দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লিটনের তখন স্কোর ছিল ৮৭ রান। আফগানদের অসহায় বানিয়ে সেঞ্চুরির প্রায়ই কাছেই ছিলেন। এই সময় কাভারে তার ক্যাচ ড্রপ না হলে পঞ্চম সেঞ্চুরি পাওয়া হয়তো হতো না। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল বলে সেঞ্চুরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত করা যায়নি তাকে। বরং তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই বড় স্কোরের পেছনে ছুটছিল বাংলাদেশ। শেষ দিকে ঝড় তুলতে চাওয়া লিটনকে অবশেষে সাজঘরে পাঠিয়েছেন ফরিদ আহমেদ।
লিটনের বিদায়ে ভেঙে গেছে ২০২ রানের পার্টনারশিপ। তার বিদায়ের পরের ডেলিভারিতে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিমও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪৭ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮৭ রান।
চট্টগ্রামে সর্বশেষ ম্যাচের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আত্মবিশ্বাসী তামিমকেই দেখা যাচ্ছিল। সতর্ক শুরুর পর দ্বিতীয় ওভারে চার মেরেছেন দুটি। অপরপ্রান্তে তখন নড়বড়ে ছিলেন লিটন। ফলে তৃতীয় ওভারে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন। পেসার ফজল হক ফারুকি এলবিডাব্লিউর আবেদন করলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি তাতে। পরে রিভিউ নিলে দেখা গেছে, বল পিচ করেছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে। ফলে একটি রিভিউ নষ্ট হয়েছে সফরকারীদের।
পঞ্চম ওভারে আরও দুঃসংবাদও শুনতে হয় সফরকারীদের। পায়ের ইনজুরিতে মাঠ ছেড়েছেন নিয়মিত উইকেটকিপার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তার বদলে উইকেটের পেছনে রয়েছেন ইকরাম আলিখিল। এই সময়ে স্কোরবোর্ডও সমৃদ্ধ হয় দ্রুত। কিন্তু তামিম নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। প্রথম ম্যাচের মতো প্রায় একই ভঙ্গিতে আউট হয়েছেন। সপ্তম ওভারে পা বাড়িয়ে ফজল হক ফারুকির ভেতরে ঢুকে পড়া বলে আড়াআড়ি খেলতে চেয়েছিলেন। ফলাফল বল সরাসরি আঘাত করে প্যাডে। আবেদনের প্রেক্ষিতে আম্পায়ারও আঙুল তুলে দিতে দেরি করেননি। তামিম রিভিউ নিলেও ফল হয়নি তাতে।
দারুণ শুরু দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সাকিব-লিটন। জুটি গড়ে ৪৫ রানও যোগ করে ফেলেন তারা। কিন্তু রশিদ খান নিজের প্রথম ওভারে এসেই আঘাত হানেন তাতে। আফগান তারকার ঘূর্ণিতে পুরোপুরি পরাস্ত হন সাকিব। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বামহাতি অলরাউন্ডারকে ফিরতে হয়েছে ২০ রানে। তার ৩৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার।
তামিম-সাকিব ব্যর্থতা কাটাতে না পারলেও লিটন সফল ছিলেন তাতে। প্রান্ত আগলে থেকে পরে ঘুম হারাম করেছেন আফগানদের। ফেরার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও বঞ্চিত হতে হলো তাকে। ৮৬ রানে ফিরে যাওয়া মুশফিকের ৯৩ বলের ইনিংসে ছিল ৯টি চার। ১২৬ বলে খেলা ১৩৬ রানের ইনিংসে লিটন চার মেরেছেন ১৬টি। ছয় ছিল দুটি।









