বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন নিকোলাস পুরান। তার ঝড়ো ব্যাটেই দ্রুত রান উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। অবশেষে তাকে ফেরালেন শরিফুল ইসলাম। শুধু তাকে নয়, রোস্টন চেজকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন তিনি। সেটা না হলেও বাঁহাতি পেসারের জোড়া আঘাতে আবার চেপে ধরে ক্যারিবিয়ানদের।
আজ (শুক্রবার) শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবিয়ানদের স্কোর ১৯ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৩ রান।
পোলার্ড স্বেচ্ছায় ফেরায় পর রাসেল রান আউট
গর্জে উঠেছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এমনিতেই সুবিধা করতে দিচ্ছিল না। এর মধ্যে রিটায়ার্ড আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান কাইরন পোলার্ড। ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের স্বেচ্ছায় মাঠ ছাড়ার পর আরও বড় ধাক্কা। তাসকিন আহমেদের রান আউটের শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে আদ্রে রাসেলকে।
শুরু থেকেই ভুগছিলেন পোলার্ড। ব্যাটে বলে ঠিকঠাক হচ্ছিল না। কঠিন সংগ্রাম করে ১৬ বলে করতে পারেন ৮ রান। সেই কারণেই কিনা স্বেচ্ছায় মাঠ ছেড়ে গেলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক! কারণ আঘাত পাওয়া কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি।
তার উঠে যাওয়ার পর মাঠে এসেই আউট রাসেল। ডানহাতি ব্যাটার কোনও বল খেলার সুযোগই পাননি। তাসকিনের বলে স্টেট ড্রাইভ করেছিলেন রোস্টন চেজ। বল তাসকিনের পায়ে লেগে সরাসরি আঘাত করে স্টাম্পে। ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা রাসেল ক্রিজের বাইরে থাকায় দুঃখজনক রান আউট।
ক্যাচ মিসের পরই মেহেদীর উইকেট
নিজের বলে সহজ ক্যাচটা ছাড়লেন শেখ মেহেদী হাসান। রোস্টন চেজের রিটার্ন ক্যাচ হাত ফসকে যাওয়ার শাপমোচন করতে সময় লাগলো না অবশ্য। ঠিক পরের বলেই ফেরালেন শিমরন হেটমায়ারকে। সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আনন্দে মাতলেন মেহেদী।
১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে এমনিতেই চাপে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংস মেরামতে হেটমায়ারের কাছে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল ক্যারিবীয়দের। বাঁহাতি ব্যাটার শুরুটা করেছিলেন আক্রমণাত্মভাবে। তবে মেহেদীর স্পিনে কাটা পড়লেন তিনি। লং অফে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হেটমায়ার ধরা পড়েন সৌম্যর হাতে। ফেরার আগে ৭ বলে ১ বাউন্ডারিতে করেন ৯ রান।
মেহেদীর ঘূর্ণিতে বোল্ড গেইল
আবারও ব্যর্থ ক্রিস গেইল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া এই ব্যাটার ওপেনিংয়ে নেমেও সুবিধা করতে পারলেন না। শেখ মেহেদী হাসানের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে।
বয়স ৪২ পেরিয়ে যাওয়া গেইল এখনও টি-টোয়েন্টি দুনিয়া মাতিয়ে যাচ্ছেন। ফর্ম না থাকলেও নিজের দিনে যে তিনি যেকোনও প্রতিপক্ষকে একাই গুঁড়িয়ে দিতে পারেন, সেই প্রমাণ আছে অসংখ্য। তাই বাংলাদেশের ভয়ের জায়গা ছিল তাকে নিয়ে। যদিও নিষ্প্রভ গেইল শারজার ম্যাচেও ব্যর্থ। শুরু থেকেই ভুগতে থাকা গেইল আবারও অফ স্পিনে ধরা। মেহেদীর ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে গেছেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে গেইলের অবস্থা আরও খারাপ। ১০ বলে করেছেন মাত্র ৪ রান। নেই কোনও বাউন্ডারি।
লুইসকে ভয়ঙ্কর হতে দেননি মোস্তাফিজ
আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দল হারলেও ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন এভিন লুইস। ৩৫ বলে খেলেছিলেন ৫৬ রানের ইনিংস। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। শুরুতেই এই ওপেনারকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখিয়েছেন বাঁহাতি পেসার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধীরগতির শুরুতে আরও ধাক্কা লাগে লুইসের বিদায়ে। মোস্তাফিজের একটু লাফিয়ে ওঠা বল লেগ সাইডে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটার। কিন্তু বল তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে উঠে যায় উঁচুতে। শূন্যে ভাসা বল দারুণ দক্ষতায় তালুতে নেন মুশফিকুর রহিম। আউট হওয়ার আগে লুইস ৯ বলে ১ বাউন্ডারিতে করেন ৬ রান।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
সুপার টুয়েলভে টানা দুই ম্যাচ হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি বাংলাদেশ। শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।
আজ (শুক্রবার) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের তৃতীয় ম্যাচে নেমেছে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচ হেরে চাপে থাকা লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সঙ্গে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ক্যারিবিয়ানরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার ও তাসকিন আহমেদ।
উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের জায়গায় খেলছেন সৌম্য। আর স্পিনার নাসুম আহমেদের বদলে এসেছেন তাসকিন আহমেদ। কঠোর সমালোচনার পরও ফর্মহীন লিটন দাসের ওপর আস্থা রেখেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। একাদশে আছেন এই ওপেনার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশেও দুটি পরিবর্তন। লেন্ডন সিমন্সের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন রোস্টন চেজ। অন্যদিকে অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার এসেছেন হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়রের জায়গায়।
বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, শেখ মেহেদী হাসান, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: কাইরন পোলার্ড (অধিনায়ক), নিকোলাস পুরান (উইকেটকিপার), ডোয়াইন ব্রাভো, রোস্টন চেজ, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার, এভিন লুইস, রবি রামপল, আন্দ্রে রাসেল, জেসন হোল্ডার, আকিলা হোসেইন।









