সতীর্থ ব্যাটাররা যেখানে রীতিমতো কঠিন পরীক্ষা বসেছেন, সেখানে সাবলীল ব্যাটিংয়ে সম্ভাবনাময় এক ইনিংস গড়ে যাচ্ছিলেন আফিফ হোসেন। দারুণ সব শটে আশার আলো ছড়াচ্ছিলেন। কিন্তু সেই সুন্দর ইনিংসটার ‘মৃত্যু’ ঘটলো বাজে এক শটে। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে পাকিস্তানকে একরকম উইকেট ‘উপহার’ দিয়ে এসেছেন বাঁহাতি ব্যাটার।
আজ (শুক্রবার) পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের স্কোর ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৮০ রান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচে রানের খাতা না খুলেই আউট হয়েছিলেন আফিফ। টানা দুই শূন্যের পর হেসে উঠেছিল তার ব্যাট। প্রয়োজনের সময় একপ্রান্ত আগলে রেখে চমৎকার সব শটে নিজের সঙ্গে দলের রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু শাদাব খানের বল উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে করলেন সর্বনাশ। ব্যাটে বল না লাগায় উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্টাম্পিং করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি।
স্টাম্পড হয়ে ফেরার সময় তার নামের পাশে ছিল ৩৪ বলে ৩৬ রান। ইনিংসটি সাজান ২ চার ও ২ ছক্কায়।
মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে বিপদ বাড়লো
শুরুতেই এলোমেলো বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। চাপ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন নিয়ে ক্রিজে আসেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক ব্যর্থ। বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে দলকে আরও বিপদে ছেড়ে গেছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কাঠগড়ায় তোলার সঙ্গে আঙুল উঠেছে মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্বের দিকেও। তাছাড়া ব্যাট হাতেও সাফল্য পাননি তিনি। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব হারানোর গুঞ্জন উঠলেও পাকিস্তান সিরিজে টিকে গেছেন। যদিও ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে আবারও মুখ লুকালেন মাহমুদউল্লাহ। মোহাম্মদ নওয়াজের বলে বোল্ড হয়ে গেছেন তিনি। তার বিদায়ে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দুর্ভাগ্যই বলতে হবে মাহমুদউল্লাহর। নওয়াজের লাইনে থাকা বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি। বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হালকা ছোঁয়া দিয়ে যায় বেলে। সামান্য ছোঁয়াতেই বেল পড়ে যায়। এরপর থার্ড আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্ত গেলে আসে আউটের সংকেত। আর এরই সঙ্গে শেষ হয় মাহমুদউল্লাহর ১১ বলে ৬ রানের ইনিংস।
উইকেট বিলিয়ে এলেন শান্ত
অনেক দিন পর দলে ফিরে একাদশে জায়গা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে তার কাছে প্রত্যাশা ছিল অনেক। যদিও আবারও হতাশ করলেন বাঁহাতি ব্যাটার। অহেতুক শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন তিনি।
মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে বাউন্স ছিল। বলের উচ্চতা ঠিকঠাক না বুঝে শট খেলতে গেলেন শান্ত। বল ব্যাটের সাইডে লেগে উঠে যায়। সহজ ক্যাচটি বোলার ওয়াসিম নিজেই তালুবন্দি করেন। ফলে বাজে শট খেলে ১৪ বলে মাত্র ৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বাঁহাতি এই ব্যাটার।
অভিষেকে সাইফের ১ রান
টেস্টে অভিষেক হয়েছে আগেই। তবে টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথমবার সুযোগ মিলেছে সাইফ হাসানের। অভিষেকও হয়ে গেছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। যদিও কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে পথচলার শুরুটা মনে রাখার মতো হলো না। মাত্র ১ রান করে বিদায় নিয়েছেন ডানহাতি ওপেনার।
লিটন দাস ও সৌম্য সরকার বাদ পড়েছেন। তামিম ইকবাল ইনজুরিতে। ওপেনিংয়ে ফাঁকা হওয়া জায়গা পূরণ করলেন সাইফ। এই ম্যাচ দিয়ে আবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটো তার যাত্রা। কিন্তু হেলায় সুযোগটা নষ্ট করলেন সাইফ। মোহাম্মদ ওয়াসিমের হালকা আউট সুইঙ্গারে ঘায়েল এই ওপেনার। বল তার ব্যাটে লেগে জমা পড়ে স্লিপে দাঁড়ানো ফখর জামানের হাতে। ফলে ৮ বলে মাত্র ১ রানে শেষ তার প্রথম ইনিংস।
নাঈমের বিদায়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খারাপের ‘ভালো’ ছিলেন নাঈম শেখ। দুটো হাফসেঞ্চুরি আছে তার। যদিও সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছেন। সেই বৃত্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ভাঙতে পারলেন না। বাজে শট খেলে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার।
বিশ্বকাপে ব্যাটিং, বিশেষ করে টপ অর্ডারে ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ওপেনিংয়ে ভালো শুরু পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান সিরিজে সঙ্গী লিটন দাস বাদ পড়লেও টিকে গেছেন নাঈম। যদিও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কিছুই করতে পারলেন না। হাসান আলীর অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে। ফেরার আগে ৩ বলে করেন মাত্র ১ রান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, সাইফের অভিষেক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন শুরুর মিশনে বাংলাদেশ। নতুন এই মিশনে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে মাহমুদউল্লাহরা। তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে সাজানো একাদশে অভিষেক হয়েছে ওপেনার সাইফ হাসানের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৬টি পরিবর্তন এসেছে স্কোয়াডে। ফলে সর্বশেষ একাদশ থেকে পরিবর্তন অনুমিতই ছিল। বিশ্বকাপে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে গিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। কিন্তু বিশ্বকাপের আগেই তাকে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই বিপ্লব ফিরেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। এছাড়া প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন সাইফ।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করা শাহীন শাহ আফ্রিদিকে বিশ্রাম দিয়েছে পাকিস্তান। আগের দিনই ১২ জনের দল ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের বিপক্ষে পরিসংখ্যান মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২ ম্যাচের ১০টিতে জিতেছে সফরকারীরা। তবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের হোম অব ক্রিকেট বলেই আশায় বুক বাঁধতে পারে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপের আগে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে এখানেই হারিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
বাংলাদেশ একাদশ: মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), শেখ মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।
পাকিস্তান একাদশ: বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান, ফখর জামান, হায়দার আলী, হারিস রউফ, হাসান আলী, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, শোয়েব মালিক।









