বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদ সেলামি নেওয়া মিস করেন রুমানা

রবিউল ইসলাম
০৩ মে ২০২২, ১৭:৫০আপডেট : ০৩ মে ২০২২, ১৯:৪০

ঈদ আনন্দ সবচেয়ে বেশি উপভোগ করে শিশু-কিশোররা। তাদের কাছে ঈদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো বড়দের কাছ থেকে সেলামি পাওয়া। সকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন পোশাক পরে সেমাই খেয়ে প্রস্তুত হয়ে যায় সবাই। এরপর গুরুজনদের সালাম করে সেলামি পেতে থাকে। ছোটবেলার সেই ঈদ সেলামি নেওয়ার দিনগুলো ভীষণ মিস করেন বাংলাদেশে নারী দলের অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ। ঈদ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।

রুমানা বলেন, ‘ছোটবেলায় শপিং করা নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত থাকতাম। ঈদের শপিং শেষ হতেই সব পোশাক লুকিয়ে রাখতাম। আগে কেউ দেখলে পুরনো হয়ে যাবে সেই ভেবে লুকাতাম। এখনও সেসব ভালো লাগা অনুভব করি। ঈদের দিন সকালে খুব তাড়াতাড়ি উঠে নতুন জামা-কাপড় পড়ে সেমাই খেয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের বাসায় গিয়ে ঈদ সেলামি নিতাম। এসব এখন খুব মিস করি। এগুলো নিয়ে ভাবলে ভালো লাগে, আগে কত সুন্দর ঈদ কাটাতাম।’

রুমানা আহমেদ

মামাদের কাছ থেকে জোর করে বাড়তি ঈদ সেলামিও আদায় করতেন রুমানা, ‘ঈদের একদিন পর নানি বাড়ি যেতাম। মামাদের কাছ থেকে ঈদ সেলামি নিতাম। সালাম করেই তাদের বলতাম, ঈদ সেলামি কোথায়? বেশি করে দাও। মনের মতো ঈদ সেলামি না পাওয়া পর্যন্ত সরতাম না। ঈদের তিন দিন পর্যন্ত আমি সেলামি সংগ্রহ করতাম।’

রুমানা আহমেদ

দিন পাল্টেছে। রুমানা এখন সেলামি দিয়েই বেশি আনন্দ পান, ‘এখন অবশ্য সেলামি দিলে ভালো লাগে। ঈদের সময় জাতীয় দলের ক্যাম্প কিংবা জাতীয় দলের খেলা থাকলেই আমার বেশি টাকা চলে যায়! জুনিয়র সব ক্রিকেটার সেলামির জন্য আমাকে ঘিরে ধরে। সালমা আপু, শামিমা আপুসহ দুই-একজন ছাড়া সবাই আমার জুনিয়র। ফলে তিন-চার জনকে বাদ দিয়ে সবাইকে সেলামি দিতে হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত না দেবো ওরা আমার রুম থেকে যায় না।’

রুমানা আহমেদ

রুমানা যোগ করলেন, ‘ঈদের চার দিন আগেই আমাকে খাদিজা তুল কোবরা মেসেজ দিয়ে বলেছে, আপু তুমি তো চলে যাচ্ছো, ঈদের সেলামি কিন্তু রেখে যাবা। না দিলে কিন্তু এবার খবর আছে! ও (কোবরা) মোস্ট জুনিয়র তো, ও প্রত্যেক সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছ থেকে সেলামি বাগিয়ে নেয়।’

রুমানা আহমেদ

আন্তর্জাতিক ব্যস্ত সূচির কারণে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উৎসব কাটানোর সুযোগ খুব একটা হয় না ক্রিকেটারদের। রুমানা যেমন ফেয়ারব্রেক টুর্নামেন্টে খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন গত ৩০ এপ্রিল। ফলে পরিবারের সঙ্গে আরেকটি ঈদ কাটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।

পরিবারের সঙ্গে রুমানা আহমেদ

ক্যারিয়ারে বহুবার পরিবার ছেড়ে ঈদ উদযাপন করলেও এবারের আফসোসটা যেন বেশি রুমানার, ‘এখন তো বেশিরভাগ ঈদেই বাড়িতে থাকা হয় না। করোনার কারণে গত দেড় বছর পরিবারের সঙ্গে দুই ঈদ উদযাপন করতে পেরেছি। কিন্তু শেষ পাঁচ-ছয় বছর তাদের কাছে খুব কমই থাকতে পেরেছি ঈদে। এবারও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারছি না। টি-টোয়েন্টি লিগ খেলতে দুবাই থাকতে হচ্ছে। পুরো একটা মাস পরিবারের সঙ্গে রোজা করলাম। অথচ ঈদ আনন্দ শুরুর মুহূর্তে আমাকে দেশের বাইরে যেতে হলো। আমার মায়ের খুব আশা ছিল, আমাদের সব ভাই-বোনদের নিয়ে ঈদ করার। কিন্তু হলো না। সবাইকে খুব মিস করছি।’

/জেএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সিরিজে সমতা অস্ট্রেলিয়ার
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান