কঠিন সমীকরণ নিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল খুলনা টাইগার্স। প্লে-অফে যেতে হলে হারাতেই হবে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা কুমিল্লাকে। চাপের মাঝে কঠিন এই ম্যাচ ৮ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটে জিতে নিলো মুশফিকের খুলনা। এই ম্যাচে কুমিল্লার পাওয়ার কিছু না থাকলেও কুমিল্লার দিকেই তাকিয়ে ছিলো মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। কিন্তু খুলনা ম্যাচ জিতে যাওয়াতে ঢাকাকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো।
শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ফাফ ডু প্লেসি’র দারুণ এক সেঞ্চুরিতে কুমিল্লা ১৮২ রান সংগ্রহ করে। ফাফের সেঞ্চুরি ম্লান করে দিয়ে খুলনার আন্দ্রে ফ্লেচার তুলে নেন সেঞ্চুরি। তার সেঞ্চুরিতেই মূলত জয়ের ভীতটা পেয়ে যায় খুলনা। ফ্লেচার খেলেন অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস।
কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনে খুলনা। নিয়মিত ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারের সঙ্গে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয় মেহেদী হাসানকে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খুলনার হয়ে দুই ওপেনার টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটটাই খেললেন। কুমিল্লার বোলারদের নখদন্তহীন বোলিংয়ের সুযোগ নিয়েছেন মেহেদী-ফ্লেচার। তাদের দুইজনের ১৮২ রানের জুটিতে কুমিল্লাকে ৯ উইকেট হারায় খুলনা টাইগার্স। জয় থেকে এক রান দূরে থাকতে আউট হন মেহেদী হাসান (৭৪)। ৪৯ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন মেহেদী। ফ্লেচার অপরাজিত থাকেন ১০১ রানে। ৬২ বলে ৬ চার ও ৬ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন এই ওপেনার। অবশ্য ৭১ রানেই থেমে যেতে পারতো ফ্লেচারের ইনিংস। অনেকটা জোড় করেই রিভিউ নেন মেহেদী। মেহেদীর এই সিদ্ধান্তেই বেঁচে যান ফ্লেচার। খেলেন ম্যাচ সেরা এক ইনিংস।
কুমিল্লার বোলারদের মধ্যে কিছুটা কিপটে বোলিং করতে পেরেছেন কেবল সুনীল নারিন ও মঈন আলী। ৪ ওভারে ২২ রান খরচ করে উইকেট শূন্য ছিলেন ক্যারিবীয় এই স্পিনার। ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী ১৩ রান খরচায় একমাত্র উইকেটটি নেন। এছাড়া বাকি বোলারদের সবাই ওভার প্রতি দশের উপরে রান দিয়েছেন।
এর আগে, টস জিতে ব্যাটিং নেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বিপিএল প্রথমবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। ৭ রান করেই আউট হন তিনি। মুমিনুলও ৭ রান করে ফিরলে মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ফাফ ডু প্লেসিস। ৪৯ রানের জুটি হতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়ে জয়ের ইনিংস। আউট হওয়ার আগে খেলেন ২৭ বলে ৩ চারে ৩১ রানের ইনিংস। এরপর শুরু হয় ফাফ ঝড়। ৫৪ বলে ১০১ রান করে নাভেন উল হকের শিকার হন প্রোটিয়া এই ব্যাটার। ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ফাফ নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। শেষ দিকে মাহিদুল অঙ্কন ১১ বলে ২০ রান করলে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানে থামে কুমিল্লা।
খুলনার বোলারদের মধ্যে নাভেন-উল-হক, মেহেদী হাসান ও ফরহাদ রেজা একটি করে উইকেট নেন।









