অনেক স্বপ্ন নিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে আসা লন্ডন প্রবাসী ইমরানুর রহমানের। যার লক্ষ্য- দেশের অ্যাথলেটিকসে নিজের উপস্থিতির জানান দেওয়া আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ২৮ বছর বয়সী অ্যাথলেটের স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হতে চলেছে। কাল সোমবার আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে জাতীয় অ্যাথলেটিকস। ট্র্যাকে সেনাবাহিনীর জার্সিতে নামবেন তিনি। তবে লন্ডন প্রবাসীকে সহজেই পথ ছাড়তে নারাজ চারবার দেশের দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইল। ছুড়ে দিয়েছেন চ্যালেঞ্জ!
যুক্তরাজ্যে ১৬-১৭ বছর বয়সে অ্যাথলেটিকসে নাম লেখান ইমরান। ওখানকার একটি ক্লাবের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিয়েছেন। তার অতীত রেকর্ডও আশা জাগানিয়া। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি ইনডোর অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হয়েছেন। সময় নেন ৬.৬৮ সেকেন্ড। ২০২১ সালে লি ভ্যালি অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টেও অর্জন করেছেন দ্বিতীয় স্থান। সময় নেন ১০.২৭ সেকেন্ড। তারপর দেশে ফিরে তো প্রত্যাশাই বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিকেএসপির ট্রায়ালে গত অক্টোবর ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সময় নিয়েছেন ১০.৪০ সেকেন্ড! এবার দেশের ট্র্যাকে নামতে হচ্ছে আসল লড়াইয়ে।
ইমরান অবশ্য লড়াইয়ের আগে তেমন কোনও কথা বলতে চাননি। বাংলা ট্রিবিউনকে শুধু বলেছেন, ‘খেলার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। খেলার পর বিস্তারিত বলবো। এখন প্রতিযোগিতার দিকে আমার দৃষ্টি।’
ইমরানের সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ চারবারের দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইল। ফেডারেশনের বিপক্ষে সমালোচনা করে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। ভুল স্বীকার করায় শাস্তি প্রত্যাহারও হয়েছে। ওই ঘটনার পরই প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়ে বলেছেন, ‘লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেট এসেছেন, তাকে স্বাগত জানাই। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছেড়ে দেওয়া হবে না। আমাদের মধ্যে লড়াই হবে। আমি নিজেও প্রস্তুত।’
সবসময় নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। এবার বাইরে থেকে একজন প্রতিযোগী আসায় কিছুটা চাপ অনুভব করছেন ইসমাইল। নেপালের এসএ গেমসে ১০.৭০ সেকেন্ড সময় নেওয়া এই দ্রুততম মানব বলেছেন, ‘সবসময় তো নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এবার বাইরে থেকে কেউ অংশ নিচ্ছেন। তাই ভালো করার তাড়নাটা বেশি। আমরাও যে পারি, সেটা তো প্রমাণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে অনুশীলনও করে যাচ্ছি।’ এখন অ্যাথলেটিকস অঙ্গন জমে ওঠার অপেক্ষায়।








