আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে জুনিয়র টাইগাররা। গ্রুপের অন্য ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দিয়ে নামিবিয়াও কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
দুই ম্যাচ করে খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। নামিবিয়ারও সংগ্রহ চার পয়েন্ট। গ্রুপ এ থেকে এই দুই দলই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও গ্রুপ রানার্স-আপের লড়াইয়ে।
এদিন আগে ব্যাটিং করে নাজমুল হােসান শান্তর অপরাজিত শতকে স্কটিশদের ২৫৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশের যুবারা। জবাবে স্কটল্যান্ড ৪৭.২ ওভারে ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ১১৪ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।
রবিবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৫৬ রান করে স্বাগতিকরা। তবে খেলার শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ যুবদল। দ্বিতীয় ওভারে এলবিডব্লু হয়ে ফিরে যান ওপেনার পিনাক ঘোষ।
এরপর জয়রাজ শেখ কিছুক্ষণ ব্যাট চালালে দলীয় ১৭ রানে তাকেও বিদায় করেন পিনাককে সাজঘরে ফেরানো মোহাম্মদ ঘাফ্ফার। তৃতীয় উইকেটে শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এই জুটিতে আসে ১০১ রান। দলীয় ১১৮ রানে সাইফ হাসানকে বোল্ড করেন মিশেল রাও। ততক্ষণে ৪৯ রানে ব্যাট করছিলেন সাইফ। দুর্ভাগ্যের বলি হয়েই ফিরতে হয়েছে তরুণ এই ওপেনারকে। ১০৮ বল খেলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলতে সাইফ বাউন্ডারি মেরেছেন দুটি!
এদিক ছোটদের ওয়ানডে ক্রিকেটে রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশে সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৫৪টি ম্যাচ খেলে শান্তর সংগ্রহ ১৭৪৭ রান। যা কিনা যুবদের ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে এই আসরে প্রথম সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন শান্ত। ১১৭ বলে ১০ চারে অপরাজিত ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ ক্রিকেটার। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০০ রানের যোগান দিয়ে ৫১ রান করে ফেরেন অধিনায়ক মিরাজ। শান্ত অপরাজিত থাকেন ১১৩ রানে। এরপর দ্রুত কিছু উইকেটের পতন হলে ৬ উইকেটে ২৫৬ রানে থামে বাংলাদেশ। মূলত শান্তর ব্যাটেই ২৫৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা। শেষ দিকে সাউদ সরকারের ৬ বলে ১৬ রান কিছুটা গতি দেয় স্কোর বোর্ডে।
স্কটল্যান্ডের পক্ষে ৪ উইকেট নেন মোহাম্মদ ঘাফ্ফার। এছাড়া রায়হান ব্রাউন ও হ্যারিস আসলাম প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
২৫৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ধীরস্থির শুরু করে স্কটিশ ব্যাটসম্যানরা। ১২.৪ ওভারে মাত্র ৪৮ রান সংগ্রহ করেন স্কটিশ দুই ওপেনার। স্কটিশ অধিনায়ক নেইল ফ্ল্যাককে তুলে নিয়ে বেক থ্রু এনে দেন বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এদিন বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহের চোখে পড়ায় রবিবারের ম্যাচে একাদশে রাখা হয়নি স্পিনার সঞ্জিত সাহাকে। তার জায়গায় খেলছেন আরিফুল ইসলাম জনি। জনি এবং সালেহ আহমেদ শাওন কেউই সঞ্জিতের অভাব বুঝতে দেননি। তাদের দুই জনের ঘূর্ণিতে স্কটিশ ব্যাটসম্যানরা চোখে সর্ষেফুল দেখেন। শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ড ৪৭.২ ওভারে ১৪২ রান সংগ্রহ করে।
স্কটল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আজম দার। তিনি একাই মূলত চেষ্টা করে যান স্কোরবোর্ডে রান বাড়াতে। তার খেলা ৮৯ বলের ইনিংসে নেই কোনও বাউন্ডারি। ৮৯ বল খেলে তিনি ৫০ রানে আউট হয়েছেন। অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নেইল ফ্ল্যাক ২৮, জ্যাক ওয়ার্লার ২৪ রান করেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৩টি উইকেট নিয়েছেন সালেহ আহমেদ শাওন। তিনি ১০ ওভারে ২৭ রান খরচায় নিয়েছেন এই তিনটি উইকেট। মোহাম্মদ সাউফউদ্দিনও তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া আরিফুল ইসলাম জনি নিয়েছেন দুটি উইকেট। অন্য উইকেটটি নিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
/আরআই/এমআর/








