লম্বা বিরতি দিয়ে টেস্টে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। ফেরাটা মন্দ হয়নি এই ওপেনারের। তবে উপলক্ষটা আরও রাঙানো হতো যদি হাফসেঞ্চুরি পূরণ করতে পারতেন। কিন্তু হয়নি। ৪৭ রানে আউট হয়ে গেছেন তামিম। তার বিদায়ের পরই আবার আউট হয়ে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত
আজ (শনিবার) পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের ৪৫৩ রানে অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। স্কোর ২৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৫ রান।
মাহমুদুল হাসান জয় রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। মাত্র ২ বল খেলে এই ওপেনারের আউটের পর চাপ তৈরি হয়। তবে তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে দারুণ ব্যাটিংয়ে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান দলকে। ব্যক্তিগত রানের সঙ্গে দলীয় সংগ্রহও বাড়ছিল তাতে। শুরু থেকে আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকা তামিম যাচ্ছিলেন হাফসেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু একটুর জন্য হয়নি। তিনে ফেরার পর শান্তও ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে।
চোট ও ব্যক্তিগত সমস্যায় ৬ টেস্ট খেলতে পারেননি তামিম। ২০২১ সালের এপ্রিলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন। এরপর দেশের বাইরে জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার টেস্ট এবং ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট মিস করেছেন। পোর্ট এলিজাবেথে ফিরে উইয়ান মুল্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৫৭ বলে করেন ৪৭ রান, যাতে ছিল ৮ বাউন্ডারির মার।
তাতে শান্তর সঙ্গে ভাঙে তামিমের ৭৯ রানের জুটি। সঙ্গীকে হারিয়ে টিকতে পারেননি শান্তও। তামিমকে ফেরানো মুল্ডারের বলেই আউট হয়েছেন তিনি। পরের ওভারেই প্রোটিয়া পেসার এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ফিরিয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটারকে। আউট হওয়ার আগে শান্ত ৭৪ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৩৩ রান।
জয় টিকলেন মাত্র ২ বল
আগের টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। আনন্দের ভেলায় ভাসতে থাকা মাহমুদুল হাসান জয় পরের টেস্টেই দেখলেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। রান পাহাড়ে চাপা পড়া বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেবেন কী, টিকলেন মাত্র ২ বল! রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন তরুণ ওপেনার।
ডারবানে চাপের মুখে দেখার মতো এক ইনিংস খেলেছিলেন জয়। অভিজ্ঞ ব্যাটাররা যেখানে মুখ থুবড়ে পড়েছিলেন, সেখানে চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে খেলেন ১৩৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে কিছুই করতে পারলেন না। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইনিংস শুরু করে মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ধরা পড়েন। ডুয়ান অলিভিয়েরের বাইরের বল অহেতুক খোঁচা দিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৫৩
লেজের ধাক্কায় রান পাহাড়ে চাপা পড়লো বাংলাদেশ। কেশব মহারাজের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর সাইমন হার্মার প্রতিরোধ গড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে। তাইজুল ইসলাম টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম ৫ উইকট পূরণ করে ১৫০ উইকেটের দেখা পেলেও নিশ্চিতভাবেই চাপে বাংলাদেশ। কারণ প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা অলআউট হওয়ার আগে করেছে ৪৫৩ রান।
টস জিতে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা প্রোটিয়ারা ব্যাট করেছে ১৩৬.২ ওভার। যেখানে সর্বোচ্চ রান এসেছে মহারাজের ব্যাট থেকে। আসল কাজ বোলিং হলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি দেখাচ্ছেন ব্যাট হাতে কম যান না। এই ডানহাতি ব্যাটার খেলেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রান। এর আগে ডিন এলগারের ৭০, তেম্বা বাভুমার ৬৭, কিগার পিটারসেনের ৬৪ রানে ভর করে বিশাল সংগ্রহ গড়েছে প্রোটিয়ারা।
সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টে ১৫০ উইকেট পূরণ করেছেন তাইজুল। হার্মারকে আউট করে মাইলফলকটি স্পর্শ করেন বাঁহাতি স্পিনার। ৩৬ টেস্টে তার উইকেট এখন ১৫০। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে সবচেয়ে সফল বোলারও তিনি। অসাধারণ পারফরম্যান্সে ৫০ ওভার বল করে ১৩৫ রান খরচায় নিয়েছেন ৬ উইকেট। খালেদ আহমেদ ২৯ ওভারে ১০০ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। আর মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার ১ উইকেট।









