়া আইপিএলের সফল মিডিয়াম পেসারদের ভিডিও ক্লিপস দেখেও প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বাংলা ট্রিবিউন: স্লো উইকেটেই আপনি বেশি সফল, কিন্তু বিশ্বকাপের উইকেট হবে স্পোর্টিং। আপনার নিশ্চয় বিশেষ কোনও পরিকল্পনা আছে...
সাইফউদ্দিন: অতীতে আমি কী করেছি, সেগুলো খুব একটা ভাবি না। সেসব ভুলে যাওয়াই ভালো। প্রত্যেক ম্যাচই নতুন। সেইসব নতুন ম্যাচে আমি কীভাবে ভালো করবো, কী করলে আমার বলে ব্যাটসম্যানরা বিভ্রান্ত হবেন, সেগুলোই আমার ভাবনা। আমি ইতিবাচক ভাবনা ভেবেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করি।
বাংলা ট্রিবিউন: ভিন্ন কন্ডিশনে আপনার পরিকল্পনা তাহলে কী?
সাইফউদ্দিন: পেস বোলার হিসেবে আমাকে সব কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। পরের ম্যাচে যদি পিচের চরিত্র বদল হয়, তাহলে সে অনুযায়ী বাউন্সার, স্লোয়ার, ইয়র্কার বা ওয়াইড ইয়র্কার দেওয়ার চেষ্টা করবো। যেহেতু মিরপুরে কাটারটা বেশি কার্যকর ছিল, তাই ওটার চেষ্টাই বেশি করেছি। আশা করি, দুই সপ্তাহ অনুশীলনের মাধ্যমে আমি পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পারবো।
বাংলা ট্রিবিউন: বোলিংয়ে নতুনত্ব কিছু আনার চেষ্টা করেছেন?
সাইফউদ্দিন: বাড়তি কিছু ওভাবে চেষ্টা করিনি। আগের অস্ত্রগুলো আরও ধারালো করার চেষ্টা করেছি। নতুন করে কিছু শিখতে গেলো পুরনো বিষয়গুলোতে প্রভাব পড়তে পারে। যার কারণে বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন কিছু খেলার চেষ্টা করিনি।
বাংলা ট্রিবিউন: এবার আসা যাক ব্যাটিংয়ের দিকে। আপনি কি নিজের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্ট?
সাইফউদ্দিন: আরও অনেক ভালো করা যায়। সত্যি কথা বলতে এখনও ব্যাটিংয়ে আমি কিছুই করতে পারিনি। আগেই বললাম, দলের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করবো। যেহেতু আমি নিচের দিকে ব্যাটিং করি, সেখানে খুব বেশি বল খেলার সুযোগ নেই। যতটুকু সুযোগ পাবো, সেটি ভালোভাবে কাজে লাগনোর চেষ্টা করবো।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
সাইফউদ্দিন: লক্ষ্য বলতে স্পেসিফিক কোনও সংখ্যা ঠিক করিনি। যে এত রান কিংবা এত উইকেট নিতে হবে। ভালো করার চেষ্টা অবশ্যই থাকবে। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আমার দায়িত্বটা থাকে পাওয়ার হিটিংয়ে দলের স্কোর কিছু বাড়িয়ে নেওয়া। ওই চেষ্টাই থাকবে বিশ্বকাপে। এই চেষ্টা করতে গিয়ে দেখা যাবে ২ বলে আমার রান ৭। সেটা করতে পারলে আমি আমাকে সফল মনে করবো। আবার বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও উইকেট পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেহেতু টি-টোয়েন্টি খেলা, ব্যাটসম্যানদের রান করতে না দেওয়াটাও জরুরি।
বাংলা ট্রিবিউন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য আসলে কতদূর?
সাইফউদ্দিন: টি-টোয়েন্টি এমন একটি খেলা, মোমেন্টাম যেদিন যার ভালো থাকবে সে জিতবে। কারণ কখনও কখনও এক ওভারের মধ্যেই ম্যাচের পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। ভালো করা কিংবা খারাপ করা আগে থেকে বলা কঠিন। যেদিন যার দিন হবে, সে জিতবে। তবে আমাদের কাজটা হবে প্রসেস ঠিক রেখে খেলা। প্রতিটি ম্যাচই আমরা জয়ের জন্য মাঠে নামবো। সেই সামর্থ্য আমাদের আছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলেই জেতা সম্ভব হবে।









