দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ১২৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় দিন দেখার ছিল কিউইরা বাংলাদেশকে ফলোঅন করায় কিনা। শেষ পর্যন্ত ৩৯৫ রানে এগিয়ে থেকে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে বাংলাদেশকে ফলোঅনে নামিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ৬ ওভার শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৮ রান। সফরকারীরা পিছিয়ে ৩৮৮ রানে। ক্রিজে আছেন সাদমান ইসলাম (৭) ও মোহাম্মদ নাঈম (১)।
মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ইতিহাস গড়ে জিতলেও ক্রাইস্টচার্চে পুরনো ব্যাটিং ব্যর্থতার নজির রেখেছে বাংলাদেশ। যে উইকেটে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা সাবলীল ব্যাটিংয়ে বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়েছে, দ্বিতীয় দিন সেই একই উইকেটে বাংলাদেশের ইনিংসে দেখা মিললো ভিন্ন চিত্র। শুরুতেই এলোমেলো হয়ে যায় সফরকারীরা।
কিউইরা ৬ উইকেটে ৫২১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর মাত্র ২৭ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ! কিছুই করতে পারেননি সাদমান ইসলাম, নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাস।
ইয়াসির আলী ও নুরুল হাসান মিলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল না দিলে হয়তো আরও বাজে কিছু হতো। দেখতে দেখতে দলীয় স্কোর শত রানের কাছে পৌঁছায় এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে। কিন্তু দলীয় ৮৭ রানে টিম সাউদির দুরন্ত গতির কাছে পরাস্ত হতেই হয় নুরুল হাসানকে। লেগ বিফোরে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন সরাসরি। নুরুল হাসান রিভিউ নিলেও রক্ষা হয়নি। আম্পায়ার্স কলে বিদায় নিতে হয়েছে। ফেরার আগে ৬২ বলে ৪১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন নুরুল হাসান। এই জুটিতে যোগ হয় গুরুত্বপূর্ণ ৬০ রান।
তার পর মিরাজ ছিলেন শেষ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান। কিন্তু অফস্পিনিং অলরাউন্ডার টিকে থাকার ধৈর্য দেখাতে পারলেন না। ৩৩ বল খেলা এই ব্যাটারকে বোল্ড করেছেন ট্রেন্ট বোল্ট। আর এই উইকেট তুলে নিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন কিউই পেসার। মিরাজের বিদায়ে তখন লেজ বের হয়ে যায় সফরকারীদের। লেজের দিকে শুরুর পতনই হয় তাসকিনের বিদায়ে। জেমিসনের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন।
একপ্রান্ত আগলে ইয়াসির শুধু নিজের ব্যাটিং দক্ষতার প্রদর্শনী করতে পেরেছেন। তুলে নিতে পেরেছন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটিও। তবে ৫৫ রান করার পর আগ্রাসী হতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন জেমিসনের বলে। ৯৫ বল খেলা ইয়াসিরের ইনিংসে ছিল ৭টি চার। তার বিদায়ের পর শরিফুলও বোল্ড হলে ৪১.২ ওভারে ১২৬ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সেরা বোলিং ছিল ট্রেন্ট বোল্টের। ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ২৮ রানে ৩টি নিয়েছেন টিম সাউদি। ৩২ রানে দুটি নিয়েছেন কাইল জেমিসন।
কিউইদের ৬ উইকেটে ৫২১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণার পথে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ল্যাথাম খেলেছেন ২৫২ রানের ঝলমলে ইনিংস। ডাবল সেঞ্চুরির পথ প্রথম দিনই করে রেখেছিলেন। সুযোগটা নষ্ট করেননি বাঁহাতি ওপেনার। দ্বিতীয় দিনের সকালেই টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন তিনি। মুমিনুলের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৭৩ বলের ইনিংসটি কিউই অধিনায়ক সাজান ৩৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়।
ল্যাথামের সঙ্গে ৯৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিলেন ডেভন কনওয়ে। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ব্যাটার। যদিও শতক পূরণের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। করেছেন ১০৯ রান। কনওয়ে ১৬৬ বলের ইনিংসটি সাজান ১২ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
বাংলাদেশের দুই পেসার শরিফুল ও এবাদত দুজনই পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। আর ১ উইকেট শিকার মিরাজের।









