তার অন্যতম প্রিয় মাঠ পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জেস পার্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে পুরনো ক্রিকেট ভেন্যুতে প্রথমবার খেলতে নেমেই করেছিলেন বাজিমাত। ১৯৯২ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ইনিংসে পাঁচের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন অ্যালান ডোনাল্ড। সময়ের পরিক্রমায় সেই ভেন্যুতে এবার অন্য ভূমিকায় কিংবদন্তি প্রোটিয়া পেসার। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে নতুন অভিযানে নামার আগে বারবার একটি কথাই মনে করিয়ে দিলেন- পোর্ট এলিজাবেথের প্রবল বাতাস!
শুক্রবার দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের ভেন্যুতে কখনও খেলেনি বাংলাদেশ। সেখানকার অবস্থা সম্পর্কেও অজানা মুমিনুলদের। তবে দলের সঙ্গে এমন একজন আছেন, যিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত কাটিয়েছেন সেন্ট জর্জেস পার্কে। বর্তমান পেস বোলিং কোচ ডোনাল্ড এই ভেন্যুতে খেলা ৭ টেস্টে নিয়েছেন ৪০ উইকেট, যা আবার ভেন্যুর সর্বোচ্চ উইকেটও।
কোন পরিকল্পনায় এগিয়ে এই সাফল্য এসেছে, সেটি নিশ্চয় তাসকিন আহমেদ-এবাদত হোসেনদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে শুধু পেস বোলিং কোচ হিসেবে না থেকে আরও বড় পরিসরে তিনি কাজ করছেন অন্তত এই টেস্টের জন্য। ভেন্যু পরিচিত হওয়ায় সেখানকার কন্ডিশন, উইকেটের আচরণ- সবকিছু নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
আজ (বুধবার) বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় ডোনাল্ড দলকে সতর্ক করেছেন পোর্ট এলিজাবেথের বাতাস নিয়ে। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলেছেন, ‘পোর্ট এলিজাবেথে একটা ব্যাপারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, আর তা হলো বাতাস। (বেলা) সাড়ে ১২টা থেকে (দুপুর) ২টার মধ্যে প্রবল বাতাস আসে। এখানে উঁচু ক্যাচ নেওয়া সত্যিই স্কিলের ব্যাপার। বাঁক খাওয়ানো ক্যাচ ও লম্বা ক্যাচিংয়ের অনুশীলন করতে হবে। জানতে হবে, কোন পাশ থেকে বাতাস আসছে। বিকালের শেষভাগে স্কোরবোর্ডের দিক থেকে ৪০-৪৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস আসে। এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’
বাতাস কতটা বাঁক বদল করে, সেটি জানিয়েছেন পরের কথায়, ‘এই মাঠটা অনেকটা উইন্ড টানেলের মতো। স্কোরবোর্ডের পাশ থেকে মাঠের ভেতরে ঢোকে। এই বাতাস আবার ঘুরতে থাকে। বোলারদের কখনও মনে হয় বাতাসের অনুকূলে বোলিং করছে, হুট করেই আবারও মনে হবে বাতাসের প্রতিকূলে!’
ডোনাল্ডের কথায় একটা বিষয় নিশ্চিত, বোলাররা এখানে সুবিধা পান আবার অসুবিধাতেও পড়েন। একই অবস্থা ব্যাটারদেরও। দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি পেসারের মতে, কৌশলই এখানে সবচেয়ে বড় অস্ত্র, ‘এখানে উইকেট এমন যে ব্যাটার বা বোলার হিসেবে কখনোই খেলা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায় না, আবার ছিটকেও পড়ে না। কিছু না কিছু হতেই থাকে। এই মাঠে বোলার হিসেবে সৃষ্টিশীল হতে হবে। সময় যত গড়ায়, উইকেট নিষ্প্রাণ হয়ে উঠতে থাকে। ফাস্ট বোলিংয়ের দিক থেকে তাই কিছু না কিছু কৌশল থাকতে হবে।’









