ব্যাটিংয়ে ভালো সূচনা পেলেও ছন্দটা পরে ধরে রাখতে পারেনি। বোলিংয়ে কিছু সুযোগ হাতছাড়ার ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লড়াই চললেও স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে হারাতে সেটি যথেষ্ট ছিল না। মেয়েদের বিশ্বকাপে ৯ উইকেটে হারের পর বৃষ্টিস্নাত কন্ডিশনের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। তিনি উল্লেখ করেছেন, বৃষ্টির কারণে আউটফিল্ড ছিল ভেজা। যা এক কথায় খেলার অনুপযোগী!
বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয়েছে ৪ ঘণ্টা পর। ফলে ম্যাচের পরিধি কমে আসে ২৭ ওভারে। বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের সময়ও ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। তার পরেও ম্যাচ চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিগার, ‘প্রথমেই বলতে চাই কন্ডিশনটা খেলার উপযোগী ছিল না। আপনারা এটা একটা অজুহাত বলতে পারেন যে প্রথম ইনিংসেও তো বৃষ্টি ছিল। কিন্তু তখন বৃষ্টিটা এত ভারি ছিল না। আমরা যখন ফিল্ডিং করছিলাম, বৃষ্টিটা অনেক ভারি ছিল।’
বৃষ্টির মধ্যে কিউইদের রান তাড়ার ১৩ ওভারে একবার ডাগ আউটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তখন ড্রিংকস ব্রেক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আম্পায়াররা সেটি বাদ দিয়ে পুনরায় বাংলাদেশকে মাঠে খেলা চালিয়ে যেতে বলে। বাংলাদেশ অধিনায়ক আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও ১৫তম ওভারে নিগার সুলতানা আবারও কথা বলেন অফিশিয়ালদের সঙ্গে। যেহেতু বৃষ্টি তখনও পড়ছিল। নিগার সুলতানা জানালেন, ওই সময় ম্যাচটা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হন অফিশিয়ালদের বোঝাতে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রেফারিকে লিখিতভাবে জানানোর কথা বলেছেন তিনি, ‘আমরা যখন মাঠে ছিলাম, আম্পায়ারদের জিজ্ঞেস করেছিলাম এই অবস্থায় খেলা চালিয়ে যাবো কিনা। তারা বারবার বলেছেন, আপনারা কন্টিনিউ করে যান। অন দ্য ফিল্ড এর বেশি কিছু করার ছিল না। অফ দ্য ফিল্ড আমরা ম্যাচ রেফারিকে এই বিষয় জানাবো।’
এখনও পাঁচ ম্যাচ বাকি বাংলাদেশের। এমন কন্ডিশনে খেলে কেউ আহত হলে অবশ্যই সেটি দুশ্চিন্তার বিষয়। নিগার তার যুক্তি তুলে ধরেন এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার ফল নিয়ে, ‘আমরা খুব সীমিত পরিসরে খেলোয়াড় নিয়ে এসেছি। কোনও একজন খেলোয়াড় যদি চোটে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে কোনও প্লেয়ার আনলেও এই দেশে দশ দিনের কোয়ারেন্টিনের ব্যাপার থাকে। এরকম করতে গেলে টুর্নামেন্টই শেষ হয়ে যাবে।’
টানা দুই ম্যাচ হেরে গেলেও ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন। ব্যর্থ ছিলেন পরের ব্যাটাররা। বিষয়টি অধিনায়ককে ভাবাচ্ছে ঠিকই, তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন পরের ম্যাচে তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন, ‘গত দুই ম্যাচে ওপেনাররা খুব ভালো শুরু এনে দিয়েছে। কিন্তু পরের ব্যাটারগুলো ক্যারি করতে পারছে না। কিন্তু এই ব্যাটাররাই ব্যাটিং করে আসছে। নাম যদি মেনশন করি যেমন রুমানা আহমেদ আছেন বা আরও যারা। কোনও কারণে তারা এই জায়গায় কলাপ্স করেছে। আশা করি, পরের ম্যাচগুলোতে এখানে আমরা ওভারকাম করবো।’









