ডারবানে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩২০ রানে আটকে রাখার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। প্রথম দিনের সংবাদ সম্মেলনে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এমন তথ্যই দিয়েছিলেন। শিষ্যরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ দিকে তাদের হতাশ করেছেন প্রোটিয়াদের টেল এন্ডাররা! এক সিমন হারমার ব্যাট চালিয়ে প্রথম ইনিংসের স্কোরটাকে নিয়ে গেলেন ৩৬৭ রানে।
বৃহস্পতিবার টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। তার পরেও ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত সূচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোনও উইকেট না হারিয়ে ১১৩ রান যোগ করে অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে সফরকারীদের। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। প্রথম দিনেই মুমিনুলরা তুলে নিতে পারে ৪ উইকেট। তবে শেষ বিকালে তেম্বা বাভুমার প্রতিরোধে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়। এই ব্যাটার হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৫৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিলেন। তার সঙ্গে ২৭ রান নিয়ে শুরু করা কাইল ভেরিয়েনেকে বেশিক্ষণ থাকতে দেননি খালেদ। এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে প্রোটিয়া ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। ফেরার আগে এদিন মাত্র ১ রান যোগ করতে পেরেছেন ভেরিয়েনে। ২৮ রানের ইনিংসে মেরেছেন ৩ বাউন্ডারি।
তিনি ফেরার পরের বলেই আবার উইকেট খালেদের। বাংলাদেশি পেসারের শিকার উইয়ান মুল্ডার। মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ধরা পড়ার আগে স্বাভাবিকভাবেই রানের খাতা খোলা হয়নি তার।
সঙ্গীরা থিতু না হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলে যান তেম্বা বাভুমা। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। তবে তাকে তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে দেননি মিরাজ। এই স্পিনারের ঘূর্ণিতে ৯৩ রানে আউট হয়ে গেছেন প্রোটিয়া ব্যাটার। ফেরার আগে ১৯০ বলে ১২ বাউন্ডারিতে খেলে যান ঝলমলে একটি ইনিংস।
তার বিদায়ের পর আশার আলো হয়ে থাকা মহারাজও পরের বলেই আউট! মিরাজের ওভারের শেষ বলে আউট হয়েছিলেন বাভুমা। আর এবাদতের করতে আসার নতুন ওভারের প্রথম বলে ফিরে যান মহারাজ। বাংলাদেশি পেসারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৪ বাউন্ডারিতে করে যান ১৯ রান। লাঞ্চের আগে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়া প্রোটিয়াদের স্কোর তখন তিনশও পার হয়নি।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতে লেজের দিকে বাংলাদেশকে হতাশ করেছেন প্রোটিয়াদের দুই টেলএন্ডার লিজাড উইলিয়ামস ও সিমন হারমার।
লাঞ্চের পরেও একই দৃশ্য দেখা গেলো কিছুক্ষণ। মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো এই জুটি ভাঙেন দ্বিতীয় দিন দারুণ বোলিং করা খালেদ আহমেদ। লিজাড উইলিয়ামসকে জয়ের তালুবন্দী করিয়েছেন। তার আগে এই জুটি যোগ করেছে গুরুত্বপূর্ণ ৩৪ রান। উইলিয়ামস ৩২ বল খেলে আউট হন ১২ রানে।
তার পরেও হারমার লেজের দিকে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে স্কোরবোর্ডটাকে সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েছেন। ডুয়ানে অলিভিয়ারকে নিয়ে যোগ করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ৩৫ রান।
হারমার ৩৮ রানে অপরাজিত থাকলেও দারুণ এই জুটি ভাঙে অলিভিয়ারের বিদায়ে। তাকে ১২ রানে এলবিডাব্লিউতে ফিরিয়ে প্রোটিয়াদের লেজ ছেঁটে দেন মিরাজ। তাতে ১২১ ওভারে প্রথম ইনিংসে ৩৬৭ রানে অলআউট হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭৩ বলের ইনিংসে ৩৮ রান করা হারমারের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ১টি ছয়।
বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন খালেদ আহমেদ। ৯২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং। ৯৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। ৮৬ রানে দুটি এবাদত হোসেনের।
স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে: ১২১ ওভারে ৩৬৭ (এলগার ৬৭, বাভুমা ৯৩, এরউই ৪১, হারমার ৩৮*; খালেদ ৪/৯২, মিরাজ ৩/৯৪, এবাদত ২/৮৬)









