বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) বল টেম্পারিংয়ের শাস্তি পেলেন সিলেট সানরাইজার্সের অধিনায়ক রবি বোপারা। সোমবারের ওই কাণ্ডের জন্য তার ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট। অবশ্য আরও বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু আপিল করার প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞার বদলে হয়েছে জরিমানা।
খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ওই দিন মোসাদ্দেক হোসেনের কাছ থেকে অধিনায়কত্ব-ভার পেয়েছিলেন ইংলিশ ক্রিকেটার। হুট করে পাওয়া নেতৃত্বের রহস্য উন্মোচিত হতেই বল টেম্পারিং করতে দেখা যায় এই ক্রিকেটারকে।
বুধবার রবি বোপারার শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, সিলেট সানরাইজার্সের অধিনায়ক রবি বোপারা গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রিমিয়ার ব্যাংক খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এই কারণে তার ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে এবং নামের পাশে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ করা হয়েছে।
৭ মার্চ খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বল টেম্পারিং করেন বোপারা। নখ দিয়ে খুঁটে তার বল বিকৃতি করার চেষ্টা ধরা পড়ে ক্যামেরায়। বিষয়টি আম্পায়ারদের চোখও এড়ায়নি। ফলে ওভারের তৃতীয় বলের পর অনফিল্ড দুই আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান ও প্রাগিথ রামবুকভেলা তার থেকে বল চেয়ে নেন। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠেই শাস্তি পেতে হয় সিলেটকে। পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান দেওয়া হয় প্রতিপক্ষ খুলনাকে।
গত সপ্তাহে নখ দিয়ে খুঁটে বল বিকৃতির ঘটনায় নেদারল্যান্ডসের পেসার ভিভিয়ান কিংমার চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন। রবি বোপারার জন্যও এমন বড় শাস্তি অপেক্ষা করছিল।
আইসিসির আচরণবিধির লেভেল-৩ অনুযায়ী ম্যাচ রেফারি দেবব্রত পাল তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির কাছে রবি বোপারা আপিল করাতেই বেঁচে যান তিনি। সেই আপিল বিবেচনা করে কমিটি নিজের ক্ষমতা বলে শাস্তি মওকুফ করে বোপারার। মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান এএসএম রাকিবুল হাসান ম্যাচ রেফারির দেওয়া শাস্তি প্রত্যাহার করে নেন।
বল টেম্পারিং বিপিএল নিয়মের ৪১.৩ ধারার লঙ্ঘন। মূলত শৃঙ্খলা ভঙ্গের ৮.২.৩.৪ অনুচ্ছেদে টেকনিক্যাল কমিটিকে প্রদত্ত কর্তৃত্ব অনুসারে জরিমানা আরোপ, বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস করার বিধান রয়েছে। এই ধারা ৮.২ এর অধীনে বলা আছে টেকনিক্যাল কমিটি কর্তৃক গৃহীত যে কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এই সিদ্ধান্ত উভয়পক্ষকে মানতে হবে।









