প্রিমিয়ার লিগে রানের বন্যা বইয়ে রেকর্ড বুক ওলট-পালট করেছেন এনামুল হক বিজয়। দুই সেঞ্চুরি ও ৭ হাফসেঞ্চুরিতে ৮৭৮ রান নিয়ে লিগের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মাশরাফির দল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেই রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছেন বিজয়। যে কীর্তির পর তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে প্রশংসা করলেও বিজয়কে এখনই জাতীয় দলে নেওয়ার পক্ষে নন তিনি।
তিন ফরম্যাট মিলে ৫০টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে বিজয়ের। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তাকে নিয়ে আলোচনা চললেও মাশরাফি এক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতির পক্ষে। বিকেএসপিতে বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে রূপগঞ্জের অধিনায়ক বলেছেন, ‘প্রথমত আমি একটা কথা মনে করি যে, ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন কেউ ভালো খেলে, তখন তাকে একটা অবস্থানে দেওয়া উচিত। সরাসরি জাতীয় দল কেন? এখান থেকে তো এইচপি, এ- টিমে দেখতে হবে ওই লেভেলে গিয়ে কেমন করছে। তাই একটা জায়গা থেকে মনে করি, এটা যুক্তিসঙ্গত কথা যে এখান থেকে রাডারের নিচে আসা।’
২০১৮-১৯ মৌসুমে প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে সাইফ হাসান ১৬ ম্যাচে ৬২.৬১ গড়ে করেছিলেন ৮১৪ রান। লিগে গত চার মৌসুম ধরে কেউই সাইফের এই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। অবশেষে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এনামুলের ব্যাটে লেখা হলো নতুন রেকর্ড। লিগটা লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়লেন প্রাইম ব্যাংক ওপেনার বিজয়। সব মিলিয়ে তার রান এখন ৮৭৮। বিজয়ের গড় রান ৭৩.১৬ ও স্ট্রাইক রেট ৯৫.৫৩। বিজয়ের প্রশংসা করে মাশরাফি বলেছেন, ‘টার্নিং উইকেট, স্লো উইকেট; যে কোনও উইকেটে সে কিন্তু ডোমিনেট করে রান করেছে। যে কোনও পর্যায়ে এটি ব্যতিক্রমী ব্যাটিং। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট বিশেষ করে ডিপিএল কিন্তু অনেক উঁচুমানের। তাই মনে করি, এখানে বিজয় যেভাবে কর্তৃত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছে, একটা দলকে যেভাবে টেনে এনে ৮০০ প্লাস রান করেছে। নিশ্চিতভাবে তাকে এখনই জাতীয় দলের আশপাশে নিয়ে আসা উচিত এবং কাজ করা উচিত।’
জাতীয় দলে অভিষেকের পর এক সময় অটোমেটিক চয়েজ ছিলেন এনামুল। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সৌম্য সরকারের কাছে জাতীয় দলের জায়গা হারিয়েছিলেন। পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ার কারণে নয়, আচমকা ইনজুরিতে দেশে ফেরার বিমানে উঠতে হয়েছিল তাকে। এরপর বেশ কয়েকবার জাতীয় দলের দরজা খুললেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এনামুল সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০১৯ সালে। প্রিমিয়ার লিগে এমন পারফরম্যান্সের পর তাকে নিয়ে নতুন করে ভাবছেন নির্বাচকরা। মাশরাফি মনে করেন, ‘সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওর বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলেছে। সেঞ্চুরি আছে, ফিফটি আছে। ওকে এখন-ই পর্যবেক্ষণ করা উচিত। যদি কোনও বিষয় থাকে স্পষ্ট করা উচিত।’









