২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবিতে সর্বোচ্চ ছয় জনের অভিষেক ঘটিয়েছিলো বাংলাদেশ। যদিও ওই ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছিলো ৫ উইকেটের ব্যবধানে। তবে বুধবার খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ নতুন চার ক্রিকেটারকে দলভুক্ত করে। মূলত এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করার প্রয়াসেই এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অথচ দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে বিশ্রামে রেখেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। অন্যদিকে পরীক্ষার নাম করে আল আমিন হোসেনকে শেষ দুটি ম্যাচে দলেই রাখেনি নির্বাচকরা।
বুধবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩১ রানে ম্যাচ হেরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ম্যাচ হারার কারণসহ আরও নানা বিষয় তুলে ধরেছেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে। এরই চুম্বক অংশ বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:-
প্রশ্ন : এক ম্যাচে চার জনের অভিষেক হলো। এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে কিনা?
মাশরাফি : বাইরে থেকে দেখলে এটাই মনে হবে। কারণ একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে চার জন অভিষেক হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়কে বসিয়ে রাখার কারণে এমনটা মনে হওয়া স্বাভাবিক। তারপরও মাঠে আমাদের পরিকল্পনাগুলো আপ টু দা মার্ক ছিলাম না।
প্রশ্ন : মোসাদ্দেককে না নামিয়ে চার নাম্বারে সাকিবকে নামানো যেত কিনা?
মাশরাফি : অবশ্যই করা যেত। এমনটা করা হয়েছে দেখার জন্য। এই পজিশনে মোসাদ্দেক কেমন খেলে সেটা দেখার প্রয়োজন ছিল।
প্রশ্ন : হঠাৎ করেই মোসাদ্দেককে এই ফরম্যাটে প্রতিশ্রুতিশীল ভাবার কারণ কী?
মাশরাফি : সবাই মিলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবাই চিন্তা করছে মোসাদ্দেক প্রতিশ্রুতিশীল এইজন্যই আনা হয়েছে। এক ম্যাচ দেখে কিছু বলা উচিত হবে না। মোসাদ্দেক ভালো খেলোয়াড়। বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে রেখেই বোলিং করেছে। ব্যাটিংটা আমি বলবো না খুব খারাপ করেছে। আরও ভালো ব্যাটিং করার ক্ষমতা তার আছে।
প্রশ্ন: জয়ের গুরুত্ব হারিয়ে গেছে নাকি?
মাশরাফি : অধিনায়ক হিসেবে আমার সব সময়ই গুরুত্ব থাকে ম্যাচ জেতার ব্যাপারে। টিমের পক্ষ থেকে বলতে পারি আমরা কেউই ম্যাচ হারতে চাই নি।
প্রশ্ন : পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আজকের ম্যাচে কোনও ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন?
মাশরাফি : আসলে ট্যাকনিক্যাল বিষয়গুলো আমি বলার চেয়ে কোচিং স্টাফরা ভালো বলতে পারবে। আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সবাইকে এক সঙ্গে দেখাও কঠিন।
প্রশ্ন : রনিকে কেমন দেখলেন?
মাশরাফি : আগেও বলেছি রনি প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়। তবে মুস্তাফিজের সঙ্গে তার তুলনা করা যাবে না। প্রথম ম্যাচ হিসেবে খুব খারাপ করেনি রনি। আশা করি ভবিষ্যতে যেখানেই সুযোগ পাবে জাতীয় দল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট সেখানে খেলতে খেলতে ভালো করবে।
প্রশ্ন : সাব্বির রান পাচ্ছে, বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
মাশরাফি : আমাদের দলের জন্য এমনটা খুবই ইতিবাচক। আমি আশা করবো সামনে আরও বড় স্টেজে এটা কন্টিনিউ করবে সাব্বির। এভাবে খেললে পেছনের ব্যাটসম্যানগুলো আরও সাবলীলভাবে ব্যাটিং করতে পারবে। তিন নাম্বারে এভাবে ব্যাটিং করা মানে পুরো দলকে চাপমুক্ত করে দেওয়া।
প্রশ্ন : তামিমকে বিশ্রাম দেওয়ার কারণ?
মাশরাফি : মূলত ইমরুলকে দেখার জন্যই তামিমকে বিশ্রাম দেওয়া। তামিম ভালো টাচে আছে। হয়তোবা এটা বলা যেতে পারে, টাচে থাকা খেলোয়াড় বসানো হলো কেন? ইমরুলকে দেখা ছাড়া অন্য কোনও কারণ নেই এর পেছনে।
প্রশ্ন : ১৮৮ রান চেজ করা সম্ভব ছিল?
মাশরাফি : উইকেট যেমন ছিল তাতে করে অবশ্যই চেজ করা সম্ভব ছিলো। হয়তোবা ১০-১৫ রান বেশি হয়েছে।
প্রশ্ন : শেষ ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হলো কিনা?
মাশরাফি : আমি এটাকে চাপ মনে করি না। এর থেকে বেশি চাপ নিয়ে আমরা ক্রিকেট খেলেছি। টি-টোয়েন্টি হিসেব করলে অন্যরকম। আমাদের জয়টাই মুখ্য থাকবে।
প্রশ্ন : সোহানের ব্যাটিং কেমন লেগেছে?
মাশরাফি : নুরুল প্রথমে একটু সমস্যা অনুভব করলেও শেষে ভালো শটস খেলেছে। যা দেখতে ভালো লেগেছে। আশা করি ও এটা কন্টিনিউ করবে।
/এমআর/








