ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হিসেবে সবার ওপরে আছে মাশরাফি বিন মুর্তজার নাম। তার নেতৃত্বে ৮৮ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৫০টি। জয়ের শতকরা হার তাতে ৫৮.১৩ ভাগ। অন্যদিকে ২৩ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তামিমের জয় ১৪টি। শতকরা হিসেবে যা মাশরাফির চেয়েও বেশি। ৬০.৮৬ শতাংশ জয় নিয়ে মাশরাফিকেও ছাড়িয়ে গেছেন তামিম। অথচ এমন অবস্থানে থেকেও নিজেকে নিয়ে উচ্চ ধারণা পোষণ করছেন না। বরং জানালেন এখনো শিখছেন। পাশাপাশি ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত হওয়ার দিনে জানিয়েছেন, নিজেকে যোগ্য মনে না করলে স্বেচ্ছায় নেতৃত্বও ছেড়ে দেবেন তিনি।
বুধবার অধিনায়ক হিসেবে টানা ৬টি সিরিজ জিতেছেন তামিম। সবমিলিয়ে তার অধীনে শেষ ৭ ওয়ানডে সিরিজের ৬টাই জিতেছে লাল-সবুজ দল। মাশরাফির পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তামিমের ক্ষুরধার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ দলের এগিয়ে চলা। তারপরও অধিনায়ক তামিম জানালেন, ‘আমি বলবো (অধিনায়ক হিসেবে) এখনও শিখছি। অনেক কিছু শিখছি। আমি অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী, না হলে তো এই কাজে থাকতাম না।’
এ সময় নিজেকে যোগ্য মনে না হলে স্বেচ্ছায় নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণাও দেন তিনি, ‘আমি সবসময় একটা কথা বলি, যখন মনে হবে আমি যোগ্য ব্যক্তি নই কিংবা সৎভাবে কাজটা করতে পারছি না, তখন আমি হাত তুলে আমার জায়গা ছেড়ে দেবো। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ সব ভালো। পরবর্তীতে দেখা যাক কী হয়।’
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ে ক্রিকেটারদের বাধভাঙা উৎসবে মাততে দেখা গেছে। সিরিজ জয়ের উদযাপন নিয়ে তামিমের প্রতিক্রিয়া, ‘আপনি যার সঙ্গেই জেতেন না কেন- ইংল্যান্ড বলেন, নিউজিল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে বলেন, হয়তো বা র্যাঙ্কিয়ে ওপর-নিচে থাকে। আমাদের কিন্তু অনেক কষ্ট করা লাগে। যে সেঞ্চুরি করে বা যে পাঁচ উইকেট পায় তারও কষ্ট করা লাগে। আমার কাছে মনে হয়, প্রত্যেকটা জয়ই আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
দেশসেরা ওপেনার মনে করেন সব দলের বিপক্ষে জয়ের উদযাপন একই হওয়া উচিত, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ জিতলে আমাদের যেভাবে উদযাপন করা উচিত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বা অন্য কোনও টিমের সঙ্গে জিতলেও একইভাবে উদযাপন করা উচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটাই এমন যে আপনাকে জয় কেউ উপহার দিবে না। জয়ের জন্য যুদ্ধ করতে হবে।’









