‘আমি সিনিয়র হয়ে গেছি, আমার উইকেটের মূল্য আছে’- কথাগুলো আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে জেতানোর নায়ক লিটন দাসের। প্রথম ম্যাচে সেরা হওয়া আফিফ হোসেনও একই কথা বলেছিলেন। দুজনের কথাতেই স্পষ্ট, পরিপক্বতার জায়গায় নিজেদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন তারা। রবিবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের আগে মেহেদী হাসান মিরাজও বললেন একই কথা। অফস্পিনিং অলরাউন্ডারের মতে, তারা এখন অভিজ্ঞ হয়ে গেছেন, নিতে শিখে গেছেন দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধরণই এমন- অভিজ্ঞরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, তাদের যোগ্য সমর্থন দেন তরুণরা। কিন্তু গত এক যুগ ধরে সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিকরা দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও জুনিয়র ক্রিকেটারদের সেখানে খুব একটা ভূমিকা থাকতো না! হয়তো বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পারফরম্যান্স থাকতো, কিন্তু দলের জয়ে সেটি তেমন ভূমিকা রাখতো না। গত কয়েকটি সিরিজ ধরে দৃশ্যপট বদলেছে। ৫/৬ বছর ধরে খেলা ক্রিকেটাররা দায়িত্ব নিতে শিখে গেছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আফিফ-মিরাজের দায়িত্বশীল জুটিতে জয়ের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অবদান রাখেন লিটন। অভিজ্ঞ মুশফিকের সঙ্গে তার ২০২ রানের রেকর্ড জুটিই সিরিজ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে। এই তরুণরাই এখন বলতে শিখেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসে গেছে তাদের।
রবিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘অবশ্যই সিনিয়ররা আমাদের ব্যাকআপ করে কথা বলেন। উনারা চান জুনিয়ররা যেন পারফর্ম করে। তাহলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। তারা সবসময়ই ভালো খেলেছেন, আমরাও যদি ভালো খেলতে পারি, তাহলে দলের জন্য ভালো হবে। দেখেন আমি, লিটন, তাসকিন, মোস্তাফিজ অলমোস্ট ৫-৬ বছর খেলে ফেলেছি, কিছু অভিজ্ঞতা তো হয়েছে। চেষ্টা করবো যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলার।’
সাকিব-তামিমরা বাংলাদেশকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। মিরাজদের কাছে এখন এটাই হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণা, ‘তাদের দেখেই তো শিখি। যারা অভিজ্ঞ আছেন, তারা বাংলাদেশকে অনেক বড় অর্জন এনে দিয়েছেন। তারা যেভাবে বাংলাদেশকে একধাপ ওপরে নিয়েছেন, তাদের দেখে যতটা শিখবো, সেটা আমাদের ক্যারিয়ারের জন্যই ভালো। অবশ্যই তারা অনেক এমন ম্যাচ জিতিয়েছেন। ওই সময় চিন্তা করতাম, যদি সুযোগ পাই অবশ্যই ম্যাচ জেতানোর চেষ্টা করবো।’
জাতীয় দলে টিকে থাকার লড়াইয়ে পারফরম্যান্সের কোনও বিকল্প নেই। মিরাজরা সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের উজাড় করে দিতে প্রস্তুত, ‘আসলে প্রতিযোগিতা প্রতিটা সময়ই। হ্যাঁ, তরুণ বলতে অভিজ্ঞতার দিক থেকে তরুণ কিন্তু জাতীয় দলে জুনিয়র-সিনিয়র কোনও অজুহাত দিতে পারবেন না। আমি যদি পারফর্ম না করি, তাহলে আমরা জায়গায় অন্য কেউ আসবে। দিনশেষে নিজেকে যত জলদি গুছিয়ে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে ক্যারিয়ার বড় হবে।’









