শুক্রবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা না ভোগালেও নকআউট পর্বে এমনটা চলতে থাকলে ভুগতে হতে পারে বাংলাদেশকে।
গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচের একটিতেও বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি প্রতিপক্ষ বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বিশেষ করে যাকে নিয়ে প্রত্যাশার মাত্রা বেশি ছিলো, সেই সাইফ হাসান এক কথায় ছিলেন ব্যর্থ! তার সঙ্গে নামা পিনাক ঘোষও নিজের কারিশমা দেখাতে পারেননি।
গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচের মধ্যে ওপেনিং জুটিতে সর্বোচ্চ রান এসেছে ৩০। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে সাইফ-পিনাক মিলে ৫৭ বলে করেন ৩০ রান। পরের দুই ম্যাচেতো আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ,পিনাক রানের খাতা না খুলেই আউট হয়েছেন। অন্যদিকে নামিবিয়ারে বিপক্ষে স্কোরবোর্ডে এক রান তুলেই জুটি ভাঙে জুনিয়র টাইগারদের।
৩ ম্যাচে সাইফ হাসানের সর্বোচ্চ রান স্কটিশদের বিপক্ষে করা ৪৯। অন্যদিকে পিনাক ঘোষের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা ৪৩ রান। ওই ম্যাচগুলোতে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব না নিলে হয়তো চরম মূল্য দিতে হতো মিজানুর রহমান বাবুলের শিষ্যদের।
অবশ্য দলের প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ শুরু থেকেই বলে আসছিলেন এই দলটি কারও ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। কেউ ব্যর্থ হলে কেউ না কেউ ঠিকই দাঁড়িয়ে যাবে!
গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে অবশ্য তেমনটাই দেখা গেছে। সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে চড়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে আরও বেশকিছু ছোট ছোট জুটি হয়েছে স্বাগতিকদের।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে বাংলাদেশকে এখন লড়তে হবে শিরোপার জন্য। শুক্রবার কাপ পর্বের খেলায় প্রত্যেকটি ম্যাচই নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। হারলেই বিদায় নিতে হবে শিরোপার রেস থেকে। তাইতো বাংলাদেশের জন্য ওপেনিং জুটিটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অবশ্য ওপেনিং জুটিতে দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুলের বক্তব্যে হতাশার কোনও চিত্র ফুটে না উঠলেও বিষটি নিয়ে তারা যে কাজ করছে সেটা স্পষ্টই বোঝা গেলো। বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে এই দুই ব্যাটসম্যানের উপর বাড়তি নজর ছিলো স্টুয়ার্ট ল ও মিজানুর রহমান বাবুলের।
এ প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, ‘ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আমরা কিছুটা চিন্তিত। তবে হতাশ নই। বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি। আশা করে ওরা সামনের ম্যাচগুলোতে এটা কাটিয়ে উঠবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস নেপালের বিপক্ষেই ওরা পুরনো ছন্দে ফিরে আসবে।’
৩ টি ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংসে খুব স্লো ব্যাটিং করেছে স্বাগতিক দলের দুই ওপেনার। অধিনায়ক মিরাজের মতে এটা পরিস্থিতির কারণে করা হয়েছে। সেভাবেই ওদের পরিকল্পনা বেঁধে দেওয়া ছিলো।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজারের উইকেট মন্থর দেখে দলের পরিকল্পনা ছিল ওপেনারদের ধীর-স্থির ভাবে খেলার। উইকেট যেন না যায়, সাইফ-পিনাক ওভাবেই খেলেছে। মিরপুরের উইকেটটি ভিন্ন হতে পারে। এখানে আমরা অভ্যস্ত। উইকেট ভালো থাকলে শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানরা হয়তো শট খেলবে। রান তোলার চেষ্টা করবে। আসলে ড্রেসিংরুম থেকে যেভাবে পরিকল্পনা দেওয়া হবে সেভাবেই আমাদের খেলতে হবে।'
নিজের ইনিংস বড় করতে না পেরে কিছুটা হতাশ সাইফ-পিনাক। বৃহস্পতিবার মিরপুরের একাডেমিতে কঠোর অনুশীলনে দেখা গেল তাদের।
যুব দলের পরামর্শক স্টুয়ার্ট ল ও প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল তাদের দুইজনকে নিয়ে আলাদা করে কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে সাইফ হাসান বলেন, ‘উইকেট গিয়ে মনঃসংযোগে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক পরিশ্রম করছি। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। এমনকি স্টুয়ার্টও আমাকে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেভাবেই আসলে কাজ করছি। সামনের ম্যাচে এখান থেকে বের হয়ে আসতে চাই।’
এদিকে প্রায় একই কথা বললেন পিনাক ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আসলে প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করে রান আউট হতে হয়েছে। এরপর খেই হারিয়ে ফেলি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়ার আগেই আউট হয়ে গেলাম। এগুলো নিয়ে আসলে নেতিবাচক চিন্তা করছি না। পরিশ্রম করছি। দেখা যাক কি হয়। কোচরা সবাই আমাকে সাহায্য করছেন এই ব্যাপারে।’
/এমআর/








