শিল্পীর তুলির আঁচড়ে শিল্পকর্ম তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। লিটনও তাই করলেন, চট্টগ্রামে তার ব্যাট যেন হয়ে উঠলো শিল্পীর তুলি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে লিটনের প্রতিটা শটই যেন ছিল শিল্পীর তুলির আঁচড়। যে শিল্পকর্মে আফগান বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। খেলেছেন ১৩৬ রানের ইনিংস।
লিটনের ব্যাটিং যেন সৌন্দর্যের আরেক নাম। মাঠের চারদিকে বাহারি সব শটস খেলতে পারেন এই উইকেট কিপার ব্যাটার। শুক্রবার সাগরিকায় আরও একবার শিল্পীর ভূমিকায় দেখা গেলো তাকে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে চোখ ধাঁধানো ব্যাটিংয়ে পূর্ণ করেছেন পঞ্চম সেঞ্চুরি। শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।
অবশ্য এই সেঞ্চুরি পেলেন তিন ইনিংস পর। ২০২০ সালের পর তার কোনও হাফসেঞ্চুরি না থাকলেও আছে চারটি সেঞ্চুরি। এই সময়টাতে যত হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন তার সবকটিকেই সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। শুক্রবারও ভুল করেননি। চার ইনিংস পর পাওয়া নড়বড়ে হাফসেঞ্চুরিটাকে রূপ দিলেন সেঞ্চুরিতে।
চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরুতে আফগান পেসারদের সুইং ডেলিভারিগুলো ঠিকঠাক মতো খেলতে পারছিলেন না এই ওপেনার। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তি কাটিয়ে ওঠেন।
তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য থামতে পারতেন লিটন। ব্যক্তিগত ৮৭ রানে কভারের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন। সৌভাগ্যবশত বেঁচে চান বাংলাদেশ ওপেনার। আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি ক্যাচটি নিতে পারেননি। লিটন এরপর আর ভুল করেননি। ১০৭ বলে ১৪টি চারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে পৌঁছে গেছেন।
চট্টগ্রামে এটাই তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১৩৬ রানে থামতে হয় বাংলাদেশের ওপেনারকে। ফরিদ আহমেদের স্লো ভেলিভারিতে স্কয়ার লেগে লম্বা শটস খেলেছিলেন। কিন্তু ওখানে দাঁড়ানো মুজিব সহজেই ক্যাচটি তালুবন্দি করেন। তাতে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১২৬ বলে ১৩৬ রানে থামেন তিনি।
২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। ওই সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও খেলেন ১৭৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। এরপর গত বছর জিম্বাবুয়ে সিরিজে গিয়ে খেলেন ১২১ রানের আরেকটি ইনিংস।
২০২০ সালের মার্চের পর লিটন ১৬টি ইনিংস খেলেছেন। এই ১৬ ইনিংসে চারবার তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। তার ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি আসে ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে, ভারতের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ৫ সেঞ্চুরি ও ৩ হাফসেঞ্চুরিতে ১ হাজার ৪৭২ রান করেছেন লিটন।








