সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে শুধু জিতলেই হতো না। জটিল হিসেব-নিকেশ মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই জয় হওয়া লাগতো অভাবনীয়। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কাছে ২০ রানের হারে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।
আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় শ্রীলঙ্কার কাছে এই ম্যাচ ছিল আনুষ্ঠানিকতার। পাশাপাশি অনেক কিছু পাওয়ারও। তারুণ্য নির্ভর দল নিয়েও পারফরম্যান্সের ঝলক দেখিয়েছে পুরো টুর্নামেন্টে। অধিনায়ক দাসুন শানাকা তো বলেছেনই, ৬ মাস পর ভালো দলে পরিণত হওয়াই তাদের লক্ষ্য।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে যার স্বাক্ষরও রাখেন ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও চারিথ আসালাঙ্কা। ভয়ডরহীন ও বারুদ ঠাসা ব্যাটিংয়ে ত্রাস ছড়ান ক্যারিবীয় শিবিরে। তাদের কারণেই লঙ্কানরা ৩ উইকেটে পায় ১৮৯ রানের বড় সংগ্রহ। পেরেরার ২১ বলে ২৯ রানের পর বাকিটা সময় ক্যারিবীয়দের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন নিসাঙ্কা ও আসালাঙ্কাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের কোনওভাবেই রুখতে পারেনি।
নিসাঙ্কার বিদায়ের আগ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ১৩৩ রান। ৪১ বলে ৫১ রান করা নিসাঙ্কাকে ফেরান ব্রাভো। তুলনায় আসালাঙ্কা বেশি আগ্রাসী ছিলেন। তার ৪১ বলে করা ৬৮ রানে স্কোরবোর্ডও এগোয় দ্রুত গতিতে। আসালাঙ্কার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছয়ের মার। ম্যাচসেরাও হন তিনি। তার বিদায়ের পর অধিনায়ক দাসুন শানাকার ১৪ বলে ২৫ রানও স্কোর সমৃদ্ধ করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
জবাবে তারকা ঠাসা দল হয়ে বাক্সবন্দী হয়ে থেকেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে ও ফিল্ডিংয়েও রাজত্ব করে লঙ্কানরা। ক্যারিবীয় ব্যাটারদের মাঝে কেবল নিকোলাস পুরান ও শিমর হেটমায়ার জ্বলে উঠার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শুরুর দিকে ঘাটতি থাকায় সেই রান পরে আর পুষিয়ে নিতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরান ৩৪ বলে ৪৬ রানে সাজঘরে ফিরেছেন। হার না মানা ইনিংসে শেষটায় রোমাঞ্চ ছড়ান শুধু হেটমায়ার। ৫৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন ৮ চার ও ৪ ছক্কায়। তাতে শুধু হারের ব্যবধানই কমেছে! এছাড়া আর কেউ ডাবল ফিগারে পৌঁছাতে পারেননি। ৮ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করতে পেরেছে ১৬৯ রান।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ২৪ রানে দুটি নেন বিনুরা ফার্নান্ডো। শুরুর ধসটা আনেন বামহাতি এই পেসারই। ৪৩ রানে দুটি নেন আরেক পেসার চামিকা করুনারত্নেও। টুর্নামেন্টে আলো ছড়ানো লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গা ১৯ রানে নেন দুটি উইকেট। একটি করে নিয়েছেন দুশমন্থ চামিরা ও দাসুন শানাকা।








