টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স সবচেয়ে নাজুক। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের চক্র তলানিতে থেকে শেষ করেছিল মুমিনুলের দল। নতুন চক্রের শুরুটাও হলো পাকিস্তানের কাছে হার দিয়ে। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ভীষণ হতাশ বাংলাদেশ দলের এমন পারফরম্যান্সে। তিনি মনে করেন, এই সংস্করণে উন্নতির জন্য টেস্ট সংস্কৃতিতে উন্নতি প্রয়োজন।
এক প্রশ্নের জবাবে মুমিনুলদের কোচ বলেছেন, ‘বিষয়টা সত্যিই খুব হতাশার যে আমরা জানি না, কীভাবে টেস্ট জিততে হয়। টেস্ট সংস্কৃতির উন্নতির প্রয়োজন। সব সময় বিশ্বাস করেছি, আপনি যদি টেস্টে উন্নতি করেন তাহলে সাদা বলের ক্রিকেটেও উন্নতি হবে। হয়তো বাংলাদেশের কাছে টেস্টের চেয়ে সাদা বলের ক্রিকেট বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। উদ্দীপ্ত কিছু খেলোয়াড় আসছে, যাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটসম্যান ও বোলার হতে। যত বেশি ঘরোয়া ক্রিকেট, ‘এ’ দলের সফর হবে, তত বেশি জাতীয় দলের উন্নতি হবে। এই মুহূর্তে ঘরোয়া থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া একটি বিশাল পদক্ষেপ। এটা নিয়ে বিসিবির উচিত হবে নজর দেওয়া এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন খেলায় এর প্রভাব পড়ে।’
এ সময় সাফল্য পেতে আরও কিছু পরামর্শ দেন ডমিঙ্গো, ‘আমাদের বুঝতে শেখা উচিত যখন ম্যাচ হাতের মুঠোয় আসে, তখন কীভাবে লুফে নিতে হবে। কঠিন পরিস্থিতিতে কাউকে না কাউকে দাঁড়িয়ে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারো জন্য অপেক্ষা করে থাকা উচিত হবে না। কারণ আমরা টেস্ট ইতিহাসে অনেকগুলো ম্যাচ হেরেছি। সেজন্য আমাদের সেই বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হবে। নিজেদের কাঁধে দায়িত্ব নিয়ে পথ চলতে হবে।’
অথচ এই হারের জন্য সবথেকে বড় কারণ গুরুত্বপূর্ণ সময়ের শিশুতোষ ভুলগুলোই। রাসেল ডমিঙ্গোও মনে করেন, ‘আমরা নিজেদের প্রায়ই সেরা অবস্থানে নিয়ে এসেছি। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে শেষ কাজটা করতে পারছি না। আমি নিশ্চিত খেলোয়াড়রা নিজেরাও এজন্য আরও হতাশ। এ ফরম্যাটে উন্নতি করছি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিশুতোষ ভুল করছি। যা আমাদের সাফল্যর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হয় একটা ক্যাচ ছাড়ছি নয়তো আলগা শটে উইকেট হারাচ্ছি বা একটা বাজে স্পেল করছি। আমাদের সাফল্য, পারফরম্যান্স দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে পারি না। এটা খুবই বিরক্তিকর।’
সাধারণত শিষ্যদের ব্যর্থতার সময় দেখা যায় যে, ডমিঙ্গো তাদের হয়েই কথা বলছেন। ক্ষোভও প্রকাশ করতে দেখা যায় না। তবে মঙ্গলবার এমন কিছুই শোনালেন, যা তার পুরোপুরি বিপরীত। ডমিঙ্গো হতাশ কণ্ঠে বলেছেন, ‘আসলে আমি শুধুমাত্র এই টেস্ট পারফরম্যান্সের জন্য হতাশ নই। আমাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্টই জেতা উচিত ছিল। ৪০০ রান তাড়া করতে গিয়ে ৭০ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আবার আমরা ২২০ রান তাড়া করতে গিয়ে ৭০ রান তুলেছিলাম কোনও উইকেট না হারিয়ে। কিন্তু দুটি ম্যাচই হেরেছি। আমি ব্যাপক উন্নতি দেখছি কিন্তু দীর্ঘ সময়ের জন্য এই উন্নতি ধরে রাখতে পারছি না। হয়তো ঘরোয়া ক্রিকেটে সেই প্রতিযোগিতা ও আতিশয্য নেই।’









