গত ১১ ও ১২ মার্চ তিন ভাগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গেছে বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টেস্ট দল। আফ্রিকার দেশটিতে পৌঁছে দুই দিন বিশ্রাম শেষে আজ (সোমবার) অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। তবে সাকিবের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। লম্বা বিমান জার্নি শেষে কোনও বিশ্রাম ছাড়াই সরাসরি অনুশীলনে নেমে পড়েছেন! বোঝাই যাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নিয়ে কতটা সিরিয়াস বাঁহাতি অলরাউন্ডার।
অনেক নাটকীয়তার পর গত রবিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সাকিব। পৌঁছেই হোটেলে লাগেজ রেখে সোজা মাঠে চলে যান। দৌড়ে পুরো স্টেডিয়ামে বেশ কয়েকবার চক্কর দিয়েছেন দেশসেরা এই ক্রিকেটার।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দরযে ঘেরা ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন ওয়ানডে দলের বাকি ক্রিকেটাররা। মুশফিকুর রহিম বেশ কিছুক্ষণ কিপিং অনুশীলন করেছেন। ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামের একাডেমির নেটে থ্রোয়ারের বিপক্ষে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করেছেন লিটন দাস-তামিম ইকবালরা। পাশাপাশি লং ক্যাচ, শট ক্যাচ ও স্লিপ ক্যাচও অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। সব মিলিয়ে পুরো দল প্রথম দিন কঠোর পরিশ্রমই করেছে।
সাকিব বেশ কিছুদিন ধরে খেলার বাইরে আছেন। ব্যক্তিগত কারণে মাঠেও ছিলেন না। তামিম-মুশফিকরা দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে নিজ উদ্যোগে মিরপুরে অনুশীলন করেছেন। ফলে ব্যাট-বলে অনুশীলনের আগে সাকিবের ফিটনেস ফিরে পাওয়া জরুরি। আজ পুরো সময় রানিং করেই কাটিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
গত ৬ মার্চ রাতে দুবাই যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাকিব বলেছিলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে নিজেকে তার মনে হয়েছে ‘প্যাসেঞ্জার’। এই কারণে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে চান না। হয়তো প্যাসেঞ্জার থেকে ড্রাইভিং সিটে বসতেই তার এই পরিশ্রম। রবিবার রাতে দেশ ছাড়ার আগে সাকিবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এখন কি তাহলে ড্রাইভিং সিটে থাকতে চান? চওড়া হাসিতে বাঁহাতি অলরাউন্ডারের উত্তর ছিল, ‘কে না চায়!’
সাকিব জানিয়ে গেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে অন্তত একটি ম্যাচ জিততে চান তারা, ‘আমরা ওখানে হয়তো পাঁচ-ছয় দিন (চার দিন) অনুশীলন করবো। তবে এখানে বড় উন্নতির জায়গা থাকে না। কিন্তু মানসিকভাবে আমরা যতটা প্রস্তুতি নিতে পারবো ভালোভাবে, তত আমাদের জন্য ভালো হবে। প্রত্যাশা তো থাকবে যেন আমরা জিততে পারি। সিরিজ জিততে পারলে খুবই ভালো। তবে একটা ম্যাচও যদি জিততে পারি, আমার মনে হয় খুব ভালো একটা অর্জন হবে। পুরো দলেরই একই রকম লক্ষ্য থাকবে।’
টেস্ট সিরিজ পরে হলেও একই সঙ্গে দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটাররা দক্ষিণ আফ্রিকা গেছেন। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ওয়ানডে দল জোহানেসবার্গ ও প্রিটোরিয়ার মাঝামাঝি জায়গার একটি হোটেলে উঠেছে। ১৮ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবই হবে এই দুটি শহরে। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছেই টেস্ট দল চলে গেছে কেপটাউন। সেখানে গ্যারি কারস্টেনের ক্রিকেট একাডেমিতে মুমিনুলরা অনুশীলনে ঘাম ঝরাবেন।
দুই দলের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ৩১ মার্চ। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগ পর্যন্ত গ্যারি কারস্টেনের একাডেমিতে কাজ করবেন তারা। শুরুর কয়েকটা দিন সাবেক এই প্রোটিয়া ক্রিকেটারকে গুরু হিসেবে পাওয়ার সুযোগ আছে মুমিনুলদের। এছাড়া জেমি সিডন্স ছাড়াও স্থানীয় বেশ কয়েকজন মুমিনুলকের ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করবেন।
সূচি অনুযায়ী চারটি ভেন্যুতে ১৮ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দুই ফরম্যাটের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ মার্চ সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্ট পার্কে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। ২০ মার্চ জোহানেসবার্গ ও ২৩ মার্চ সুপার স্পোর্ট পার্কে রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে। ডারবানে ৩১ মার্চ থেকে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে পোর্ট এলিজাবেথের কেবেরায় শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।









