লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ইতিহাস গড়েছেন এনামুল হক বিজয়। এক মৌসুমে করেছেন ১ হাজার ১৩৮ রান। অথচ রেকর্ড বইয়ে এই রান তো দূরে থাক; এক হাজার রানও নেই আর কারও। এমন কীর্তির পর এনামুলকে এখনই জাতীয় দলে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘আগের দিন বলেছি, আজকেও বলছি সে অসাধারণ ব্যাটিং করেছে, দাপট দেখিয়ে ব্যাটিং করেছে। বিজয়কে আমি মনে করি এখনই বিবেচনা করার সময়।’
স্বপ্নের এক মৌসুম কাটাচ্ছেন এনামুল হক বিজয়। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের এই ওপেনার ৩ সেঞ্চুরি ও ৯ হাফসেঞ্চুরিতে ১ হাজার ১৩৮ রান করেছেন। ৯৮.৬১ স্ট্রাইকরেটে যার গড় ৮১.২৮। এমন ফর্মে থাকা এনামুলকে নিয়ে মাশরাফি আরও বলেছেন, ‘একজন মানুষ যদি ১১শ রান করে সুযোগ না পায়, তাহলে তার আর প্রমাণ করার জায়গা থাকে না। তাই এই সুযোগটা পাওয়া উচিত।’
তবে তিন ফরম্যাট মিলে ৫০টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এনামুলকে নিয়ে গত ২১ এপ্রিল ভিন্ন মন্তব্য করেছিলেন মাশরাফি। কেন এমনটা বলেছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এদিন , ‘দেখেন একজন ৬০০-৭০০ রান করেছে, তার আশপাশে ৪০০-৫০০ রান করা লোকও আছে। আরেকজন এক হাজার রানের বেশি করেছে। এতো বড় ব্যবধানটার মূল্যায়ন করা উচিত। আগেরদিন যেটা বলতে চেয়েছি, এইচপি কিংবা এ দলে একটি প্রক্রিয়া রাখার বিষয়টা। লিটন-তামিমকে তো আপনি সরাতে পারবেন না। তারা রিসেন্টলি পারফর্ম করে এসেছে। তাই বিজয়কে যদি আনেনও, একাদশে সুযোগ দেওয়া কঠিন। টেস্টে জানি না কে ওপেন করবে, তবু বিজয় কিন্তু একশ’ করে আসছে। এখানে তামিম খেলবে। সবমিলিয়ে ওখানেও কঠিন। টি-টোয়েন্টির কথা আমি উল্লেখ করেছি কারণ, এই ফরম্যাটে এখনই বিজয়কে সেট করার সুযোগ আছে। এটা আমার মতামত। এমন না অন্যকেও মেনে নিতে হবে।’
বিজয়ের মতো ১ হাজার রান না করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে দারুণ ক্রিকেট খেলেছেন নুরুল হাসান সোহান। ৮ ম্যাচে ৯৬.৬০ গড়ে তার রান ৪৮৩। ১ সেঞ্চুরির পাশাপাশি আছে চার হাফসেঞ্চুরিও। এনামুলের মতো সোহানের ফর্মটাও কাজে লাগানো উচিত বলে মনে করেন মাশরাফি, ‘লিগে সোহান ও এনামুল দুজন আউটস্ট্যান্ডিং। সোহান হয়তো ১ হাজার রান করেনি। কিন্তু চাপের মধ্যে যে রান করেছে, ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেছে, সেগুলো বিবেচনা করা উচিত। আবারও বলবো বয়সের কথা। এখন ওদের পারফরম্যান্স করার বয়স। তাই এখানে শুধু অভিজ্ঞদের কথা চিন্তা না করে ওদের কিছু ম্যাচে সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ একটা বয়সের পর ওই স্পিরিট আর থাকবে না।’









