বিকেএসপিতে রবিবার আবাহনী ও খেলাঘরের ম্যাচে অভিজ্ঞ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল অবিশ্বাস্য, অদ্ভুত এক ভুল করেছেন। এমন ভুল করে আম্পায়ার্স কমিটি থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই আম্পায়ার। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু।
মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমার নজরেই এসেছে। খেলাঘর কোনও অভিযোগ করেনি। আম্পায়ার্স কমিটি থেকেই তার কাছে এমন ভুলের আনুষ্ঠানিক কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।’
রবিবার বিকেএসপিতে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বল করছিলেন আরাফাত সানি। বাঁ পা এগিয়ে সোজা ব্যাটে ডিফেন্স করেন খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির ওপেনার হাসানুজ্জামান। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে হাসানুজ্জামানের ব্যাটে লেগে বলটি ফাইন লেগে চলে গেছে। বোলার সানি আবেদন না করে তাকিয়ে ছিলেন সেদিকেই। উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করা জাকের আলী অনিক শুরুতে একটু উৎসাহ দেখালেও পরের মুহূর্তেই মাথায় হাত দিয়ে দেখতে থাকেন বল কোনদিকে যাচ্ছে। আম্পায়ার মুকুলের আউটের সংকেত দেখানোর আগে জোরালো আবেদন করেছিলেন কেবল স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডার। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে হাসানুজ্জামানকে এলবিডব্লিউ আউট দেন।
হাসানুজ্জামান কিছুতেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আম্পায়ার আঙুল উঁচু করায় সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ক্রিজের মাঝপথে থেমে যান তিনি। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন আম্পায়ার মুকুলের দিকে। এরপর হেলমেটে হাত রেখে চলে যান ড্রেসিংরুমে।
বিকেএসপিতে এমন আউটের দৃশ্য দেখে বিস্মিত আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমি মুকুলের সঙ্গে কথা বলেছি। মুকুল আমাকে জানিয়েছে সে ভুল করেছে। অমনোযোগের কারণে এমনটা হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছি। এর থেকে তো বেশি কিছু করার নেই। আম্পায়াররাও তো মানুষ, তাদের ভুল হতে পারে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মেইল পাঠাচ্ছি মুকুলের কাছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তার বক্তব্য চাই।’
২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করার অভিজ্ঞতা আছে মুকুলের। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৪৯টি ম্যাচ আম্পায়ারিং করেছেন তিনি। তারপরও মুকুলের এমন ভুল মেনে নেওয়া কঠিন। বোলার আবেদন না করার পরও আম্পায়ার মুকুল দ্রুততম সময়ে হাসানুজ্জামানকে আউট দিয়ে দেন। আম্পায়ার্স কমিটি মুকুলের কাছে জানতে চেয়েছে এতো দ্রুত কেন সিদ্ধান্ত?
মিঠু বলেন, আমি জানতে চেয়েছি এত দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়ার কারণ কি? সে জানিয়েছে, মনোযোগের ঘাটতি ছিল। আমি বলেছি ওটাই লিখিত দাও।
আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান আরও যোগ করেন, ‘আমি তো মনিটর করছি। আমার দায়িত্ব মনিটর করা, এর চেয়ে বেশি কিছু আমি করতে পারি না। লাভ হবে কী হবে না সেটা জানি না। কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার উদ্দেশ্য আম্পায়াররা ভবিষ্যতে যেন সতর্ক থাকে।’








