দৌড়ালেন, কিন্তু হঠাৎই যেন থেমে গেলেন! যার খেসারত দিতে হলো সাকিব আল হাসানকে। রান আউট হয়ে ফিরে গেছেন তিনি। নাঈম শেখের সঙ্গে জুটিটা দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলেন, কিন্তু রান আউটে কাটা পড়লেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
২১ রানে পড়লো ২ উইকেট। আশঙ্কার মেঘ জমাট বাঁধতে সময় নিলো না। ওদিকে নাঈম হাসান বারবার যেভাবে আউটের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছিলেন, তাতে শঙ্কা কাটছিলই না। তবে একটু একটু করে ঠিকই পথে ফেরে বাংলাদেশ। নাঈমের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের জুটিতে ছুটতে থাকে বাংলাদেশের রানের চাকা। কিন্তু রান ১০০ পেরোতেই আউট সাকিব।
ইয়র্কার লেন্থের বল থেকে সিঙ্গেলস নিতে সাকিব দৌড়ালেন। কিন্তু ফিল্ডার ফায়াজ বাটের সরসারি থ্রো আঘাত করে স্টাম্পে। সেসময় সাকিব ক্রিজ থেকে অনেক দূরে। দুঃখজনক রান আউটে ফিরতে হয় তাকে। আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে বাঁহাতি ব্যাটার খেলেন ৪২ রানের ইনিংস।
সাকিবের বিদায়ে বাংলাদেশ হারায় তৃতীয় উইকেট। স্কোর ১৪ ওভারে ১০৪ ছাড়ায় বাংলাদেশ।
‘প্রমোশন’ পেয়ে খালি হাতে ফিরলেন মেহেদী
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, প্রয়োজনে ব্যাটিং অর্ডার পাল্টানো উচিত। তো বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুতেই ব্যাটিং অর্ডার পাল্টে ফেললো! লিটন দাসের বিদায়ের পর ওয়ান ডাউনে নামিয়ে দেওয়া হলো শেখ মেহেদী হাসানকে। কিন্তু ‘প্রমোশন’ পেয়ে পারফরম্যান্সে ‘ডিমোশন’ হলো তার!
ওমানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে রানের খাতায় খুলতে পারেননি মেহেদী। ৪ বলে খেলে ফায়াজ বাটের অসাধারণ রিটার্ন ক্যাচের শিকার ডানহাতি ব্যাটার। স্ট্রেইট ড্রাইভ করেছিলেন মেহেদী। বলে বেশ জোরও ছিল। কিন্তু ফায়াজ লাফিয়ে বল তালুবন্দি করেন।
লিটনের ‘দ্বিতীয় জীবন’ টিকলো মোটে এক বল
খেলাধুলায় প্রতিভা যেমন দরকার, তেমনি ভাগ্যও লাগে। ওমানের বিপক্ষে আজ (মঙ্গলবার) মনে হচ্ছিল, ভাগ্যটা সঙ্গে পাচ্ছেন লিটন দাস। রিভিউ নিয়ে একবার বাঁচলেন, তারপর ওমানের ফিল্ডারের সৌজন্যে পেলেন ‘দ্বিতীয় জীবন’। যদিও লিটনের সেই ‘জীবন’ টিকলো মাত্র এক বল!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাঁচা-মরার ম্যাচে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন লিটন। ৭ বলে ৬ রান করে তার ফেরায় বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট।
মুখোমুখি প্রথম বলেই আউটের সিদ্ধান্ত দেখতে হয়েছিল লিটনকে। কলিমউল্লাহর বল উইকেটকিপার নাদিম খুশির গ্লাভসে গেলে আম্পায়ার দেন আউট। যদিও রিভিউ নিতে দেরি করেননি লিটন। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্যাট-বলে কোনও সংযোগ হয়নি। রিভিউয়ের সৌজন্যে বেঁচে যান লিটন।
পরের ওভারেই আবার বিপদে পড়তে যাচ্ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। বিলাল খানের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে উড়িয়ে মেরেছিলেন। কাশ্যপ প্রজাপতি বেশ খানিকটা দৌড়ে এসে বল হাতে নিলেও জমাতে পারেননি। ‘দ্বিতীয় জীবন’ পেয়ে যান লিটন। কিন্তু পরের বলেই আউট! বিলালের ইয়র্কার লেন্থের বলে জোড়ালো আবেদন উঠলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। তবে ওমান রিভিউ নিলে আউট লিটন।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাঁচা-মরার ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ওমানের বিপক্ষে একাদশে ফিরেছেন নাঈম শেখ। বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ভালো খেলেছিলেন সৌম্য। অন্যদিকে রান পাননি নাঈম। সেই কারণেই হয়তো স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌম্যকে ওপেনিংয়ে সুযোগ দিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছিল নাঈমকে। কিন্তু সৌম্য পুরোপুরি ব্যর্থ। তাই ওমানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সৌম্যকে বাদ দিয়ে ফেরানো হয়েছে নাঈমকে।
ওমানে অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক রাউন্ড সহজেই টপকে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ব্যাটারদের দীনতায় সেই পথটা এখন দুর্গম! নাহলে ওমানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল সুপার-১২ নিশ্চিতের! সেটিতো হয়নি, উল্টো এই ম্যাচটি জিতলেও শঙ্কা থেকে যাচ্ছে পরের রাউন্ডে যাওয়া নিয়ে। কেননা পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলে, ওমানের বিপক্ষে স্কটল্যান্ড হারলে আর পাপুয়া নিউগিনি সব ম্যাচ হেরে গেলে তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান। সেক্ষেত্রে নেট রান রেটে এগিয়ে থেকেই কোয়ালিফাই করতে হবে বাংলাদেশকে। জটিল সব সমীকরণ যখন মাথায়, তখন স্বাভাবিক খেলাটা খেলাও বেশ কঠিন।
বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান।
ওমান একাদশ: আকিব ইলিয়াস, যতীন্দর সিং, কাশ্যপ প্রজাপতি, জিসান মাকসুদ, মোহাম্মদ নাদিম, আয়ান খান, সন্দীপ গৌদ, নাসিম খুশি, কলিমউল্লাহ, ফায়াজ বাট, বিলাল খান।









