দ্বিতীয় ওয়ানডেতে থার্ড আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্ত নিয়েই হয়ে গেলো নাটক। সাকিবের ১৭তম ওভারে স্ট্রাইকে ছিলেন নাজিবুল্লাহ জাদরান। তার খেলা বল গিয়ে আঘাত করেছিল নন স্ট্রাইকের স্টাম্পে। তাৎক্ষণিক দৃশ্যে মনে হচ্ছিল বল সাকিবের হাত স্পর্শ করেই গেছে। নন স্ট্রাইকে থাকা রহমতও দূরে ছিলেন ক্রিজ থেকে। শুরুতে সাকিব আবেদন করেও বল হাতে গেছে কিনা তা নিয়ে এক প্রকার সংশয়ে ছিলেন। পরে আবেদন প্রত্যাহার করে নিলেও রিভিউ চলেছে এই সিদ্ধান্তের। আকস্মিকভাবে থার্ড আম্পায়র পুরোপুরি না বুঝেই আউটের সিদ্ধান্ত দেন রহমতকে। যেহেতু তিনি ক্রিজ ছেড়ে অনেক বাইরে ছিলেন। বেশকিছুক্ষণ নাটক চলে এই ঘটনা নিয়ে। পরে আবার রিভিউর পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে ‘নটআউট’।
অথচ আগের বলেই জাদরানের ক্যাচ ফেলে দিয়েছেন শরিফুল। বাউন্ডারিতে সেই ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় তা চার হয়ে গেছে পরে।
সিরিজে টিকে থাকতে সামনে রয়েছে ৩০৭ রানের বিশাল লক্ষ্য। সেই মিশনে খেলতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল আফগানিস্তান। পরে চাপ মুক্ত করতে জুটি গড়ে দলকে সামাল দিচ্ছেন রহমত শাহ ও নাজিবুল্লাহ জাদরানই। ২১ ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৫। রহমত শাহ ব্যাট করছেন ৪৪ ও নাজিবুল্লাহ জাদরান ৪০ রানে।
সফরকারীদের এই জুটি নিয়ে ভীষণ বিপদে রয়েছে বাংলাদেশ। ১৬তম ওভারেও জাদরানকে আউট করেছিলেন মিরাজ। অনফিল্ডার আম্পায়ার লেগ বিফোরের আবেদনে আঙুল তুললেও রিভিউ করে জীবন পেয়েছেন আফগান ব্যাটার। দেখা গেছে বল ব্যাটে লেগেছিল তার!
রহমানুল্লাহ গুরবাজ ইনজুরিতে থাকায় ওপেনিংয়ে নামতে পারেননি তিনি। তার বদলে শুরুটা করেন রিয়াজ হাসান। কিন্তু বিশাল লক্ষ্যের সামনে শুরুতেই গড়বড় করে ফেলেন এই ওপেনার। দ্বিতীয় ওভারে প্রথম বলে আফিফের রানআউটের শিকার হন তিনি।
চাপ আরও বেড়ে যায় শরিফুলের চতুর্থ ওভারে। ব্যাট করছিলেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। চতুর্থ বলে ইনসাইড এজ হওয়া বল অল্পের জন্য তার লেগ স্টাম্পে আঘাত করেনি। কিন্তু পরের বলে আর শেষ রক্ষা হয়নি। বল এজ হয়ে সরাসরি জমা পড়ে মুশফিকের গ্লাভসে। তাতে ৫ রান করে ফিরেছেন আফগান অধিনায়ক।
পরে নামা আজমতউল্লাহ ওমারজাইও স্বস্তি ফেরাতে পারেননি। বরং চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন আরও। ৯ রানে সাকিবের ঘূর্ণিতে স্টাম্পড হয়েছেন।
এর আগে লিটন দাস-মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড জুটিতে ভর করেই বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ৪ উইকেটে তুলেছে ৩০৬ রান।
টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় উইকেটে রেকর্ড জুটি গড়েন দুজন। তামিম-সাকিব ব্যর্থ হলেও প্রত্যাশা মিটিয়ে ব্যাটিং করেছেন লিটন-মুশফিক। একটা পর্যায়ে লিটন এতই আগ্রাসী হয়েছিলেন যে আরও সমৃদ্ধ হতে পারতো স্কোর বোর্ড। কিন্তু ৪৭তম ওভারে ডিপ স্কয়ার লেগে লিটন ক্যাচ তুলে দিলে সেখানেই শেষ হয় বাড়তি রানের সম্ভাবনা। কারণ তার ফেরার পরের বলে ফিরেছেন আরেক সেট ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। ৮৬ রানে ক্রিজে থাকা মুশফিকও ক্যাচ তুলে ফিরেছেন। ৯৩ বলে ফেরা এই ব্যাটারের ইনিংসে ছিল ৯টি চার। তার আগে ১২৬ বলে ১৩৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে ফেরেন লিটন। তাতে ছিল ১৬টি চারের সঙ্গে ২টি চারের মার।
এ দুজন ফেরার পর আফিফ-মাহমুদউল্লাহ সেভাবে রান তুলতে পারেননি। আফিফ অপরাজিত ছিলেন ১৩ রানে, মাহমুদউল্লাহ ৬ রানে। অবশ্য লিটন-মুশফিকের রেকর্ড ২০২ রানের জুটিই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের মূল গতিপথ। গড়ে দেয় তিনশো রানের ভিত।









