লর্ডস টেস্টে নতুন মোড়। ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্টে বোলারদের দাপটের সঙ্গে ব্যাটিং-শৈলীর প্রদর্শনীও চলছে। যেখানে জো রুট দেখিয়ে চলেছেন ক্লাসিক ব্যাটিংয়ে যেকোনও কন্ডিশনে কিংবা পরিস্থিতিতে কাউন্টার দেওয়া সম্ভব বোলারদের। সে কারণেই দিক পাল্টে লর্ডস টেস্ট হেলে পড়েছে ইংলিশদের দিকে। নেতৃত্ব ছাড়ার পর প্রথম টেস্টেই এই ব্যাটার জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্বাগতিকদের।
রোমাঞ্চ ছড়ানো এই টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৭৭ রানের লক্ষ্যে ৬৫ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৬ রান করেছে ইংলিশরা। দুই দিন মিলিয়ে জিততে করতে হবে ৬১ রান। তবে কিউইদের জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। লর্ডস টেস্টে পেসাররা যেভাবে দাপট দেখিয়ে চলেছেন, তাতে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পক্ষে বাজি ধরাই যায়। তবে ক্রিজে রুট আছেন বলেই ইংলিশরা ভরসা পাচ্ছে। হাফসেঞ্চুরি করে এই ব্যাটার অপরাজিত ৭৭ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার। ৬৯ রান তুলতে হারায় ৪ উইকেট। সেখান থেকে প্রতিরোধ শুরু নতুন অধিনায়ক বেন স্টোকস ও রুটের। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তারা চাপ কাটিয়ে জয়ের ভিত তৈরি করেছেন। নেতৃ্ত্ব পাওয়ার পর প্রথম ইনিংসে সুবিধা করতে পারেনি স্টোকস। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও নড়বড়ে ছিলেন তিনি। তাছাড়া ভাগ্যও বলতে হবে তার। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে তো আউটই হয়ে গিয়েছিলেন! তবে ‘নো’ বলের সৌজন্যে পেয়ে যান ‘দ্বিতীয় জীবন’।
সেই সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। পরের দিকে আগ্রাসী ব্যাটিং করেছেন। কাইল জেমিসনের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ৫৪ রান। ১১০ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায়।
স্টোকস আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন রুট। এই ব্যাটার আছেন দারুণ এক মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায়। ক্রিকেট দুনিয়ার মাত্র ১৪তম ব্যাটার হিসেবে ১০ হাজার রানের দ্বারপ্রান্তে তিনি। আর ২৩ রান করলেই পূরণ করবেন এই মাইলফলক। ৭৭ রানে অপরাজিত থাকায় সেঞ্চুরি ও ১০ হাজার রান একই সঙ্গে পূরণ করবেন সাবেক অধিনায়ক। তার সঙ্গে চতুর্থ দিন শুরু করবেন ৯ রানে অপরাজিত থাকা বেন ফকস।
দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার জেমিসন। এই পেসার ৫৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। অন্য উইকেটটি ট্রেন্ট বোল্টের শিকার।
এর আগে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় ২৮৫ রানে। সেঞ্চুরি পেয়েছেন ড্যারিল মিচেল। ২০৩ বলে তিনি খেলেন ১০৮ রানের ইনিংস। তবে একটুর জন্য শতক পাননি টম ব্লান্ডেল। এই উইকেটকিপার ব্যাটার আউট হয়েছেন ৯৬ রানে। তাদের ব্যাটে বড় সংগ্রহের আভাস মিললেও শেষ দিকে স্টুয়ার্ট ব্রডের তোপে বেশিদূর যেতে পারেনি স্কোর। ৩৪ রান তুলতে শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে কিউইরা।
ইংল্যান্ডের দুই পেসার- ব্রড ও ম্যাথু পটস প্রত্যেকে নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। আর ২ উইকেট শিকার জেমস অ্যান্ডারসনের।









