আইসিসির যে কোন ইভেন্ট-ই হোক না কেন, সেখানে বাংলাদেশের কাণ্ডারি হয়ে দেখা দেবেন সাকিব আল হাসান। সর্বশেষ ওমান ম্যাচের পর এটা এখন আরও সুপ্রতিষ্ঠিত।
ওমানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যই দলকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। ৪২ রান ও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ‘প্রতিষ্ঠিত’ ব্যাপারটা এজন্যই বলা হচ্ছে, আইসিসির আগের ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশের সর্বশেষ চারটি জয়েই ছিল সাকিবের ম্যাচসেরা অবদান! সবকটিতেই ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।
অবশ্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বিগত বেশ কিছুদিন থেকে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছিলেন না। গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেট ছিল তার বলার মতো পারফরম্যান্স। বোলিং কিছুটা ভালো হলেও ব্যাটিংটা পারফেক্ট হচ্ছিল না। বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কোন ম্যাচে। এমনকি স্পোর্টিং উইকেটে আইপিএলে নিজের খোলস ছেড়েও বেরিয়ে আসতে পারেননি।
অবশেষে দেশের জার্সিতে বাঁচা-মরার ম্যাচে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। জিতলে টিকে থাকবে বিশ্বকাপ স্বপ্ন, না হলে বিদায়- এমন ম্যাচেই ত্রাতার ভূমিকাতে দেখা দিয়েছেন। ব্যাটে-বলে আলো ছড়িয়ে দলকে এনে দিয়েছেন দারুণ এক জয়। এই জয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠলো তার হাতে।
ওমানের বিপক্ষে চাপে পড়ে যাওয়ার পর দলকে পথ দেখানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সাকিব। নাঈম শেখের সঙ্গে গড়েন ৮০ রানের জুটি। রান আউট হয়ে ফেরার আগে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে ২৯ বলে ৬টি চারে সাকিব করেন ৪২ রান। বোলিংয়ে নেমেও দারুণ অবদান রাখেন এই অলরাউন্ডার। ৪ ওভারে ২৮ রান খরচ করে তুলে নেন ৩ উইকেট। এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই তার হাতে উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আইসিসি ইভেন্টে সাকিব প্রথম ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে ব্যাট হাতে ১১৪ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন। বল হাতে উইকেট না পেলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ৩ বছর পর ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের তিন ম্যাচেও হয়েছেন ম্যাচসেরা। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৫ রান ও ১ উইকেট নিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২৪ রানের অপরাজিত ইনিংস ও ২ উইকেট নিয়ে এক ইভেন্টে দ্বিতীয়বার ম্যাচসেরা হন তিনি। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫১ রান ও ২৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তৃতীয় ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। আগের ধারাবাহিকতায় এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের জয়ের কারিগর সাকিব।









