সংযুক্ত আরব আমিরাতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় বাংলাদেশ দলে অনেক রদবদল হয়েছে। সেই বদলে মুশফিকুর রহিমের ওপরও কোপ পড়েছে! তিনি খেলতে চাইলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নির্বাচকরা দলে রাখেননি। বিপিএল তাই মুশফিকের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চও। যদিও খুলনা টাইগার্সের এই উইকেটকিপার ব্যাটার জাতীয় দল নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না।
দল হিসেবে বিশ্বকাপে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ। ব্যক্তিগতভাবেও কোনও খেলোয়াড় ভালো করতে পারেননি। অভিজ্ঞ মুশফিকও ছিলেন ব্যর্থ। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাদ পড়েন। এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জাতীয় দল নিয়ে কী ভাবছেন তিনি? আজ (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক বলেছেন, ‘আমি কামব্যাক বা জাতীয় দল নিয়ে চিন্তা করছি না। চিন্তা করছি বিপিএল নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আমি। আমার কাছে এটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জ, যেন ওই জায়গাটা ধরে রাখতে পারি। ভবিষ্যতে কী আসবে না আসবে, তা নিয়ে একদমই ভাবি না। চেষ্টা করি দলের জন্য, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। যেহেতু আমাকে সরাসরি সাইন করেছে, তার প্রতিফলন যেন মাঠে দিতে পারি, এতটুকুই চিন্তা করছি।’
হাফসেঞ্চুরি কিংবা সেঞ্চুরির মাইলফলক পৌঁছে সবাই ব্যাট তুলে উদযাপন করেন। বিপিএলে মুশফিক যতটা সম্ভব বেশিবার সেটি করতে চান, ‘অন্তত ১০টি ম্যাচ তো খেলার সুযোগ পাবো। চেষ্টা করবো যাতে ১২-১৩টা ম্যাচ খেলা যায়, আর যতবার সম্ভব ব্যাট ওপরে উঠানো যায়!’
যদিও মুশফিকের কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যই সবার আগে, ‘সবাই তো চায় টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে ভালো রান করতে। তবে ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে দলগত লক্ষ্য আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর রানার্স-আপ হয়েছি, দুইবার একশর কাছাকাছি গিয়েও শতক পাইনি। তবে ওই দুই ম্যাচই জিতেছি। এটাই বেশি জরুরি। এবারও এমন চ্যালেঞ্জই থাকবে। চেষ্টা করবো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার। একইসঙ্গে ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলতে চাই যাতে দল ভালো ফলাফল পায়। যেন ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়েও দলীয় লক্ষ্য বেশি অর্জন করতে পারি।’
নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে মুশফিক আলাদা করে ইনডোরে গিয়ে নেটে ব্যাটিং করেছেন। বোঝাই যাচ্ছে আসন্ন বিপিএল নিয়ে কতটা সিরিয়াস তিনি। এ প্রসঙ্গে এই উইকেটকিপার ব্যাটার বলেছেন, ‘খেলার আগের দিন আমার একটা ব্যক্তিগত প্রস্তুতি থাকে। ওগুলো নিজে নিজে করেছি। ওটার জন্যই আলাদা করে করা। নেটে ২ ঘণ্টা আসলে সবার জন্য যথেষ্ট না। প্রত্যেক স্কোয়াডে ১৮-২০ জন খেলোয়াড় আছে। চেষ্টা করেছি এদিক-ওদিক থেকে যতটুকু করা যায়। যেহেতু আমাদের সুযোগ-সুবিধা আছে, সেটা কাজে লাগানো।’









