পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে শিষ্যদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রাইম ব্যাংকের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ২৪ ঘণ্টা পেরুতে না পেরুতেই গুরু সালাউদ্দিনকে ‘জবাব’ দিয়ে দিলো শিষ্যরা। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে গুড়িয়ে দিয়েছে আশরাফুল-নাসির-মিঠুনদের নিয়ে গড়া প্রাইম ব্যাংক। পাশাপাশি ১৪২ রানের এই জয়ে রাউন্ড রবিন লিগে হারের বদলাও নেওয়া হলো।
সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংকের দেওয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আবাহনী শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে। স্পিনার রাকিবুল হাসানের ঘুর্ণিতে ১১ ওভারে ৩৪ রান তুলেই টপ অর্ডারের ৫ ব্যাটারকে হারায় আবাহনী। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে একা লড়াই করেছেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন।
চার-ছক্কায় দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন এই ডানহাতি। তার পরেও অপরপ্রান্ত নড়বড়ে হওয়ায় মনে হচ্ছিল আবাহনী একশ’ও বোধহয় করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত তার একার লড়াইয়ে শতরান পেরিয়েছে দলটি। তবে মোসাদ্দেক একা বেশিক্ষণ লড়াই করতে পারেননি। নাসিরের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৫৭ বলে ৭ চার ৩ ছক্কায় ৬৫ রানে সাজঘরে ফিরেছেন। টপ অর্ডার ব্যাটার জাকির আলী (০), নাজমুল হোসেন শান্ত (৪), ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (০) ও আফিফ হোসেনদের (৫) মতো লেট অর্ডারে হতাশ করেছেন সাইফ উদ্দিন (১১) ও শামীম পাটোয়ারিও (৪)।
লিটন অবশ্য শুরুটা ভালোই করছিলেন। তাইজুল বোলিংয়ে এসে থামিয়েছেন তাকে। জায়গা থেকে সরে স্টাম্পের ওপরের বল কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন ২৩ রান করা এই ব্যাটার। সবমিলিয়ে ৩২.৪ ওভারে ১৩১ রানে গুটিয়ে প্রাইম ব্যাংকের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে আবাহনী। এ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ছুঁয়ে ফেলেছে প্রাইম ব্যাংক। ১১ ম্যাচে দুই দলেরই জয় ৭টি করে।
প্রাইম ব্যাংকের চার স্পিনারেই মূলত খেই হারায় আবাহনী। শুরুর ২৪ ওভার করেছেন চার স্পিনার। রাকিবুল হাসান ও নাসির হোসেন ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন। মেহেদী হাসান ও তাইজুল নিয়েছেন বাকি ৪ উইকেট।
এর আগে প্রাইম ব্যাংক টস হেরে ব্যাট করেছে। ওপেনিং জুটিতে এনামুল হক বিজয় ও শাহাদাত হোসেন দিপু মিলে ৯৭ রানের জুটি গড়েছেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এনামুলের ব্যাটে আজও এসেছে ফিফটি ছাড়ানো ইনিংস। তিনি ৮৫ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন।
দিপু খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ব্যর্থ ছিলেন মুমিনুল (৮)। নাসির আউট হয়েছেন ৬ রান করে। পরে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন মিঠুন-ইয়াসির। মন্থর গতিতে ব্যাটিং করলেও গুরুত্বপূর্ণ ৫৯ রানের জুটি গড়েন তারা। মিঠুন ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ৪৪ রানে আউট হলে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ জুটি। সাইফ উদ্দিনের বলে ইয়াসির আউট হন ৪৩ রানে। শেষ দিকে মেহেদী হাসানের ২৭ বলে ৩৪ রানের ইনিংস প্রাইম ব্যাংকের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেছে আরও।
৩ উইকেট নিয়ে আবাহনীর সেরা বোলার ছিলেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। সাইফ উদ্দিন নিয়েছেন ২ উইকেট।









