বিশ্বকাপে দলগতভাবে ব্যর্থ হলেও ২/১ জনের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। তাদের একজন পেসার তাসকিন আহমেদ। গতি, বাউন্সার, ইনসুইং, আউটসুইংয়ের পসরা সাজিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এর পরেও তাসকিন মনে করেন, শেখার আরও বাকি আছে। আসন্ন সিরিজে তাই পাকিস্তানি পেসারদের কাছ থেকেও শিখতে চান তিনি।
অবশ্য তাসকিনের এমন চাওয়ার কারণ পাকিস্তানের অতীত ঐতিহ্য। অনেক বছর ধরেই পেসারদের অভয়ারণ্য বলা চলে পাকিস্তান। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আকতারের মতো দারুণ সব পেসার পাকিস্তান দলে খেলেছেন। বর্তমান দলেও আছেন শাহীন আফ্রিদি। যাকে পাকিস্তানের মিচেল স্টার্কও বলা হয়। তার সঙ্গে রযেছেন হাসান আলী, হারিস রউফের মতো পেসার। শাহীনের মতো তারাও বিশ্বকাপে গতির ঝড় তুলেছেন।
সে কারণেই তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ হতে চাইছেন তাসকিন। পরামর্শ নিতে সুযোগ হলে পাকিস্তানের পেসারদের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানালেন, ‘জাতিগতভাবেই পাকিস্তান থেকে অনেক ফাস্ট বোলার উঠে আসে। নব্বইয়ের দশক থেকে অনেক কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার খেলেছেন। এখনও ভালো ফাস্ট বোলার আছে। তুলনামূলকভাবে আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে। কিন্তু আমাদেরও উন্নতি হচ্ছে। যেহেতু একসঙ্গে সিরিজ খেলবো, সুযোগ হলে ওদের সঙ্গে কথা বলবো। ওরা এমন কিছু শেয়ার করতে পারে, যা হয়তো আমাদের ফাস্ট বোলারদের কাজে লাগতে পারে।’
পাকিস্তানি বোলাদের প্রতি মুগ্ধতার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তাসকিন। পাশাপাশি তিনি আশায় আছেন, একদিন এই মানে পৌঁছাতে পারবে বাংলাদেশও, ‘সব ফরম্যাটে সব ধরনের ফাস্ট বোলার ওদের আছে। এশিয়ান কন্ডিশন থেকে এরা অন্য পর্যায়ের ফাস্ট বোলার পাচ্ছে, ব্যাপারটা প্রেরণাদায়ক। এজন্য অবশ্য ওদের কন্ডিশনও ভূমিকা রাখে। আশা করছি, ওদের মতো আমাদেরও ভালো ভালো ফাস্ট বোলার আসবে ইনশাআল্লাহ্।’
বাংলাদেশের কথা চিন্তা করলে তাসকিন আহমেদও নিজেকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে দুই বছরের পরিশ্রমে ফিটনেস এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যা প্রশংসার যোগ্য। এই ধারা অব্যাহত রেখেই এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার হতে চান তিনি, ‘সত্যি বলতে বোলিংয়ে উন্নতির জন্য গত ২-৩ বছর ধরেই প্রসেস চলছে। এটা দুই-আড়াই মাসে হয়নি। এর জন্য গত ২-৩ বছর ধরে কষ্ট করছি। আগের চেয়ে উন্নতি হচ্ছে। এখনও প্রসেসেই আছি। আগের চেয়ে গতি ও লেন্থ ধারাবাহিক হয়েছে। তবে আমি এখনও শিখছি। দেশি ও বিদেশি কোচরা আমাকে অনেক সাহায্য করছেন। ভবিষ্যতে একজন বিশ্বমানের বোলার হওয়া, বড় মানের বোলার হওয়া আমার স্বপ্ন। ভালো খারাপ হবেই, কিন্তু প্রসেস ঠিক রাখতে চাই।’









