লক্ষ্যটা ১২৫ রানের। টি-টোয়েন্টিতে কী এমন কঠিন কাজ! তাও আবার সেই অস্ট্রেলিয়ার সামনে, যারা আগের দিনই ১২৮ রান কোনও উইকেট না হারিয়ে টপকে গেছে। আজও (বুধবার) যেভাবে শুরু করেছিল, তাতে মনে হচ্ছিল আরেকটি লজ্জাজনক হার সঙ্গী হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার। কিন্তু ক্রিকেট তার রোমাঞ্চ নিয়ে হাজির হলো। দৃশ্যপট পাল্টে লঙ্কানরাই দেখতে থাকে জয়ের স্বপ্ন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের হাসি হেসেছে ওই অস্ট্রেলিয়াই।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সহজ ম্যাচটি কঠিন করে জিতেছে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। লঙ্কানরা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পর ম্যাথু ওয়েডের দৃঢ়তায় ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করা শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে করে ১২৪ রান। সেই লক্ষ্য ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩ বল আগে টপকে যায় অস্ট্রেলিয়া। তাতে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে সফরকারীরা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তারা এগিয়ে ২-০ ব্যবধানে।
১২৫ রানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। ২.৩ ওভারে তুলে ফেলে ৩৩ রান। তবে ১৩ বলে ২৪ রান করা অ্যারন ফিঞ্চ আউট হয়ে যাওয়ার পর ছন্দপতন। যদিও ওয়ান ডাউনে নামা মিচেল মার্শ শুরুটা করেছিলেন ভালো। তবে ৭ বলে ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। তার বিদায়ের পরই লাগে আসল ধাক্কা। একে একে ফিরে যান স্টিভেন স্মিথ (৪ বলে ৫), ডেভিড ওয়ার্নার (১৩ বলে ২৪) ও মার্কাস স্টোইনিস (৭ বলে ৯)।
৮০ রানে ৫ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে পথ দেখাতে থাকেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু এই ব্যাটারকে ১৯ বলে ১৯ রানে ফেরানোর পর হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেন। কারণ পরের বলেই আউট অ্যাশটন অ্যাগার!
সফরকারীরা ৯৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলায় জয়ের স্বপ্ন উঁকি দেয় শ্রীলঙ্কানদের মনে। কিন্তু তা হতে দেননি ওয়েড। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এই উইকেটকিপার ঠাণ্ডা মাথায় ২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে হার না মানা ২৬ রানে নিশ্চিত করেন দলের জয়। তাকে সঙ্গ দেন ২০ বলে অপরাজিত ৯ রান করা ঝাই রিচার্ডসন।
লঙ্কানদের সবচেয়ে সফল বোলার হাসারাঙ্গা। এই স্পিনার ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। আর একটি করে উইকেট শিকার দুষ্মন্থ চামিরা ও নুয়ান তুশারার।
আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতা শ্রীলঙ্কার। টপ অর্ডার আরেকবার হতাশ করেছে। দুই ওপেনার পাথুম নিসানকা (৩) ও দানুশকা গুনাথিলাকা (৪) কিছুই করতে পারেননি। ৭ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর অবশ্য লঙ্কানরা ঘুরে দাঁড়ায় চারিথ আসালঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ঠিক টি-টোয়েন্টিসুলভ রান আসেনি।
এরপরও তাদের জুটিতেই লড়াই করার মতো স্কোর পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। দলীয় সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন আসালঙ্কা। ৩৩ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ২ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়। অন্যদিকে কুশল ৩৬ বলে ২ বাউন্ডারি ও এক ছক্কা করেন ৩৬ রান। তাদের পর অবদান রাখেন দাসুন শানাকা (১৭ বলে ১৪), ভানুকা রাজাপাকশে (১১ বলে ১৩) ও ভানিন্দু রাজারাঙ্গা (৮ বলে ১২)।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল বোলার কেন রিচার্ডসন। এই পেসার ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ঝাই রিচার্ডসন ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় পান ৩ উইকেট। এছাড়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩ ওভারে ১৮ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট।








