একের পর এক ভুল আম্পায়ারিংয়ের শিকার হচ্ছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। আগের ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে মাসুদুর রহমান মুকুল অবিশ্বাস্য এক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন খেলাঘরের বিপক্ষে। বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষেও দেখা গেলো একাধিক বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার খেলাঘর। যার ফলে জয়ের সুবাস পেয়েও খেলাঘর শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে ৩৬ রানে।
বৃহস্পতিবার বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয় খেলাঘর। গত কয়েক মৌসুম ধরে প্রিমিয়ার লিগে খেলা দলটি টানা দুই ম্যাচে এমন বাজে আম্পায়ারিংয়ে ভুগলো। এই ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন মাহফিজুর রহমান ও সৈয়দ মোজাহিদুজ্জামান। মাহফিজুর রহমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিং করার অভিজ্ঞতা থাকলেও মোজাহিদুজ্জামানের সেটি নেই। এদিন বিকেএসপিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠুও।
এই ঘটনায় ইতোমধ্যে আম্পায়ারদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান। বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রশ্নের জবাবে মিঠু বলেছেন, ‘‘ইতোমধ্যে এই ম্যাচের ব্যাপারে আমি অবগত আছি। ভিডিও দেখেছি। আমারও সন্দেহ হয়েছে। কারও ব্যাপারে সন্দেহ হলেই তাকে সাত দিনের জন্যে আম্পায়ারিং থেকে বিরত রাখা হচ্ছে, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এটা আনুষ্ঠানিক না হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে করছি আমি। ওই ম্যাচে মুকুল নিজেই বলেছে আমার মনোযোগের ঘাটতি ছিল। আমি তখন বলেছি, ‘তুমি বিশ্রামে যাও। সাতদিনে মনোযোগ ঠিক করো, পরে দায়িত্বে ফিরে আসো।’’
মিঠু আরও যোগ করে বলেছেন, ‘আমাকে তো দুই পক্ষকেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। আমি এখন যেটা করছি ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এক সপ্তাহের জন্য ওই সকল আম্পায়ারদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিচ্ছি।’
বাংলাদেশের আম্পায়ারদের মান নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। দুর্নীতি কিংবা অন্য কোনও উদ্দেশ্যের চেয়ে মানহীনতার কারণেই আম্পায়ারদের ভুলগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন মিঠু, ‘অনেক সময় যেটা হয় কেউ ইচ্ছে করে কিংবা দুর্নীতির উদ্দেশ্যে এমন কিছু করে না। আমাদের বেশিরভাগ আম্পায়ারই নিম্নমানের। তাদের ট্রেনিংয়ের স্বল্পতা আছে। ব্যাপারটা ট্রেনিং না করে গাড়ি চালানোর মতো। আমার ধারণা এখানে তেমন কিছুই ঘটছে। আমাদের চার জন এলিট আম্পায়ারের মধ্যে একজন মুকুল। সে যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, বাকিদের অবস্থা কেমন বোঝাই যায়।’
বিভিন্ন ক্লাবকে সুবিধা দিতে আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে নানাভাবে নানা চাপ আসতেই পারে! কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যান জানালেন কোনও প্রকার চাপের মুখোমুখি হননি তিনি, ‘আমাকে কিন্তু কেউই সাহস করে বলে না, এটা করে দেন। আমার নিজের দল গুলশান ইয়ুথ ক্লাব কিন্তু তৃতীয় বিভাগে নেমে গেছে। একটা ম্যাচ আমি যদি হেল্প করতাম তাহলে বেঁচে যেত। আমি আগেও বলেছি আম্পায়ারিং নিয়ে কঠোর থাকবো। এখন পর্যন্ত আমি অন্য বোর্ড মেম্বারদের থেকে কোনও প্রকার চাপ পাইনি।’
বৃহস্পতিবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আগে ব্যাটিং করে শুরুতেই ৫ রানে ১ উইকেট নিয়ে রূপগঞ্জকে চেপে ধরেছিল খেলাঘর। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে টিপু সুলতানের সামনে সুযোগ ছিল ইমরানকে সাজঘরে ফেরানোর। কিন্তু বাজে আম্পায়ারিং বাঁচিয়ে দেয় তাকে। যদিও ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি। ২৭ বলে ৯ রানে আউট হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাবা অপরাজিত (৯৮), ফজলে মাহবুব রাব্বি (৫২), মার্শাল আইয়্যুবের (৬৩) তিন হাফসেঞ্চুরিতে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে রূপগঞ্জ।
২৬০ রানের কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৪ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধেছিল খেলাঘর। কিন্তু আম্পায়ারদের ভুলে খেলাঘরের লঙ্কান ক্রিকেটার ব্যক্তিগত ১০ রানের মাথায় ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে, অফস্পিনার শরিফউল্লাহর বলটি লেগ সাইডে পিচ করবে। অথচ সামান্য আবেদনেই আম্পায়ার তাতে সাড়া দিয়েছেন। তখন দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে হারিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে যায় খেলাঘর।
৪৬ বলে খেলাঘরের প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন লক্ষ্য মোটেও কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ৫৯ রানে দুর্দান্ত খেলতে থাকা ইলিয়াস সানীও আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন। নাসুমের বলটি রিভার্স সুইপ খেলতে চেয়েছিলেন সানী। কিন্তু পায়ে বল লাগতেই আম্পায়ার আউট দিয়ে দিয়েছেন। যদিও ভিডিও দেখে ঠিক নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই এটি আউট! ৬৪ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে সানীর আউটের পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে খেলাঘরের ইনিংস। ২০৩ থেকে ২২৩ রানে যেতেই হারায় বাকি চার উইকেট।









