গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে উড়িয়ে দিয়ে প্লে অফ নিশ্চিত করেছিল খুলনা টাইগার্স। আজ (সোমবার) এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে বাকি পথটুকু আর পেরিয়ে যেতে পারেনি তারা। ম্যাচ হারের পেছনে বোলারদের দায় দেখছেন খুলনা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৭ রানে হেরে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চট্টগ্রাম ও খুলনা। আগে ব্যাট করা চট্টগ্রামকে বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিল মুশফিকরা। প্রথম ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু পরের ১০ ওভারে তাদের ছন্নছাড়া বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম ১৮৯ রান তুলে ফেলে। শেষমেশ বড় স্কোরের নিচে চাপা পড়তে হয়েছে শিরোপাপ্রত্যাশী দলটিকে।
ম্যাচ শেষে মুশফিক বলেছেন, ‘আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। আমাদের মূল সমস্যা হয়েছে বোলিংয়ে। ১০ ওভারে ওদের রান ৬৫, উইকেটও ৪টি নেই। তার মানে অর্ধেক ওভারে ওরা পিছিয়ে। টপ চার ব্যাটার নেই। সেখান থেকে যেকোনও প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ ১০ ওভারে ১৩০ রানের মতো নেওয়া, আসলে এটা প্রত্যাশিত নয়।’
সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘উইকেট যতই ভালো হোক... আমাদের বোলাররা ১০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আমার মনে হয়, খারাপের লিমিট থাকে। ওই খারাপের লিমিটটা কন্ট্রোল করতে পারলে ১৭০ বা ১৮০ রান হতো। আমার মনে হয়, আমি বোলারদের পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিতে পারিনি এবং তারা সেটা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলতে গিয়ে মুশফিক শেষ ১০ ওভারের প্রসঙ্গই আনলেন, ‘শেষ ১০ ওভারে ১৩০ রান দেওয়া টার্নিং পয়েন্ট। আপনার যদি ইয়র্কার প্লান থাকে। সেটা যদি লো ফুলটস বা হাফ ভলি হয়ে যায়, তাহলে সেট ব্যাটার আপনাকে বাউন্ডারি মারবেই। আবার যদি স্লোয়ার পরিকল্পনা থাকে, সেটা যদি হাফ ভলি হয়ে যায় স্বাভাবিকভাবে সেট ব্যাটার মারবে। একটু খারাপ লেগেছে যে, ম্যাচ জিততে গেলে তিন বিভাগে ভালো করতে হয়। একটা সুযোগ ছিল সেমিফাইনাল খেলার সেটা হয়নি।’
মুশফিক বোলারদের দায় দেখলেও খুলনার স্থানীয় ব্যাটাররা খুব ভালো কিছু করতে পারেননি। অধিনায়ক মুশফিকও বেশিরভাগ ম্যাচেই নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। আজও বাজে শটস খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন। ১১ ম্যাচে ৩৫.৮৫ গড়ে মুশফিকের রান ছিল ২৫১। যদিও সেটি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান।
সংবাদ সম্মেলেনে মুশফিক অবশ্য নিজের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্টির কথা শুনিয়েছেন, ‘নিজের ব্যাটিং নিয়ে হতাশ না। আমাকে প্রতি ওভারে ৮-১০ রান করে করতে হতো। বাউন্ডারি অপশনে যেতেই হতো। আমাদের পরিকল্পনা ছিল কম রিস্ক শট নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। রাব্বি (ইয়াসির আলী) আউট না হওয়া পর্যন্ত আমরা ম্যাচেই ছিলাম। রাব্বির উইকেট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’









